hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬৭

অধ্যায়- ৪ : আদালত কায়েম করা হবে

আল্লাহ তা‘আলা আত্মপ্রকাশ করবেন :

وَجَآءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا

আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন। (সূরা ফাজর- ২২)

ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে হাজির হবে :

يَوْمَ يَقُوْمُ الرُّوْحُ وَالْمَلَآئِكَةُ صَفًّاؕ لَا يَتَكَلَّمُوْنَ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَقَالَ صَوَابًا

সেদিন রূহ (জিবরাঈল) ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। অতঃপর দয়াময় (আল্লাহ) যাকে অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না। অতঃপর সে সঠিক কথা বলবে। (সূরা নাবা- ৩৮)

ফেরেশতারা আরশ বহন করবে :

وَالْمَلَكُ عَلٰۤى اَرْجَآئِهَاؕ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ

ফেরেশতাগণ তাঁর পার্শ্বে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফেরেশতা তোমার প্রতিপালকের আরশকে বহন করবে। (সূরা হাক্কাহ- ১৭)

ফেরেশতারা আল্লাহর তাসবীহ পড়তে থাকবে :

وَتَرَى الْمَلَآئِكَةَ حَآفِّيْنَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ

ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। (সূরা যুমার- ৭৫)

সমস্ত পৃথিবী আল্লাহর নূরে আলোকিত হয়ে যাবে :

وَاَشْرَقَتِ الْاَرْضُ بِنُوْرِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَابُ

সমস্ত পৃথিবী তার প্রতিপালকের নূরে উদ্ভাসিত হবে। অতঃপর আমলনামা পেশ করা হবে। (সূরা যুমার- ৬৯)

নবী ও সাক্ষীদেরকেও উপস্থিত করা হবে :

وَجِيْٓءَ بِالنَّبِيِّيْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ

নবী ও সাক্ষীগণকেও হাজির করা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। অতঃপর তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা যুমার- ৬৯)

সেদিন বাদশাহী হবে একমাত্র আল্লাহর :

وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنْفَخُ فِى الصُّوْرِؕ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِؕ وَهُوَ الْحَكِيْمُ الْخَبِيْرُ

যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিনকার কর্তৃত্ব তো তাঁরই। অদৃশ্য ও দৃশ্য সবকিছু সম্বন্ধে তিনি পরিজ্ঞাত; আর তিনিই প্রজ্ঞাময় ও সবিশেষ অবহিত। (সূরা আন‘আম- ৭৩)

اَلْمُلْكُ يَوْمَئِذِنِ الْحَقُّ لِلرَّحْمٰنِ

সেদিনের (কিয়ামতের) কর্তৃত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর। (সূরা ফুরক্বান- ২৬)

لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَؕ لِلّٰهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ

(আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই। (সূরা মু’মিন- ১৬)

ব্যাখ্যা : পৃথিবীতে তো বহু অহংকারী ও ভ্রান্ত লোক নিজেদের বাদশাহী ও শক্তিমত্তার অহংকার করত এবং বহু সংখ্যক নির্বোধরাও তাদের বাদশাহী ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করত, তাদের হুকুম পালন করত এমনকি অনেকে তাদেরকেই নিজেদের প্রভু মনে করত; কিন্তু এখন তো তোমাদের কাছে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং এখন বলো! প্রকৃতপক্ষে বাদশাহী কার? ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকৃত মালিক কে? আর কার হুকুমে সবকিছু পরিচালিত হয়? এটা এমন একটা বিষয় যে, কোন ব্যক্তি যদি তা বুঝার চেষ্টা করে তাহলে সে যত বড় বাদশাহ কিংবা মহানায়ক হয়ে থাকুক না কেন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং তার মন-মগজ থেকে শক্তিমত্তার সমস্ত অহংকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।