১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮২
অধ্যায়- ৬ : মসজিদের বিবরণ
মসজিদ আল্লাহর ঘর :
وَاَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلّٰهِ ۚ فَلَا تَدْعُوْا مَعَ اللهِ اَحَدًا
নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহর (উদ্দেশ্যে নির্মিত)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে আহবান করো না। (সূরা জিন- ১৮)
প্রথম মসজিদ হলো কা‘বাঘর :
اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِيْ بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَّهُدًى لِّلْعَالَمِيْنَ
নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শকস্বরূপ। (সূরা আলে ইমরান- ৯৬)
হিজরতের পর প্রথম মসজিদ হলো কুবা :
لَا تَقُمْ فِيْهِ اَبَدًاؕ لَمَسْجِدٌ اُسِّسَ عَلَى التَّقْوٰى مِنْ اَوَّلِ يَوْمٍ اَحَقُّ اَنْ تَقُوْمَ فِيْهِ
তুমি কখনো (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) সেখানে দাঁড়াবে না। তোমার তো দাঁড়ানো উচিত সেখানে (ঐ মসজিদে) যা প্রথম দিন থেকেই তাক্বওয়ার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সূরা তাওবা- ১০৮)
কা‘বাঘর ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করেছেন :
اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ ‐ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ‐ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ ‐ تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ ‐ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ
তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক (কা‘বা ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি কি (সে সময়) তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখী পাঠিয়েছিলেন। এ পাখীগুলো এ সুসজ্জিত বাহিনীর উপর পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে জন্তু-জানোয়ারের চর্বিত ঘাস-পাতার মতো করে দিয়েছিলেন। (সূরা ফীল)
মসজিদ ইবাদাতের স্থান :
فِيْ بُيُوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ يُسَبِّحُ لَهٗ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ
(এসব ব্যক্তিদেরকে পাওয়া যাবে) সেসব ঘরসমূহে, যার মধ্যে আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর যাতে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। (সূরা নূর- ৩৬)
মসজিদে ই‘তিকাফের বিধান :
وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَاَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِى الْمَسَاجِدِ
আর তোমরা মসজিদে ই‘তিকাফ করা অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলন করো না। (সূরা বাক্বারা- ১৮৭)
মসজিদে যাওয়ার সময় উত্তম পোশাক পরিধান করার নির্দেশ :
يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
হে আদম সন্তান! তোমরা প্রতিটি ইবাদাতের সময়ই নিজেদের জন্য সৌন্দর্যমন্ডিত পোশাক গ্রহণ করো। (সূরা আ‘রাফ- ৩১)
মুশরিকদের জন্য মসজিদে প্রবেশের অধিকার নেই :
مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِيْنَ اَنْ يَّعْمُرُوْا مَسَاجِدَ اللهِ شَاهِدِيْنَ عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِؕ اُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْۚ وَفِى النَّارِ هُمْ خَالِدُوْنَ
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরীকে স্বীকার করে নিয়েছে, তারপরও তারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে- এমনটা হতে পারে না। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং তারা অগ্নিতেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। (সূরা তাওবা- ১৭)
ব্যাখ্যা : এক আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য যেসব মসজিদ তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর মুতাওয়াল্লী, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও সেবক কখনো এমন ধরনের লোক হতে পারে না, যারা আল্লাহর গুণাবলি, অধিকার ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে অন্যদেরকে শরীক করে।
মসজিদের মুতাওয়াল্লি হওয়ার যোগ্যতা :
اِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَاَقَامَ الصَّلَاةَ وَاَتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ اِلَّا اللهَؕ فَعَسٰۤى اُولٰٓئِكَ اَنْ يَّكُوْنُوْا مِنَ الْمُهْتَدِيْنَ
তারাই তো আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনয়ন করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা তাওবা- ১৮)
মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়া মহাপাপ :
وَصَدٌّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ وَكُفْرٌ ۢبِهٖ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاِخْرَاجُ اَهْلِهٖ مِنْهُ اَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ
আল্লাহর পথে বাধা দেয়া, তার সাথে কুফরী করা, মসজিদে হারামে প্রবেশে বাধা দেয়া এবং এর অধিবাসীদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহর কাছে আরো বড় গোনাহ। (সূরা বাক্বারা- ২১৭)
মসজিদের ক্ষতি সাধন করা বড় ধরনের অন্যায় :
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ وَسَعٰى فِيْ خَرَابِهَاؕ اُولٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَآئِفِيْنَؕ لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْيٌ وَّلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে নিষেধ করে এবং তা ধ্বংস করতে প্রয়াস চালায়? অথচ ভয়ে ভীত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করাটাই সঙ্গত ছিল না, দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। (সূরা বাক্বারা- ১১৪)
মসজিদ পবিত্র রাখার নির্দেশ :
وَعَهِدْنَاۤ اِلٰۤى اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمَاعِيْلَ اَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ
আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলের নিকট এ অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী, রুকূকারী এবং সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো। (সূরা বাক্বারা- ১২৫)
وَاِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ اَنْ لَّا تُشْرِكْ بِيْ شَيْئًا وَّطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِيْنَ وَالْقَآئِمِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ
স্মরণ করো, যখন আমি ইবরাহীমের জন্য সে গৃহের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, আমার সাথে কোন শরীক স্থির করবে না এবং আমার গৃহকে তাদের জন্য পবিত্র রাখবে, যারা তাওয়াফ করে, সালাতে দন্ডায়মান হয়, রুকূ করে ও সিজদা করে। (সূরা হজ্জ- ২৬)
প্রত্যেক ধর্মেরই উপাসনালয় রয়েছে :
وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَّبِيَعٌ وَّصَلَوَاتٌ وَّمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيْهَا اسْمُ اللهِ كَثِيْرًاؕ وَلَيَنْصُرَنَّ اللهُ مَنْ يَّنْصُرُهٗؕ اِنَّ اللهَ لَقَوِيٌّ عَزِيْزٌ
আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিস্টানদের উপাসনালয়, গির্জা, ইয়াহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ- যাতে আল্লাহর নাম অধিক হারে স্মরণ করা হয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাকেই সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও পরাক্রমশালী। (সূরা হজ্জ- ৪০)
ব্যাখ্যা : صَوْمَعَةٌ (সাওমা‘আতুন) এমন স্থানকে বলে যেখানে খ্রিস্টান রাহেব, যোগী ও সন্ন্যাসীরা অবস্থান করে।
بِيْعَةٌ (বী‘আতুন) হলো খ্রিস্টানদের ইবাদাতগৃহ।
صَلَوَاتٌ (সালাওয়াতুন) হচ্ছে ইয়াহুদিদের উপাসনালয়সমূহ।
مَسَاجِدٌ (মাসাজিদ) বলা হয় মুসলিমদের ইবাদাতগৃহসমূহকে।
وَاَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلّٰهِ ۚ فَلَا تَدْعُوْا مَعَ اللهِ اَحَدًا
নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহর (উদ্দেশ্যে নির্মিত)। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে আহবান করো না। (সূরা জিন- ১৮)
প্রথম মসজিদ হলো কা‘বাঘর :
اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِيْ بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَّهُدًى لِّلْعَالَمِيْنَ
নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শকস্বরূপ। (সূরা আলে ইমরান- ৯৬)
হিজরতের পর প্রথম মসজিদ হলো কুবা :
لَا تَقُمْ فِيْهِ اَبَدًاؕ لَمَسْجِدٌ اُسِّسَ عَلَى التَّقْوٰى مِنْ اَوَّلِ يَوْمٍ اَحَقُّ اَنْ تَقُوْمَ فِيْهِ
তুমি কখনো (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) সেখানে দাঁড়াবে না। তোমার তো দাঁড়ানো উচিত সেখানে (ঐ মসজিদে) যা প্রথম দিন থেকেই তাক্বওয়ার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (সূরা তাওবা- ১০৮)
কা‘বাঘর ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করেছেন :
اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ ‐ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ‐ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ ‐ تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ ‐ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ
তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক (কা‘বা ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি কি (সে সময়) তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখী পাঠিয়েছিলেন। এ পাখীগুলো এ সুসজ্জিত বাহিনীর উপর পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে জন্তু-জানোয়ারের চর্বিত ঘাস-পাতার মতো করে দিয়েছিলেন। (সূরা ফীল)
মসজিদ ইবাদাতের স্থান :
فِيْ بُيُوْتٍ اَذِنَ اللهُ اَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ يُسَبِّحُ لَهٗ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ
(এসব ব্যক্তিদেরকে পাওয়া যাবে) সেসব ঘরসমূহে, যার মধ্যে আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর যাতে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। (সূরা নূর- ৩৬)
মসজিদে ই‘তিকাফের বিধান :
وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَاَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِى الْمَسَاجِدِ
আর তোমরা মসজিদে ই‘তিকাফ করা অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলন করো না। (সূরা বাক্বারা- ১৮৭)
মসজিদে যাওয়ার সময় উত্তম পোশাক পরিধান করার নির্দেশ :
يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ
হে আদম সন্তান! তোমরা প্রতিটি ইবাদাতের সময়ই নিজেদের জন্য সৌন্দর্যমন্ডিত পোশাক গ্রহণ করো। (সূরা আ‘রাফ- ৩১)
মুশরিকদের জন্য মসজিদে প্রবেশের অধিকার নেই :
مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِيْنَ اَنْ يَّعْمُرُوْا مَسَاجِدَ اللهِ شَاهِدِيْنَ عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِؕ اُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْۚ وَفِى النَّارِ هُمْ خَالِدُوْنَ
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরীকে স্বীকার করে নিয়েছে, তারপরও তারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে- এমনটা হতে পারে না। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং তারা অগ্নিতেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। (সূরা তাওবা- ১৭)
ব্যাখ্যা : এক আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য যেসব মসজিদ তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর মুতাওয়াল্লী, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও সেবক কখনো এমন ধরনের লোক হতে পারে না, যারা আল্লাহর গুণাবলি, অধিকার ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে অন্যদেরকে শরীক করে।
মসজিদের মুতাওয়াল্লি হওয়ার যোগ্যতা :
اِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَاَقَامَ الصَّلَاةَ وَاَتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ اِلَّا اللهَؕ فَعَسٰۤى اُولٰٓئِكَ اَنْ يَّكُوْنُوْا مِنَ الْمُهْتَدِيْنَ
তারাই তো আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনয়ন করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা তাওবা- ১৮)
মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়া মহাপাপ :
وَصَدٌّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ وَكُفْرٌ ۢبِهٖ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاِخْرَاجُ اَهْلِهٖ مِنْهُ اَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ
আল্লাহর পথে বাধা দেয়া, তার সাথে কুফরী করা, মসজিদে হারামে প্রবেশে বাধা দেয়া এবং এর অধিবাসীদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহর কাছে আরো বড় গোনাহ। (সূরা বাক্বারা- ২১৭)
মসজিদের ক্ষতি সাধন করা বড় ধরনের অন্যায় :
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ وَسَعٰى فِيْ خَرَابِهَاؕ اُولٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَآئِفِيْنَؕ لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْيٌ وَّلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে নিষেধ করে এবং তা ধ্বংস করতে প্রয়াস চালায়? অথচ ভয়ে ভীত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য মসজিদে প্রবেশ করাটাই সঙ্গত ছিল না, দুনিয়ায় তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। (সূরা বাক্বারা- ১১৪)
মসজিদ পবিত্র রাখার নির্দেশ :
وَعَهِدْنَاۤ اِلٰۤى اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمَاعِيْلَ اَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ
আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলের নিকট এ অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী, রুকূকারী এবং সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো। (সূরা বাক্বারা- ১২৫)
وَاِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ اَنْ لَّا تُشْرِكْ بِيْ شَيْئًا وَّطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِيْنَ وَالْقَآئِمِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ
স্মরণ করো, যখন আমি ইবরাহীমের জন্য সে গৃহের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, আমার সাথে কোন শরীক স্থির করবে না এবং আমার গৃহকে তাদের জন্য পবিত্র রাখবে, যারা তাওয়াফ করে, সালাতে দন্ডায়মান হয়, রুকূ করে ও সিজদা করে। (সূরা হজ্জ- ২৬)
প্রত্যেক ধর্মেরই উপাসনালয় রয়েছে :
وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَّبِيَعٌ وَّصَلَوَاتٌ وَّمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيْهَا اسْمُ اللهِ كَثِيْرًاؕ وَلَيَنْصُرَنَّ اللهُ مَنْ يَّنْصُرُهٗؕ اِنَّ اللهَ لَقَوِيٌّ عَزِيْزٌ
আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিস্টানদের উপাসনালয়, গির্জা, ইয়াহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ- যাতে আল্লাহর নাম অধিক হারে স্মরণ করা হয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাকেই সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও পরাক্রমশালী। (সূরা হজ্জ- ৪০)
ব্যাখ্যা : صَوْمَعَةٌ (সাওমা‘আতুন) এমন স্থানকে বলে যেখানে খ্রিস্টান রাহেব, যোগী ও সন্ন্যাসীরা অবস্থান করে।
بِيْعَةٌ (বী‘আতুন) হলো খ্রিস্টানদের ইবাদাতগৃহ।
صَلَوَاتٌ (সালাওয়াতুন) হচ্ছে ইয়াহুদিদের উপাসনালয়সমূহ।
مَسَاجِدٌ (মাসাজিদ) বলা হয় মুসলিমদের ইবাদাতগৃহসমূহকে।