১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭২
অধ্যায়- ৪ : মুনাফিকদের পরিণাম
মুনাফিকদের অন্তরে মোহর পড়ে যায় :
اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ طَبَعَ اللهُ عَلٰى قُلُوْبِهِمْ وَاتَّبَعُوْاۤ اَهْوَآءَهُمْ
এরা ঐসব লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন; ফলে তারা নাফসের গোলামী করে চলেছে। (সূরা মুহাম্মাদ- ১৬)
তাদের দান-সাদাকা কবুল হয় না :
قُلْ اَنْفِقُوْا طَوْعًا اَوْ كَرْهًا لَّنْ يُّتَقَبَّلَ مِنْكُمْ ؕ اِنَّكُمْ كُنْتُمْ قَوْمًا فَاسِقِيْنَ
বলো, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে, তোমাদের নিকট হতে তা কিছুতেই গৃহীত হবে না; (কেননা) নিশ্চয় তোমরা ফাসিক সম্প্রদায়। (সূরা তাওবা- ৫৩)
তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ পড়বে :
وَعَدَ اللهُ الْمُنَافِقِيْنَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ هِيَ حَسْبُهُمْۚ وَلَعَنَهُمُ اللهُ ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيْمٌ
আল্লাহ মুনাফিক নর-নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের অগ্নির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর এটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে লানত করেছেন; আর তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। (সূরা তাওবা- ৬৮)
আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবেন :
فَاحْذَرْهُمْؕ قَاتَلَهُمُ اللهُ اَنّٰى يُؤْفَكُوْنَ
তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে? (সূরা মুনাফিকূন- ৪)
তাদের জন্য রয়েছে আযাবের সুসংবাদ :
بَشِّرِ الْمُنَافِقِيْنَ بِاَنَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি। (সূরা নিসা- ১৩৮)
তাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে :
اُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِۚ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ
এরাই হচ্ছে সেসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের কর্মফল বিনষ্ট হয়ে গেছে। আর এরাই হচ্ছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা তাওবা- ৬৯)
মুনাফিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে :
وَيَقُوْلُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَهٰۤؤُلَآءِ الَّذِيْنَ اَقْسَمُوْا بِاللهِ جَهْدَ اَيْمَانِهِمْ اِنَّهُمْ لَمَعَكُمْؕ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَاَصْبَحُوْا خَاسِرِيْنَ
মুমিনগণ বলবে, এরাই কি তারা যারা আল্লাহর নামে দৃঢ়ভাবে শপথ করেছিল যে, তারা তোমাদের সঙ্গেই আছে? (আজ) তাদের আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে; ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (সূরা মায়েদা- ৫৩)
তাদের মিথ্যা শপথ পরকালে কোন কাজে লাগবে না :
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللهُ جَمِيْعًا فَيَحْلِفُوْنَ لَهٗ كَمَا يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ عَلٰى شَيْءٍؕ اَ لَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُوْنَ
সেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরায় জীবিত করে উঠাবেন। তখন তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেভাবে তোমাদের সামনে শপথ করে থাকে। আর তারা এরূপ ধারণা করবে যে, এতে তাদের কোন কাজ হবে। সাবধান, নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী (সম্প্রদায়)। (সূরা মুজাদালা- ১৮)
কিয়ামতের দিন মুনাফিকরা ঈমানদারদের কাছে নূর চাইবে :
يَوْمَ يَقُوْلُ الْمُنَافِقُوْنَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوا انْظُرُوْنَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُّوْرِكُمْ
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী মুমিনদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের নূর হতে কিছু গ্রহণ করতে পারি। (সূরা হাদীদ- ১৩)
মুমিনরা বলবে, পেছনে নূরের সন্ধান করো :
قِيْلَ ارْجِعُوْا وَرَآءَكُمْ فَالْتَمِسُوْا نُوْرًا
বলা হবে, তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। (সূরা হাদীদ- ১৩)
পরে তাদের মধ্যে প্রাচীর তৈরি করে দেয়া হবে :
فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُوْرٍ لَّهٗ بَابٌؕ بَاطِنُهٗ فِيْهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهٗ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ
অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝিতে একটি প্রাচীর স্থাপিত হবে, সেখানে একটি দরজা থাকবে, যার অভ্যন্তরে রয়েছে রহমত এবং বহির্ভাগে রয়েছে আযাব। (সূরা হাদীদ- ১৩)
আবার তারা মুমিনদেরকে ডাকবে :
يُنَادُوْنَهُمْ اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ
তারা মুমিনদেরকে ডেকে (জিজ্ঞেস করবে), আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? (সূরা হাদীদ- ১৪)
মুমিনরা তাদের ত্রুটিসমূহ তুলে ধরবে :
قَالُوْا بَلٰى وَلٰكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ اَنْفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْاَمَانِيُّ حَتّٰى جَآءَ اَمْرُ اللهِ وَغَرَّكُمْ بِاللهِ الْغَرُوْرُ
তারা বলবে, হ্যাঁ (তোমরা আমাদের সাথেই ছিলে)! কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ; তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে এবং সন্দেহ পোষণ করেছিলে। আর (মিথ্যা) আশা-আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছে। অবশেষে আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু) এসে গেছে; (অপরদিকে) মহাপ্রতারক (শয়তানও) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল। (সূরা হাদীদ- ১৪)
মুনাফিকদের বাঁচার কোন উপায় থাকবে না :
فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنْكُمْ فِدْيَةٌ وَّلَا مِنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاؕ مَأْوَاكُمُ النَّارُؕ هِيَ مَوْلَاكُمْؕ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ
আজ তোমাদের নিকট হতে কোন মুক্তিপণ নেয়া হবে না এবং কাফিরদের নিকট হতেও না। জাহান্নামই তোমাদের আবাসস্থল, এটাই তোমাদের চিরসঙ্গী; আর এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
(সূরা হাদীদ- ১৫)
তারা কাফিরদের সঙ্গে জাহান্নামে থাকবে :
اِنَّ اللهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِيْنَ وَالْكَافِرِيْنَ فِيْ جَهَنَّمَ جَمِيْعًا
নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক এবং কাফির সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (সূরা নিসা- ১৪০)
তারা দুনিয়াতেই শাস্তি ভোগ করবে :
وَلَا تُعْجِبْكَ اَمْوَالُهُمْ وَاَوْلَادُهُمْؕ اِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ اَنْ يُّعَذِّبَهُمْ بِهَا فِى الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ اَنْفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُوْنَ
তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিমুগ্ধ না করে দেয়; আল্লাহ তো এর দ্বারাই তাদেরকে পার্থিব জীবনে (এক ধরনের) শাস্তিতে রেখে দিতে চান। ফলে তারা কাফির থাকাবস্থায় তাদের আত্মা দেহ-ত্যাগ করবে। (সূরা তাওবা- ৮৫)
পরকালেও তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :
اَعَدَّ اللهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيْدًاؕ اِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। নিশ্চয় তারা যা করত তা কতই না মন্দ।
(সূরা মুজাদালা- ১৫)
তাদের আযাব বড়ই অপমানজনক :
اِتَّخَذُوْاۤ اَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
তারা তাদের শপথকে ঢালস্বরূপ করে রেখেছে, এভাবে তারা (লোকদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে। তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (সূরা মুজাদালা- ১৬)
তাদের ধনসম্পদ কোন কাজে আসবে না :
لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًاؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ النَّارِؕ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আল্লাহর শাস্তির মুকাবিলায় তাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। (সূরা মুজাদালা- ১৭)
তারা জাহান্নামের নিম্নস্তরে থাকবে :
اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ
নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিম্নস্তরে অবস্থান করবে। (সূরা নিসা– ১৪৫)
اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ طَبَعَ اللهُ عَلٰى قُلُوْبِهِمْ وَاتَّبَعُوْاۤ اَهْوَآءَهُمْ
এরা ঐসব লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন; ফলে তারা নাফসের গোলামী করে চলেছে। (সূরা মুহাম্মাদ- ১৬)
তাদের দান-সাদাকা কবুল হয় না :
قُلْ اَنْفِقُوْا طَوْعًا اَوْ كَرْهًا لَّنْ يُّتَقَبَّلَ مِنْكُمْ ؕ اِنَّكُمْ كُنْتُمْ قَوْمًا فَاسِقِيْنَ
বলো, তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে, তোমাদের নিকট হতে তা কিছুতেই গৃহীত হবে না; (কেননা) নিশ্চয় তোমরা ফাসিক সম্প্রদায়। (সূরা তাওবা- ৫৩)
তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ পড়বে :
وَعَدَ اللهُ الْمُنَافِقِيْنَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ هِيَ حَسْبُهُمْۚ وَلَعَنَهُمُ اللهُ ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيْمٌ
আল্লাহ মুনাফিক নর-নারী ও কাফিরদেরকে জাহান্নামের অগ্নির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর এটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে লানত করেছেন; আর তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি। (সূরা তাওবা- ৬৮)
আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করবেন :
فَاحْذَرْهُمْؕ قَاتَلَهُمُ اللهُ اَنّٰى يُؤْفَكُوْنَ
তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে? (সূরা মুনাফিকূন- ৪)
তাদের জন্য রয়েছে আযাবের সুসংবাদ :
بَشِّرِ الْمُنَافِقِيْنَ بِاَنَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাস্তি। (সূরা নিসা- ১৩৮)
তাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে :
اُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِۚ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ
এরাই হচ্ছে সেসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের কর্মফল বিনষ্ট হয়ে গেছে। আর এরাই হচ্ছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা তাওবা- ৬৯)
মুনাফিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে :
وَيَقُوْلُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَهٰۤؤُلَآءِ الَّذِيْنَ اَقْسَمُوْا بِاللهِ جَهْدَ اَيْمَانِهِمْ اِنَّهُمْ لَمَعَكُمْؕ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَاَصْبَحُوْا خَاسِرِيْنَ
মুমিনগণ বলবে, এরাই কি তারা যারা আল্লাহর নামে দৃঢ়ভাবে শপথ করেছিল যে, তারা তোমাদের সঙ্গেই আছে? (আজ) তাদের আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে; ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। (সূরা মায়েদা- ৫৩)
তাদের মিথ্যা শপথ পরকালে কোন কাজে লাগবে না :
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللهُ جَمِيْعًا فَيَحْلِفُوْنَ لَهٗ كَمَا يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ عَلٰى شَيْءٍؕ اَ لَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُوْنَ
সেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরায় জীবিত করে উঠাবেন। তখন তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেভাবে তোমাদের সামনে শপথ করে থাকে। আর তারা এরূপ ধারণা করবে যে, এতে তাদের কোন কাজ হবে। সাবধান, নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী (সম্প্রদায়)। (সূরা মুজাদালা- ১৮)
কিয়ামতের দিন মুনাফিকরা ঈমানদারদের কাছে নূর চাইবে :
يَوْمَ يَقُوْلُ الْمُنَافِقُوْنَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوا انْظُرُوْنَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُّوْرِكُمْ
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী মুমিনদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা করো, যাতে আমরা তোমাদের নূর হতে কিছু গ্রহণ করতে পারি। (সূরা হাদীদ- ১৩)
মুমিনরা বলবে, পেছনে নূরের সন্ধান করো :
قِيْلَ ارْجِعُوْا وَرَآءَكُمْ فَالْتَمِسُوْا نُوْرًا
বলা হবে, তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করো। (সূরা হাদীদ- ১৩)
পরে তাদের মধ্যে প্রাচীর তৈরি করে দেয়া হবে :
فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُوْرٍ لَّهٗ بَابٌؕ بَاطِنُهٗ فِيْهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهٗ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ
অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝিতে একটি প্রাচীর স্থাপিত হবে, সেখানে একটি দরজা থাকবে, যার অভ্যন্তরে রয়েছে রহমত এবং বহির্ভাগে রয়েছে আযাব। (সূরা হাদীদ- ১৩)
আবার তারা মুমিনদেরকে ডাকবে :
يُنَادُوْنَهُمْ اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ
তারা মুমিনদেরকে ডেকে (জিজ্ঞেস করবে), আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? (সূরা হাদীদ- ১৪)
মুমিনরা তাদের ত্রুটিসমূহ তুলে ধরবে :
قَالُوْا بَلٰى وَلٰكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ اَنْفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْاَمَانِيُّ حَتّٰى جَآءَ اَمْرُ اللهِ وَغَرَّكُمْ بِاللهِ الْغَرُوْرُ
তারা বলবে, হ্যাঁ (তোমরা আমাদের সাথেই ছিলে)! কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ; তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে এবং সন্দেহ পোষণ করেছিলে। আর (মিথ্যা) আশা-আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছে। অবশেষে আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু) এসে গেছে; (অপরদিকে) মহাপ্রতারক (শয়তানও) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল। (সূরা হাদীদ- ১৪)
মুনাফিকদের বাঁচার কোন উপায় থাকবে না :
فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنْكُمْ فِدْيَةٌ وَّلَا مِنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاؕ مَأْوَاكُمُ النَّارُؕ هِيَ مَوْلَاكُمْؕ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ
আজ তোমাদের নিকট হতে কোন মুক্তিপণ নেয়া হবে না এবং কাফিরদের নিকট হতেও না। জাহান্নামই তোমাদের আবাসস্থল, এটাই তোমাদের চিরসঙ্গী; আর এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
(সূরা হাদীদ- ১৫)
তারা কাফিরদের সঙ্গে জাহান্নামে থাকবে :
اِنَّ اللهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِيْنَ وَالْكَافِرِيْنَ فِيْ جَهَنَّمَ جَمِيْعًا
নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক এবং কাফির সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (সূরা নিসা- ১৪০)
তারা দুনিয়াতেই শাস্তি ভোগ করবে :
وَلَا تُعْجِبْكَ اَمْوَالُهُمْ وَاَوْلَادُهُمْؕ اِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ اَنْ يُّعَذِّبَهُمْ بِهَا فِى الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ اَنْفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُوْنَ
তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিমুগ্ধ না করে দেয়; আল্লাহ তো এর দ্বারাই তাদেরকে পার্থিব জীবনে (এক ধরনের) শাস্তিতে রেখে দিতে চান। ফলে তারা কাফির থাকাবস্থায় তাদের আত্মা দেহ-ত্যাগ করবে। (সূরা তাওবা- ৮৫)
পরকালেও তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :
اَعَدَّ اللهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيْدًاؕ اِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। নিশ্চয় তারা যা করত তা কতই না মন্দ।
(সূরা মুজাদালা- ১৫)
তাদের আযাব বড়ই অপমানজনক :
اِتَّخَذُوْاۤ اَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
তারা তাদের শপথকে ঢালস্বরূপ করে রেখেছে, এভাবে তারা (লোকদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে। তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (সূরা মুজাদালা- ১৬)
তাদের ধনসম্পদ কোন কাজে আসবে না :
لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًاؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ النَّارِؕ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আল্লাহর শাস্তির মুকাবিলায় তাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে। (সূরা মুজাদালা- ১৭)
তারা জাহান্নামের নিম্নস্তরে থাকবে :
اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ
নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিম্নস্তরে অবস্থান করবে। (সূরা নিসা– ১৪৫)