১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১৪
অধ্যায়- ৮ : আল্লাহর উপর ভরসা
আল্লাহর উপর ভরসা করার নির্দেশ :
وَعَلَى اللهِ فَتَوَكَّلُوْاۤ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ
আল্লাহর উপরই নির্ভর করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। (সূরা মায়েদা- ২৩)
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَمُوْتُ
তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর নির্ভর করো, যার কোন মৃত্যু নেই। (সূরা ফুরক্বান- ৫৮)
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيْزِ الرَّحِيْمِ
তুমি নির্ভর করো মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু (আল্লাহর) উপর। (সূরা শু‘আরা- ২১৭)
وَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ وَكَفٰى بِاللهِ وَكِيْلًا
আর তুমি আল্লাহর উপরই নির্ভর করো। বস্তুত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আহযাব- ৩)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ দুনিয়ার বৃহত্তম শক্তিরও পরোয়া করো না, বরং মহাপরাক্রমশালী ও দয়াময় আল্লাহর উপর নির্ভর করে কাজ করে যাও। তাঁর পরাক্রমশালী হওয়াই এ কথার নিশ্চয়তা দেয় যে, যার পেছনে তাঁর সমর্থন আছে তাকে দুনিয়ার কেউ হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে না। আর তাঁর দয়াময় প্রমাণ করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি তাঁর জন্য সত্যের ঝান্ডা উঁচু করার কাজে জীবন উৎসর্গ করবে, তিনি কখনো তার প্রচেষ্টাকে নিষ্ফল হতে দেবেন না। এখানে তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর প্রতি ভরসাকে ঈমানের অনিবার্য দাবী এবং আখিরাতের সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাওয়াক্কুল এর কয়েকটি অর্থ হয়। তা হলো-
(এক) আল্লাহর পথনির্দেশনার উপর ব্যক্তির পূর্ণ আস্থা থাকবে এবং সে মনে করবে, আল্লাহ প্রকৃত সত্য সম্পর্কে যে জ্ঞান, নীতিমালা, হালাল-হারামের যে সীমারেখা এবং পৃথিবীতে জীবন-যাপনের জন্য যেসব বিধিবিধান দিয়েছেন তা-ই সত্য ও সঠিক। এগুলো মেনে চলার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত।
(দুই) মানুষের নির্ভরতা তার নিজের শক্তি, যোগ্যতা, উপায়-উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সহযোগিতার উপর হবে না। তাকে এ কথা পুরোপুরিভাবে মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটি ব্যাপারে তার সাফল্য প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্যের উপর নির্ভর করে। (তিন) আল্লাহ ঈমান ও নেক কাজের পথ অবলম্বনকারী এবং বাতিলের পরিবর্তে ন্যায় ও সত্যের জন্য কর্মতৎপর বান্দাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাকে তার উপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। ঐসব প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থাশীল হয়ে ন্যায় ও সত্যের উপর দৃঢ়পদ থাকার কারণে যেসব বিপদাপদ তার উপর পতিত হয় তা সহ্য করতে হবে।
আল্লাহর উপর ভরসা করা মুমিনের উত্তম বৈশিষ্ট্য :
اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَاِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ اٰيَاتُهٗ زَادَتْهُمْ اِيْمَانًا وَّعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
নিশ্চয় মুমিন তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কম্পিত হয় এবং তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায়। আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে। (সূরা আনফাল- ২)
আল্লাহর উপর ভরসা করা ঈমানের দাবী :
وَقَالَ مُوْسٰى يَا قَوْمِ اِنْ كُنْتُمْ اٰمَنْتُمْ بِاللهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوْاۤ اِنْ كُنْتُمْ مُّسْلِمِيْنَ
মূসা বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাক এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণকারী হও, তবে তোমরা তাঁর উপরই নির্ভর করো। (সূরা ইউনুস- ৮৪)
সকল নবীই আল্লাহর উপর ভরসা করতেন :
وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللهِ وَقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَا
আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করব না? তিনিই তো আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন। (সূরা ইবরাহীম- ১২)
নূহ (আঃ) এর উক্তি :
يَا قَوْمِ اِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَّقَامِيْ وَتَذْكِيْرِيْ بِاٰيَاتِ اللهِ فَعَلَى اللهِ تَوَكَّلْتُ
হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থান ও আল্লাহর নিদর্শন দ্বারা আমার উপদেশ দান করাটা যদি তোমাদের নিকট দুঃসহ হয়ে যায়, তবে (জেনে রেখো) আমি কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করি। (সূরা ইউনুস- ৭১)
হুদ (আঃ) এর উক্তি :
اِنِّيْ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ رَبِّيْ وَرَبِّكُمْ
নিশ্চয় আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই নির্ভর করি। (সূরা হুদ- ৫৬)
শুয়াইব (আঃ) এর উক্তি :
وَمَا تَوْفِيْقِيْۤ اِلَّا بِاللهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَاِلَيْهِ اُنِيْبُ
আমার কার্যসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে (সংঘটিত হয়)। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী। (সূরা হুদ- ৮৮)
ইয়াকূব (আঃ) এর উক্তি :
اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُۚ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُوْنَ
বিধান দেয়ার ক্ষমতা কেবল আল্লাহরই। আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি; আর নির্ভরকারীরা তো আল্লাহর উপরই নির্ভর করে। (সূরা ইউসুফ- ৬৭)
মুহাম্মাদ ﷺ এর উক্তি :
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللهُۗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি (তাদেরকে) বলে দাও, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি; তিনি মহান আরশের মালিক। (সূরা তাওবা- ১২৯)
আল্লাহ তাঁর উপর নির্ভরকারীদেরকে ভালোবাসেন :
فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِيْنَ
অতএব তুমি আল্লাহর উপরই নির্ভর করো; নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৫৯)
আল্লাহ তাদের কাজ সমাধা করে দেন :
وَمَنْ يَّتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهٗؕ اِنَّ اللهَ بَالِغُ اَمْرِهٖؕ قَدْ جَعَلَ اللهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ তার কার্যাবলি পূরণ করে দেবেন; আর আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে রেখেছেন। (সূরা তালাক্ব- ৩)
তারা শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে :
اِنَّهٗ لَيْسَ لَهٗ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে তাদের উপর তার (শয়তানের) কোন আধিপত্য নেই। (সূরা নাহল- ৯৯)
তাদের পুরস্কার খুবই উত্তম :
فَمَاۤ اُوْتِيْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَاۚ وَمَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ وَّاَبْقٰى لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
তোমরা যা পেয়েছ তা পার্থিব জীবনের ভোগের সামগ্রী মাত্র। কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা সবচেয়ে উত্তম ও স্থায়ী। (ওগুলো) তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে।
(সূরা শূরা- ৩৬)
وَعَلَى اللهِ فَتَوَكَّلُوْاۤ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ
আল্লাহর উপরই নির্ভর করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। (সূরা মায়েদা- ২৩)
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَمُوْتُ
তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর নির্ভর করো, যার কোন মৃত্যু নেই। (সূরা ফুরক্বান- ৫৮)
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيْزِ الرَّحِيْمِ
তুমি নির্ভর করো মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু (আল্লাহর) উপর। (সূরা শু‘আরা- ২১৭)
وَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ وَكَفٰى بِاللهِ وَكِيْلًا
আর তুমি আল্লাহর উপরই নির্ভর করো। বস্তুত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আহযাব- ৩)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ দুনিয়ার বৃহত্তম শক্তিরও পরোয়া করো না, বরং মহাপরাক্রমশালী ও দয়াময় আল্লাহর উপর নির্ভর করে কাজ করে যাও। তাঁর পরাক্রমশালী হওয়াই এ কথার নিশ্চয়তা দেয় যে, যার পেছনে তাঁর সমর্থন আছে তাকে দুনিয়ার কেউ হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে না। আর তাঁর দয়াময় প্রমাণ করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি তাঁর জন্য সত্যের ঝান্ডা উঁচু করার কাজে জীবন উৎসর্গ করবে, তিনি কখনো তার প্রচেষ্টাকে নিষ্ফল হতে দেবেন না। এখানে তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর প্রতি ভরসাকে ঈমানের অনিবার্য দাবী এবং আখিরাতের সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাওয়াক্কুল এর কয়েকটি অর্থ হয়। তা হলো-
(এক) আল্লাহর পথনির্দেশনার উপর ব্যক্তির পূর্ণ আস্থা থাকবে এবং সে মনে করবে, আল্লাহ প্রকৃত সত্য সম্পর্কে যে জ্ঞান, নীতিমালা, হালাল-হারামের যে সীমারেখা এবং পৃথিবীতে জীবন-যাপনের জন্য যেসব বিধিবিধান দিয়েছেন তা-ই সত্য ও সঠিক। এগুলো মেনে চলার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত।
(দুই) মানুষের নির্ভরতা তার নিজের শক্তি, যোগ্যতা, উপায়-উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সহযোগিতার উপর হবে না। তাকে এ কথা পুরোপুরিভাবে মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটি ব্যাপারে তার সাফল্য প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্যের উপর নির্ভর করে। (তিন) আল্লাহ ঈমান ও নেক কাজের পথ অবলম্বনকারী এবং বাতিলের পরিবর্তে ন্যায় ও সত্যের জন্য কর্মতৎপর বান্দাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাকে তার উপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। ঐসব প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থাশীল হয়ে ন্যায় ও সত্যের উপর দৃঢ়পদ থাকার কারণে যেসব বিপদাপদ তার উপর পতিত হয় তা সহ্য করতে হবে।
আল্লাহর উপর ভরসা করা মুমিনের উত্তম বৈশিষ্ট্য :
اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ اِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَاِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ اٰيَاتُهٗ زَادَتْهُمْ اِيْمَانًا وَّعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
নিশ্চয় মুমিন তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কম্পিত হয় এবং তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায়। আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে। (সূরা আনফাল- ২)
আল্লাহর উপর ভরসা করা ঈমানের দাবী :
وَقَالَ مُوْسٰى يَا قَوْمِ اِنْ كُنْتُمْ اٰمَنْتُمْ بِاللهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوْاۤ اِنْ كُنْتُمْ مُّسْلِمِيْنَ
মূসা বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাক এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণকারী হও, তবে তোমরা তাঁর উপরই নির্ভর করো। (সূরা ইউনুস- ৮৪)
সকল নবীই আল্লাহর উপর ভরসা করতেন :
وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللهِ وَقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَا
আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করব না? তিনিই তো আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন। (সূরা ইবরাহীম- ১২)
নূহ (আঃ) এর উক্তি :
يَا قَوْمِ اِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَّقَامِيْ وَتَذْكِيْرِيْ بِاٰيَاتِ اللهِ فَعَلَى اللهِ تَوَكَّلْتُ
হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থান ও আল্লাহর নিদর্শন দ্বারা আমার উপদেশ দান করাটা যদি তোমাদের নিকট দুঃসহ হয়ে যায়, তবে (জেনে রেখো) আমি কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করি। (সূরা ইউনুস- ৭১)
হুদ (আঃ) এর উক্তি :
اِنِّيْ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ رَبِّيْ وَرَبِّكُمْ
নিশ্চয় আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই নির্ভর করি। (সূরা হুদ- ৫৬)
শুয়াইব (আঃ) এর উক্তি :
وَمَا تَوْفِيْقِيْۤ اِلَّا بِاللهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَاِلَيْهِ اُنِيْبُ
আমার কার্যসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে (সংঘটিত হয়)। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী। (সূরা হুদ- ৮৮)
ইয়াকূব (আঃ) এর উক্তি :
اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُۚ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُوْنَ
বিধান দেয়ার ক্ষমতা কেবল আল্লাহরই। আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি; আর নির্ভরকারীরা তো আল্লাহর উপরই নির্ভর করে। (সূরা ইউসুফ- ৬৭)
মুহাম্মাদ ﷺ এর উক্তি :
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللهُۗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি (তাদেরকে) বলে দাও, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি; তিনি মহান আরশের মালিক। (সূরা তাওবা- ১২৯)
আল্লাহ তাঁর উপর নির্ভরকারীদেরকে ভালোবাসেন :
فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِيْنَ
অতএব তুমি আল্লাহর উপরই নির্ভর করো; নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর উপর) নির্ভরশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৫৯)
আল্লাহ তাদের কাজ সমাধা করে দেন :
وَمَنْ يَّتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهٗؕ اِنَّ اللهَ بَالِغُ اَمْرِهٖؕ قَدْ جَعَلَ اللهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ তার কার্যাবলি পূরণ করে দেবেন; আর আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে রেখেছেন। (সূরা তালাক্ব- ৩)
তারা শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে :
اِنَّهٗ لَيْسَ لَهٗ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে তাদের উপর তার (শয়তানের) কোন আধিপত্য নেই। (সূরা নাহল- ৯৯)
তাদের পুরস্কার খুবই উত্তম :
فَمَاۤ اُوْتِيْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَاۚ وَمَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ وَّاَبْقٰى لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُوْنَ
তোমরা যা পেয়েছ তা পার্থিব জীবনের ভোগের সামগ্রী মাত্র। কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা সবচেয়ে উত্তম ও স্থায়ী। (ওগুলো) তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে।
(সূরা শূরা- ৩৬)