hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬৩

অধ্যায়- ৬ : শরীকদের প্রকৃত অবস্থা

শরীকরা শাফা‘আতের ক্ষমতা রাখে না :

وَلَا يَمْلِكُ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ

তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকে তারা শাফা‘আতের ক্ষমতার মালিক নয়, তবে যারা জেনে শুনে সত্যের সাক্ষ্য দেবে তারা ব্যতীত। (সূরা যুখরুফ- ৮৬)

وَلَمْ يَكُنْ لَّهُمْ مِّنْ شُرَكَآئِهِمْ شُفَعَآءُ وَكَانُوْا بِشُرَكَآئِهِمْ كَافِرِيْنَ

তাদের শরীকদের মধ্য হতে তাদের জন্য সুপারিশ করার মতো কেউ থাকবে না। বরং তারা নিজেদের শরীক করাকেই অস্বীকার করবে। (সূরা রূম- ১৩)

তাদের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি :

يَدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ مَا لَا يَضُرُّهٗ وَمَا لَا يَنْفَعُهٗؕ ذٰلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيْدُ ‐ يَدْعُوْا لَمَنْ ضَرُّهٗۤ اَقْرَبُ مِنْ نَّفْعِهٖؕ لَبِئْسَ الْمَوْلٰى وَلَبِئْسَ الْعَشِيْرُ

সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যা কোন অপকারও করতে পারে না এবং কোন উপকারও করতে পারে না; এটা চরম বিভ্রান্তি। সে এমন কিছুকে ডাকে, যার ক্ষতি সেটার উপকার অপেক্ষা অধিক নিকটতর। (সুতরাং তারা যাদেরকে ডাকে তারা) কতই না নিকৃষ্ট অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট সহচর!

(সূরা হজ্জ- ১২, ১৩)

তাদের সকল অঙ্গই অকেজো :

اِنَّ الَّذِيْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ عِبَادٌ اَمْثَالُكُمْ فَادْعُوْهُمْ فَلْيَسْتَجِيْبُوْا لَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ ‐ اَلَهُمْ اَرْجُلٌ يَّمْشُوْنَ بِهَاۤ اَمْ لَهُمْ اَيْدٍ يَّبْطِشُوْنَ بِهَاۤ اَمْ لَهُمْ اَعْيُنٌ يُّبْصِرُوْنَ بِهَاۤ اَمْ لَهُمْ اٰذَانٌ يَّسْمَعُوْنَ بِهَا

তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহবান কর, তারা তো তোমাদের মতোই একজন বান্দা। অতএব যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তাদেরকে আহবান করো; আর তারা তোমাদের আহবানে সাড়া দিক। তাদের কি পা আছে, যা দ্বারা তারা চলতে পারবে? তাদের কি হাত আছে, যা দ্বারা তারা ধরতে পারবে? তাদের কি চক্ষু আছে, যা দ্বারা তারা দেখতে পারবে? কিংবা তাদের কি কোন কান আছে, যা দ্বারা তারা শ্রবণ করতে পারবে? (সূরা আ‘রাফ- ১৯৪, ১৯৫)

তারা কোনকিছু সৃষ্টি করতে পারে না :

وَالَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ لَا يَخْلُقُوْنَ شَيْئًا وَّهُمْ يُخْلَقُوْنَ

তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহবান করে তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়। (সূরা নাহল- ২০)

তারা মৃত :

اَمْوَاتٌ غَيْرُ اَحْيَاءٍ وَّمَا يَشْعُرُوْنَ اَيَّانَ يُبْعَثُوْنَ

তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা নেই। (সূরা নাহল- ২১)

তারা কারো জীবন বা মরণ দিতে পারে না :

وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً لَّا يَخْلُقُوْنَ شَيْئًا وَّهُمْ يُخْلَقُوْنَ وَلَا يَمْلِكُوْنَ لِاَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَّلَا نَفْعًا وَّلَا يَمْلِكُوْنَ مَوْتًا وَّلَا حَيَاةً وَّلَا نُشُوْرًا

তারা তাঁর পরিবর্তে এমন কিছুকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যারা কোনকিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা নিজেদেরই কোন অপকার কিংবা উপকারের ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের উপরও কোন ক্ষমতা রাখে না। (সূরা ফুরক্বান- ৩)

তারা দুনিয়াতেও কোন উপকার করতে পারে না :

وَلَقَدْ اَهْلَكْنَا مَا حَوْلَكُمْ مِّنَ الْقُرٰى وَصَرَّفْنَا الْاٰيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ ‐ فَلَوْلَا نَصَرَهُمُ الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ قُرْبَانًا اٰلِهَةً ۢبَلْ ضَلُّوْا عَنْهُمْۚ وَذٰلِكَ اِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوْا يَفْتَرُوْنَ

তোমাদের আশপাশের এলাকার অনেক জনবসতি আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আর আমি আয়াতসমূহ বার বার তাদেরকে বুঝিয়েছি, যেন তারা ফিরে আসে। তারা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে মা‘বুদ বানিয়ে নিয়েছিল, তারা কেন এদেরকে কোন সাহায্য করল না? বরং তারা তো তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেল। তারা যে মিথ্যা ও মনগড়া আকীদা বানিয়ে নিয়েছিল- এর পরিণাম এটাই। (সূরা আহকাফ- ২৭, ২৮)

فَمَاۤ اَغْنَتْ عَنْهُمْ اٰلِهَتُهُمُ الَّتِيْ يَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ شَيْءٍ لَّمَّا جَآءَ اَمْرُ رَبِّكَؕ وَمَا زَادُوْهُمْ غَيْرَ تَتْبِيْبٍ

যখন তোমার প্রতিপালকের বিধান আসল, তখন তারা আল্লাহ ব্যতীত যে ইলাহসমূহের ইবাদাত করত তারা তাদের কোন কাজে আসল না। আর তারা ধ্বংস ব্যতীত তাদের জন্য অন্য কোনকিছুই বৃদ্ধি করল না। (সূরা হুদ- ১০১)