hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৩৭

অধ্যায়- ২০ : মূসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মিসর ত্যাগ

মূসা (আঃ) আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেন :

فَدَعَا رَبَّهٗۤ اَنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمٌ مُّجْرِمُوْنَ

অতঃপর মূসা তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করলেন, নিশ্চয় এরা অপরাধী সম্প্রদায়। (সূরা দুখানু ২২)

ফিরাউনের বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ করলেন :

وَقَالَ مُوْسٰى رَبَّنَاۤ اِنَّكَ اٰتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَاَهٗ زِيْنَةً وَّاَمْوَالًا فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوْا عَنْ سَبِيْلِكَۚ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلٰۤى اَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلٰى قُلُوْبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوْا حَتّٰى يَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِيْمَ

মূসা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি তো ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে চাকচিক্য ও সম্পদ দান করেছ। হে আমাদের প্রতিপালক! যার কারণে তারা মানুষকে তোমার পথ হতে ভ্রষ্ট করে। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করে দাও এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দাও। তারা তো মর্মান্তিক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না। (সূরা ইউনুস– ৮৮)

আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করলেন :

قَالَ قَدْ اُجِيْبَتْ دَّعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيْمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيْلَ الَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ

তিনি বললেন, তোমাদের দু’জনের দু‘আ কবুল করা হলো, সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাকো এবং অজ্ঞদের পথ অনুসরণ করো না। (সূরা ইউনুস– ৮৯)

আল্লাহ ঈমানদারদেরকে সাথে নিয়ে হিজরত করার নির্দেশ দিলেন :

فَاَسْرِ بِعِبَادِيْ لَيْلًا اِنَّكُمْ مُّتَّبَعُوْنَ

আমি বলেছিলাম, তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হয়ে পড়। নিশ্চয় তোমাদেরকে পেছন থেকে ধাওয়া করা হবে। (সূরা দুখানু ২৩)

ফিরাউন মূসা (আঃ) এর বিরুদ্ধে সৈন্য সংগ্রহ করল :

فَاَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى الْمَدَآئِنِ حَاشِرِيْنَ ‐ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيْلُوْنَ ‐ وَاِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُوْنَ ‐ وَاِنَّا لَجَمِيْعٌ حَاذِرُوْنَ

অতঃপর ফিরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিল। (এ বলে যে) নিশ্চয় এরা একটি ক্ষুদ্র দল, তারা আমাদেরকে ক্রোধান্বিত করেছে। আর আমরা সকলেই একটি সতর্ককারী দল। (সূরা শু‘আরা, ৫৩–৫৬)

আল্লাহ তাদেরকে তাদের ধনসম্পদ হতে বের করে আনলেন :

فَاَخْرَجْنَاهُمْ مِّنْ جَنَّاتٍ وَّعُيُوْنٍ ‐ وَكُنُوْزٍ وَّمَقَامٍ كَرِيْمٍ

ফলে আমি তাদেরকে বহিষ্কৃত করলাম তাদের উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ হতে এবং ধনভান্ডার ও সম্মানজনক বাসস্থান হতে। (সূরা শু‘আরা– ৫৭, ৫৮)

মূসা (আঃ) এর অনুসারীরা ভয় পেয়ে গেলেন :

فَاَتْبَعُوْهُمْ مُّشْرِقِيْنَ ‐ فَلَمَّا تَرَآءَى الْجَمْعَانِ قَالَ اَصْحَابُ مُوْسٰۤى اِنَّا لَمُدْرَكُوْنَ

সূর্যোদয়কালে তারা তাদের পশ্চাতে অনুসরণ করল। অতঃপর যখন দু’দল পরস্পরকে দেখতে পেল, তখন মূসার সাথিরা বলল, আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম! (সূরা শু‘আরা– ৬০, ৬১)

মূসা (আঃ) তাদেরকে সাহস যোগালেন :

قَالَ كَلَّاۚ اِنَّ مَعِيَ رَبِّيْ سَيَهْدِيْنِ

মূসা বলল, কখনই নয়! আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে রয়েছেন, অতি শীঘ্রই তিনি আমাকে পথনির্দেশ করবেন। (সূরা শু‘আরা– ৬২)

আল্লাহ তাদেরকে ভয় করতে নিষেধ করলেন :

وَلَقَدْ اَوْحَيْنَاۤ اِلٰى مُوْسٰۤى اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِيْ فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِيْقًا فِى الْبَحْرِ يَبَسًا لَّا تَخَافُ دَرَكًا وَّلَا تَخْشٰى

আমি অবশ্যই মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম এ মর্মে যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্য দিয়ে এক শুষ্ক পথ নির্মাণ করো। আর তুমি এ আশঙ্কা করো না যে, পেছন হতে এসে তারা তোমাকে ধরে ফেলবে। অতঃপর তুমি অন্য কোন ভয়ও করো না। (সূরা ত্বা–হা– ৭৭)

মূসা (আঃ) কে লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত করতে বললেন :

فَاَوْحَيْنَاۤ اِلٰى مُوْسٰۤى اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْبَحْرَؕ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيْمِ

অতঃপর মূসার প্রতি ওহী করলাম যে, তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো। ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল বিশাল পবর্তের মতো রূপ নিল। (সূরা শু‘আরা– ৬৩)

মূসা (আঃ) ও তার সাথিদের উদ্ধার করা হলো :

وَاَنْجَيْنَا مُوْسٰى وَمَنْ مَّعَهٗۤ اَجْمَعِيْنَ

অতঃপর আমি উদ্ধার করলাম মূসা ও তার সাথিদের সকলকে। (সূরা শু‘আরা– ৬৫)

বনী ইসরাঈলরা সমুদ্র পার হয়ে গেল :

وَجَاوَزْنَا بِبَنِيْۤ اِسْرَآئِيْلَ الْبَحْرَ

আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করালাম। (সূরা ইউনুস– ৯০)