hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬০৮

অধ্যায়- ৩৬ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ

কুরাইশরা ওহুদ যুদ্ধে সাময়িকভাবে জয়লাভ করলেও এতে তাদের আশানুরূপ সাফল্য অর্জিত হয়নি। তারা মক্কার সাথে মদিনাকে অমত্মর্ভুক্ত করার জন্য এবং তাদের বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোন সেনাবাহিনী মদিনায় রেখে যায়নি। ফলে কুরাইশদের যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিমগণ নিজেদের সংগঠিত করে পূর্বের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী হয়ে উঠে। মদিনায় মুসলিমদের এ শক্তি বৃদ্ধিতে মক্কার কুরাইশরা ভীত সন্ত্রসত্ম হয়ে পড়ে। তারা মনে করে, মুসলিমদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে তাদের আর্থসামাজিক ও ধর্মীয় সুযোগসুবিধা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তারা শেষবারের মতো যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করল। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ই মার্চ, (৫ম হিজরী, শাওয়াল মাস) আবু সুফিয়ান কুরাইশ, ইয়াহুদি ও বেদুঈনদের একটি সম্মিলিত বাহিনী প্রস্তুত করে ১০,০০০ সৈন্যসহ মদিনার দিকে অগ্রসর হয়। অপরদিকে মহানবী ﷺ ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করে এ সম্মিলিত বাহিনীকে প্রতিরোধ করার উপায় উদ্ভাবনের লক্ষ্যে পরামর্শ সভা আহবান করেন। সভায় পারস্যবাসী সালমান ফারসী (রাঃ) এর পরামর্শ গৃহীত হয়। প্রসত্মাব অনুযায়ী, শহরের চতুর্দিকের অরক্ষিত স্থানে পরিখা খনন করা হয়। মূলত পরিখা অথবা খন্দক হতেই এ যুদ্ধের নামকরণ করা হয়েছে ‘খন্দকের যুদ্ধ’। অতঃপর তারা মদিনা আক্রমণ করতে এসে আত্মরক্ষার এ অভিনব কৌশল দেখে খুবই বিস্মিত হয় এবং আপ্রাণ চেষ্টা করেও মদিনায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়। এভাবে তিন সপ্তাহের অধিককাল অবস্থান করে অবশেষে পরাজয় বরণ করে নেয় এবং বেদুঈন, ইয়াহুদি ও বিধর্মী কুরাইশদের এ বিশাল সম্মিলিত শক্তিও ধ্বংস হয়ে যায়। পরিখার যুদ্ধ ইসলামী ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কুরাইশরা এতদিন ধরে যে আক্রমণকারীর ভূমিকা গ্রহণ করে আসছিল, এবার তার বিলুপ্তি ঘটে। এ যুদ্ধে কুরাইশদের সামরিক শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পায়, তাদের সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়, সম্মান বিনষ্ট হয়ে যায় এবং মিত্রশক্তিরা ঘৃণায় তাদের দল ত্যাগ করে চলে যায়। অপরদিকে এ যুদ্ধ মহানবী ﷺ তথা মুসলিমদের পদমর্যাদা আরো বৃদ্ধি করে দেয়। শত্রুদের কবল হতে মদিনাকে রক্ষা করায় মদিনাবাসীগণ মুহাম্মাদ ﷺ কে একচ্ছত্র অধিপতি বলে সম্মান করতে আরম্ভ করে। মুসলিমদের প্রতিপক্ষের বিরাট সৈন্য বাহিনীর উপর এ বিজয় পার্শ্ববর্তী জাতির উপরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং স্বেচ্ছায় তারা মুসলিমদের মিত্রতে পরিণত হতে থাকে। ফলে ইসলাম পার্শ্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যেও দ্রুত প্রসার লাভ করতে থাকে।

শত্রু বাহিনী মদিনাকে পুরোপুরিভাবে ঘেরাও করে ফেলে :

اِذْ جَآءُوْكُمْ مِّنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ اَسْفَلَ مِنْكُمْ وَاِذْ زَاغَتِ الْاَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوْبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّوْنَ بِاللهِ الظُّنُوْنَا

স্মরণ করো, যখন তারা তোমাদের উপর দিক থেকে ও নিম্ন দিক থেকে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছিল এবং যখন তোমাদের চক্ষু বিস্ফোরিত হয়েছিল, এমনকি প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। এমতাবস্থায় তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা করতে শুরু করেছিলে। (সূরা আহযাব- ১০)

মুসলিমরা চরম বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয় :

هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَزُلْزِلُوْا زِلْزَالًا شَدِيْدًا

তখন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়ে পড়েছিল। (সূরা আহযাব- ১১)