hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭৫

অধ্যায়- ১২ : হাশরের ময়দানে শয়তান ও পাপীদের মধ্যে বিতর্ক

মানুষ বিতর্ক শুরু করবে :

اِنَّكَ مَيِّتٌ وَّاِنَّهُمْ مَّيِّتُوْنَ – ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُوْنَ

নিশ্চয় আপনি মৃত্যুবরণ করবেন, আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তারা আপনার প্রতিপালকের সামনে বিতর্ক করবে। (সূরা যুমার- ৩০, ৩১)

মানুষ শয়তানকে দোষারোপ করলে সে অস্বীকার করবে :

قَالَ قَرِيْنُهٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطْغَيْتُهٗ وَلٰكِنْ كَانَ فِيْ ضَلَالٍ ۢبَعِيْدٍ

তার সহচর (শয়তান) বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি। বস্তুত সে নিজেই দূরবর্তী ভ্রষ্টতায় পতিত ছিল। (সূরা ক্বাফ- ২৭)

শয়তান পাশ কাটিয়ে জবাব দেবে :

وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْاَمْرُ اِنَّ اللهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُّكُمْ فَاَخْلَفْتُكُمْؕ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ اِلَّاۤ اَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِيْۚ فَلَا تَلُوْمُوْنِيْ وَلُوْمُوْاۤ اَنْفُسَكُمْؕ مَاۤ اَنَاْ بِمُصْرِخِكُمْ وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّؕ اِنِّيْ كَفَرْتُ بِمَاۤ اَشْرَكْتُمُوْنِ مِنْ قَبْلُؕ اِنَّ الظَّالِمِيْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ

যখন বিচারকার্য সম্পন্ন হবে তখন শয়তান বলবে, আল্লাহ তো তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন এবং আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর আমার তো কোন আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহবান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমাকে দোষারোপ করো না, তোমরা নিজেরাই নিজেদের প্রতি দোষারোপ করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমাকে উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি; নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক শাসিত্ম। (সূরা ইবরাহীম- ২২)

তখন পাপীরা আক্ষেপ করবে :

وَمَنْ يَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَيِّضْ لَهٗ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهٗ قَرِيْنٌ ‐ وَاِنَّهُمْ لَيَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِيْلِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ – حَتّٰۤى اِذَا جَآءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِيْ وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِيْنُ – وَلَنْ يَّنْفَعَكُمُ الْيَوْمَ اِذْ ظَّلَمْتُمْ اَنَّكُمْ فِى الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ হতে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য একজন শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সেই হয় তার সহচর। তারাই মানুষকে সৎপথ হতে বিরত রাখে; অথচ মানুষ মনে করে যে, তারা হেদায়াতের উপরই পরিচালিত হচ্ছে। অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হবে, তখন সে (শয়তানকে) বলবে, হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের (সমপরিমাণ) ব্যবধান থাকত! কতই না নিকৃষ্ট সহচর সে! অতঃপর (বলা হবে) আজ তোমাদের (এই পরিতাপ) কোনই উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা যুলুম করেছিলে। নিশ্চয় তোমরা সকলেই শাস্তির অংশীদার। (সূরা যুখরুফ, ৩৬-৩৯)

আল্লাহ এ বিতর্ক বন্ধ করে দেবেন :

قَالَ لَا تَخْتَصِمُوْا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ اِلَيْكُمْ بِالْوَعِيْدِ – مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَاۤ اَنَاْ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيْدِ

(আল্লাহ বলবেন) আমার সামনে ঝগড়া করো না; আমি তোমাদেরকে পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমার কথার রদ-বদল হয় না; আর আমি আমার বান্দাদের প্রতি অবিচারকারীও নই। (সূরা ক্বাফ- ২৮, ২৯)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ তোমাদের দু’জনকেই আমি সাবধান করে দিয়েছিলাম যে, তোমাদের মধ্যে যে অন্যকে বিভ্রান্ত করবে সে কী শাস্তি পাবে এবং যে বিভ্রান্ত হবে তাকে কী পরিণাম ভোগ করতে হবে। আমার এ সতর্কবাণী সত্ত্বেও তোমরা উভয়েই যখন অপরাধে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত হওনি, তখন এ মুহূর্তে ঝগড়া করে কী লাভ? এখন শাস্তি পেতেই হবে। আমার কাছে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোন নিয়ম নেই। তোমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের যে নির্দেশ আমি দিয়েছি তা এখন প্রত্যাহার করা যাবে না। তাছাড়া বিপথগামী করার ও বিপথগামী হওয়ার শাস্তি আখিরাতে কি হবে সে বিষয়ে আমি পৃথিবীতে যে নিয়মের ঘোষণা দিয়েছিলাম তাও আর পরিবর্তন হবে না।