hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬৯

অধ্যায়- ৬ : ঈসা (আঃ) এর সাথিদের বর্ণনা

হাওয়ারীরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ঈমান আনল :

وَاِذْ اَوْحَيْتُ اِلَى الْحَوَارِيِّيْنَ اَنْ اٰمِنُوْا بِيْ وَبِرَسُوْلِيْۚ قَالُوْاۤ اٰمَنَّا وَاشْهَدْ بِاَنَّنَا مُسْلِمُوْنَ

স্মরণ করো, যখন আমি হাওয়ারীদেরকে এ আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করো। তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং তুমি সাক্ষী থেকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম। (সূরা মায়েদা– ১১১)

তারা দ্বীনের কাজে নবীর সাহায্যকারীতে পরিণত হলো :

قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّيْنَ مَنْ اَنْصَارِيْۤ اِلَى اللهِ قَالَ الْحَوَارِيُّوْنَ نَحْنُ اَنْصَارُ اللهِ

মারইয়ামের পুত্র ঈসা হাওয়ারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? তখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, আমরাই তো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। (সূরা সাফু ১৪)

فَلَمَّاۤ اَحَسَّ عِيْسٰى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ اَنْصَارِيْۤ اِلَى اللهِؕ قَالَ الْحَوَارِيُّوْنَ نَحْنُ اَنْصَارُ اللهِۚ اٰمَنَّا بِاللهِۚ وَاشْهَدْ بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ

অতঃপর ঈসা যখন তাদের মধ্যে কুফরী অনুভব করল তখন বলল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? তখন হাওয়ারীরা বলেছিল, আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হব, কেননা আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম। (সূরা আলে ইমরানু ৫২)

তারা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করল :

رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ

(তারা বলল) হে আমাদের রব! আপনি যা নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং রাসূলের আনুগত্য করেছি। সুতরাং আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সূরা আলে ইমরানু ৫৩)

হাওয়ারীরা নবীর নিকট আসমানী খাদ্য প্রার্থনা করল :

اِذْ قَالَ الْحَوَارِيُّوْنَ يَا عِيْسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيْعُ رَبُّكَ اَنْ يُّنَزِّلَ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَآءِؕ قَالَ اتَّقُوا اللهَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

স্বরণ করো, যখন হাওয়ারীরা বলেছিল, হে মারইয়ামের ছেলে ঈসা! তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করতে সক্ষম? তখন সে বলেছিল, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক তবে আল্লাহকে ভয় করো। (সূরা মায়েদা– ১১২)

তারা তাদের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করল :

قَالُوْا نُرِيْدُ اَنْ نَّأْكُلَ مِنْهَا وَتَطْمَئِنَّ قُلُوْبُنَا وَنَعْلَمَ اَنْ قَدْ صَدَقْتَنَا وَنَكُوْنَ عَلَيْهَا مِنَ الشَّاهِدِيْنَ

তারা বলেছিল, আমরা চাই যে, তা হতে কিছু খাব এবং আমাদের চিত্ত প্রশান্ত করব। আর আমরা জানতে চাই যে, তুমি আমাদেরকে সত্য বলছ এবং আমরাই তার সাক্ষী। (সূরা মায়েদা– ১১৩)

ঈসা (আঃ) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন :

قَالَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَاۤ اَنْزِلْ عَلَيْنَا مَآئِدَةً مِّنَ السَّمَآءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰيَةً مِّنْكَ وَارْزُقْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِيْنَ

মারইয়ামের ছেলে ঈসা বলল, হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন; এটা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হবে আনন্দোৎসব এবং তোমার পক্ষ থেকে নিদর্শন। আর আমাদেরকে জীবিকা দান করো; তুমিই তো শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা। (সূরা মায়েদা– ১১৪)

আল্লাহ তাদেরকে সে খাবার দান করলেন এবং সতর্ক করলেন :

قَالَ اللهُ اِنِّيْ مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْۚ فَمَنْ يَّكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَاِنِّۤيْ اُعَذِّبُهٗ عَذَابًا لَّاۤ اُعَذِّبُهٗۤ اَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِيْنَ

আল্লাহ বললেন, আমিই তোমাদের নিকট তা প্রেরণ করব। কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ কুফরী করলে তাকে এমন শাস্তি দেব, যা বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেয়া হয়নি। (সূরা মায়েদা– ১১৫)