hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮০

অধ্যায়- ১১ : ইবরাহীম (আঃ) এর হিজরত

ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর উদ্দেশ্যে হিজরত করলেন :

وَقَالَ اِنِّيْ مُهَاجِرٌ اِلٰى رَبِّيْؕ اِنَّهٗ هُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

ইবরাহীম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি। নিশ্চয় তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আনকাবূত– ২৬)

وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوْطًا اِلَى الْاَرْضِ الَّتِيْ بَارَكْنَا فِيْهَا لِلْعَالَمِيْنَ

আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সে দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ রেখে দিয়েছি। (সূরা আম্বিয়া– ৭১)

হিজরত করার সময় যা বললেন :

وَاَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَاَدْعُوْا رَبِّيْؕ عَسٰۤى اَلَّاۤ اَكُوْنَ بِدُعَآءِ رَبِّيْ شَقِيًّا

আমি তোমাদের হতে ও তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদাত করো তাদের হতে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। আমি আমার প্রতিপালককে আহবান করি; আশা করি, আমার প্রতিপালককে আহবান করে আমি ব্যর্থ হব না। (সূরা মারইয়াম– ৪৮)

وَقَالَ اِنِّيْ ذَاهِبٌ اِلٰى رَبِّيْ سَيَهْدِيْنِ

ইবরাহীম বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের দিকে চললাম, তিনিই আমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।

(সূরা সাফ্ফাত– ৯৯)

ব্যাখ্যা : এর অর্থ হচ্ছে, আমি আল্লাহর জন্য বের হয়ে পড়েছি। কারণ আমি নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছি, ফলে আমার জাতি আমার শত্রু হয়ে গেছে। নয়তো আমার ও তাদের মধ্যে পার্থিব কোন ঝগড়া ছিল না। তাছাড়া দুনিয়ায় আমার যাওয়ার মতো কোন ঠিকানাও নেই। সমগ্র দেহ-প্রাণকে তাকদীরের হাতে ছেড়ে দিয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে বের হয়েছি। তিনি যেদিকে নিয়ে যাবেন সেদিকেই চলে যাব।

হিজরতের পর আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ :

فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَؕ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا ‐ وَوَهَبْنَا لَهُمْ مِّنْ رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا

অতঃপর সে যখন তাদের ও আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের ইবাদাত করত তাদের হতে পৃথক হয়ে গেল, তখন আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকূবকে দান করলাম। আর প্রত্যেককেই নবী হিসেবে মনোনীত করলাম। আর আমি তাদেরকে আমার অনুগ্রহ দান করলাম ও তাদের নাম–যশ সমুচ্চ করলাম।

(সূরা মারইয়াম– ৪৯, ৫০)

দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে কল্যাণ দেয়া হয়েছে :

وَاٰتَيْنَاهُ فِى الدُّنْيَا حَسَنَةًؕ وَاِنَّهٗ فِى الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِيْنَ

আমি তাকে দুনিয়ায় মঙ্গল দান করেছিলাম এবং আখিরাতেও (মঙ্গল দান করেছিলাম), নিশ্চয় সে সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম। (সূরা নাহল– ১২২)

ইবরাহীম (আঃ) এর ইতিহাস স্মরণীয় :

وَاذْكُرْ فِى الْكِتَابِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّيْقًا نَّبِيًّا

স্মরণ করো, এ কিতাবে উল্লেখিত ইবরাহীমের কথা; সে ছিল সত্যনিষ্ঠ নবী। (সূরা মারইয়াম– ৪১)

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ اِبْرَاهِيْمَ

তাদের নিকট ইবরাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা করো। (সূরা শু‘আরা – ৬৯)

তার জীবনীতে অনেক শিক্ষা রয়েছে :

اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةًؕ وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়। (সূরা শু‘আরা– ১০৩)

ইবরাহীম (আঃ) এর প্রতি সালাম :

سَلَامٌ عَلٰۤى اِبْرَاهِيْمَ

‘সালাম’ বর্ষিত হোক ইবরাহীমের উপর। (সূরা সাফ্ফাত– ১০৯)