hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫৪

অধ্যায়- ১ : সুলায়মান (আঃ) এর পরিচয়

সুলায়মান (আঃ) হলেন দাউদ (আঃ) এর পুত্র :

وَوَهَبْنَا لِدَاوُوْدَ سُلَيْمَانَ

আর আমি দাউদকে দান করেছি সুলায়মান। (সূরা সোয়াদু ৩০)

তিনি পিতার উত্তরাধিকারী হন :

وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُوْدَ

আর সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। (সূরা নামল– ১৬)

আল্লাহ তাকে জ্ঞান দান করেছিলেন :

وَلَقَدْ اٰتَيْنَا دَاوُوْدَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا

অবশ্যই আমি দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। (সূরা নামল– ১৫)

সুলায়মান (আঃ) রাজত্বের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করেন :

قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَهَبْ لِيْ مُلْكًا لَّا يَنْۢبَغِيْ لِاَحَدٍ مِّنْ ۢبَعْدِيْۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ

তিনি প্রার্থনা করলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন, যা আমার পরে আর কারো ভাগ্যে না জোটে। নিশ্চয় আপনি মহান দাতা। (সূরা সোয়াদু ৩৫)

রাজ্য পরিচালনার জন্য আল্লাহ তাকে সবকিছু দিয়েছেন :

وَقَالَ يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَاُوْتِيْنَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍؕ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِيْنُ

সে বলেছিল, হে মানুষ! আমাকে বিহঙ্গকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সকল কিছু দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ। (সূরা নামল– ১৬)

ব্যাখ্যা : বান্দার অহংকার আল্লাহর কাছে যতবেশি অপছন্দনীয়, তার বিনয় প্রকাশ তাঁর কাছে ততবেশি পছন্দনীয়। বান্দা যদি অপরাধ করে এবং সতর্ক করার কারণে উল্টো আরো বেশি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে এর পরিণাম খুবই খারাপ হয়। পক্ষান্তরে বান্দার যদি সামান্য পদস্খলন হয়ে যায় এবং সে তাওবা করে তার রবের সামনে মাথা নত করে, তাহলে তার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। সুতরাং সুলায়মান (আঃ) বিনয় প্রকাশের সাথে সাথে ক্ষমাপ্রার্থনা করার পর যে দু‘আ করেছিলেন আল্লাহ তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেন এবং বাস্তবে তাঁকে এমন একটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দান করেন, যা তাঁর পূর্বে কেউ লাভ করেনি; এমনকি তাঁর পরে আজও পর্যন্ত কাউকে দেয়া হয়নি। বায়ু নিয়ন্ত্রণ ও জিনদের উপর কর্তৃত্ব এ দু’টি এমন ধরনের অসাধারণ শক্তি, যা মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র সুলায়মান (আঃ) কেই দান করা হয়েছে। অন্য কাউকে এর কোন অংশ দেয়া হয়নি।

আল্লাহ সুলায়মান (আঃ) কে পরীক্ষায় ফেলেছেন :

وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَاَلْقَيْنَا عَلٰى كُرْسِيِّهٖ جَسَدًا ثُمَّ اَنَابَ

আমি তো সুলায়মানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর একটি দেহ রেখে দিয়েছিলাম। অতঃপর সে আল্লাহ অভিমুখী হলো। (সূরা সোয়াদু ৩৪)

তিনি লাঠিতে ভর দেয়া অবস্থায় মারা যান :

فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلٰى مَوْتِهٖۤ اِلَّا دَآبَّةُ الْاَرْضِ تَأْكُلُ مِنْسَاَتَهٗۚ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ اَنْ لَّوْ كَانُوْا يَعْلَمُوْنَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوْا فِى الْعَذَابِ الْمُهِيْنِ

অতঃপর যখন আমি তার প্রতি মৃত্যুর নির্দেশ দিলাম, তখন ঘূণ কীট ছাড়া কোনকিছুই তাদেরকে তার মৃত্যুর বিষয়ে অবগত করেনি, যারা তার লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, যদি তারা অদৃশ্যের বিষয় জানত তবে তারা এ লাঞ্ছিত কষ্টে অবস্থান করত না। (সূরা সাবা– ১৪)