hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

অধ্যায়- ১৪ : কুরআন গ্রহণের ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী পার্থক্য

মুমিন কুরআন দ্বারা হেদায়াত পায়, আর অন্যরা পথভ্রষ্ট হয় :

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ وَلَا يَزِيْدُ الظَّالِمِيْنَ اِلَّا خَسَارًا

আমি কুরআন অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমতস্বরূপ, কিন্তু সেটা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৮২)

ব্যাখ্যা : যারা এ কুরআনকে নিজেদের পথপ্রদর্শক এবং নিজেদের জন্য আইনের কিতাব বলে মেনে নেয়, তাদের জন্য এটি আল্লাহর রহমত এবং যাবতীয় মানসিক ও নৈতিক রোগের চিকিৎসা। কিন্তু যেসব যালিম এর পথনির্দেশনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজেদের উপর যুলুম করে, এ কুরআন তাদেরকে আরো বেশি ক্ষতির মধ্যে ঠেলে দেয়। এর কারণ যতদিন কুরআন আসেনি, ততদিন তাদের ক্ষতি ছিল নিছক অজ্ঞতার ক্ষতি। কিন্তু যখন কুরআন তাদের সামনে এসে গেল এবং তা হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেখিয়ে দিল, তখন তাদের উপর আল্লাহর দাবী অকাট্যভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়ে গেল। এখন যদি তারা একে প্রত্যাখ্যান করে গোমরাহীর উপর অবিচল থাকার জন্য জোর দেয়, তাহলে এর অর্থ হয়- তারা অজ্ঞ নয় বরং যালিম ও বাতিলপন্থী। এখন তাদের অবস্থা হবে এমন ব্যক্তির মতো, যে বিষ ও বিষের প্রতিষেধক উভয়টি দেখে বিষকে বেছে নেয়।

وَاِذَا مَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ فَمِنْهُمْ مَّنْ يَّقُوْلُ اَيُّكُمْ زَادَتْهُ هٰذِهٖۤ اِيْمَانًاۚ فَاَمَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فَزَادَتْهُمْ اِيْمَانًا وَّهُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ – وَاَمَّا الَّذِيْنَ فِيْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا اِلٰى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوْا وَهُمْ كَافِرُوْنَ

যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল? (প্রকৃতপক্ষে) যারা মুমিন এটা তাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারাই আনন্দিত হয়। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, এটা তাদের অপবিত্রতার সাথে আরো অপবিত্রতা যুক্ত করে এবং তাদের মৃত্যু ঘটে কাফির অবস্থায়। (সূরা তাওবা- ১২৪, ১২৫)

ব্যাখ্যা : একই কথা যা হেদায়াতপ্রাপ্ত লোকদের জন্য আরো হেদায়াতের কারণ হতো। অথচ তা শুনে কাফির ও মুনাফিকরা জিজ্ঞেস করত যে, একটু আগে তিনি কী বলেছেন? যে মজলিস থেকে এ দুর্ভাগারা অযথা সময় নষ্ট করে উঠে যেত, সৌভাগ্যবানরা সে মজলিস থেকেই জ্ঞানের এক নতুন ভান্ডার ভরে নিয়ে যেত। তারা নিজেদের মধ্যে যে তাক্বওয়ার যোগ্যতা সৃষ্টি করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সে তাওফীকই দান করেন।

هُوَ الَّذِيْۤ اَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ اٰيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتَابِ وَاُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌؕ فَاَمَّا الَّذِيْنَ فِيْ قُلُوْبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَآءَ تَاْوِيْلِهٖۚ وَمَا يَعْلَمُ تَاْوِيْلَهٗۤ اِلَّا اللهُ وَالرَّاسِخُوْنَ فِى الْعِلْمِ يَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِهٖ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَاۚ وَمَا يَذَّكَّرُ اِلَّاۤ اُولُو الْاَ لْبَابِ

তিনিই আপনার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এর মধ্যে কতক আয়াত রয়েছে মুহকামাত (স্পষ্ট), এগুলোই কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহাত (অস্পষ্ট)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফেতনা এবং ব্যাখ্যা তালাশের উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে। অথচ এগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর যারা গভীর জ্ঞানের অধিকারী তারা বলে, আমরা এগুলোতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছাড়া কেউ (এ থেকে) উপদেশ গ্রহণ করে না। (সূরা আলে ইমরান- ৭)

ব্যাখ্যা : ঈমানদারদের মধ্যে এ বাণী হৃদয়ের শীতলতা ও আত্মার খাদ্য হয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু অপরাধীদের অন্তরে তা বারুদের মতো আঘাত করে এবং তা শুনে তাদের মনে আগুন জ্বলে উঠে। যারা সত্য ও দ্বীনের কথা বুঝতে চায় না, সত্যের মর্ম অনুসন্ধান করে না, তাদের দৃষ্টি কেবল শব্দের বাইরের কাঠামোর উপর নিবদ্ধ থাকে। তারা ঐ জিনিসগুলো থেকে বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সত্য থেকে আরো দূরে চলে যায়। অপর দিকে যারা নিজেরাই সত্যসন্ধানী এবং সঠিক দৃষ্টিশক্তির অধিকারী তারা ঐসব কথার মধ্যে সূক্ষ্ম জ্ঞানের আলো দেখতে পায়।