১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫২৯
অধ্যায়- ১২ : ফিরাউন ও তার জাতির অভ্যাস
ফিরাউন ছিল সীমালঙ্ঘনকারী :
وَاِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِى الْاَرْضِۚ وَاِنَّهٗ لَمِنَ الْمُسْرِفِيْنَ
বস্তুত (আল্লাহর) জমিনে ফিরাউন ছিল প্রভাবশালী। নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা ইউনুস– ৮৩)
সে ছিল ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও জাতির উপর নির্যাতনকরী :
اِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِى الْاَرْضِ وَجَعَلَ اَهْلَهَا شِيَعًا يَّسْتَضْعِفُ طَآئِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ اَبْنَآءَهُمْ وَيَسْتَحْيِيْ نِسَآءَهُمْؕ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ
নিশ্চয় ফিরাউন জমিনে প্রভাবশালী হয়েছিল উঠেছিল এবং সেখানকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে তাদের একটি শ্রেণিকে হীনবল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। (সূরা ক্বাসাস– ৪)
ফিরাউন মুসলিমদের পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করত :
قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبْنَآءَهُمْ وَنَسْتَحْيِيْ نِسَآءَهُمْۚ وَاِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُوْنَ
সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব। আমরা তো তাদের উপর প্রবল। (সূরা আ‘রাফু ১২৭)
সে তার জাতিকে ভ্রষ্ট করেছে :
وَاَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهٗ وَمَا هَدٰى
আর ফিরাউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি। (সূরা ত্বা–হা– ৭৯)
সে নিজেকে নবীর চেয়ে উত্তম মনে করত :
اَمْ اَنَاْ خَيْرٌ مِّنْ هٰذَا الَّذِيْ هُوَ مَهِيْنٌ وَّلَا يَكَادُ يُبِيْنُ
আমি তো এই ব্যক্তি হতে শ্রেষ্ঠ, যে হীন এবং যে স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারে না। (সূরা যুখরুফু ৫২)
ধনী না হওয়াতে নবীকে দোষারোপ করত :
فَلَوْلَاۤ اُلْقِيَ عَلَيْهِ اَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ اَوْ جَآءَ مَعَهُ الْمَلَآئِكَةُ مُقْتَرِنِيْنَ
(তিনি যদি নবী হতেন তবে) কেন তাকে স্বর্ণবালা দেয়া হলো না অথবা তার সাথে কেন ফেরেশতারা দলবদ্ধভাবে আগমন করল না। (সূরা যুখরুফু ৫৩)
সে নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল ও অমান্য করল :
فَكَذَّبَ وَعَصٰى
কিন্তু সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং অবাধ্য হলো। (সূরা নাযি‘আত– ২১)
দাওয়াত না মেনে পিছনে ফিরে গেল :
ثُمَّ اَدْبَرَ يَسْعٰى
অতঃপর সে পেছনে ফিরে পূর্বের কর্মে সচেষ্ট হলো। (সূরা নাযি‘আত– ২২)
ফিরাউন নিজেকে বড় রব বলে দাবী করল :
فَحَشَرَ فَنَادٰى ‐ فَقَالَ اَنَاْ رَبُّكُمُ الْاَعْلٰى
সে সকলকে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল যে, আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক। (সূরা নাযি‘আত– ২৩, ২৪)
নিজেকে উপাস্য মনে করল :
وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَاۤ اَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَيْرِيْ فَاَوْقِدْ لِيْ يَا هَامَانُ عَلَى الطِّيْنِ فَاجْعَلْ لِّيْ صَرْحًا لَّعَلِّيْۤ اَطَّلِعُ اِلٰۤى اِلٰهِ مُوْسٰى وَاِنِّيْ لَاَظُنُّهٗ مِنَ الْكَاذِبِيْنَ
ফিরাউন বলল, হে পরিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে বলে আমি তো জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি তাতে উঠে মূসার ইলাহকে দেখতে পারি। তবে আমি মনে করি যে, অবশ্যই সে মিথ্যাবাদী। (সূরা ক্বাসাস– ৩৮)
ফিরাউন নিজের ক্ষমতার জন্য গর্ব করত :
فَتَوَلّٰى بِرُكْنِهٖ وَقَالَ سَاحِرٌ اَوْ مَجْنُوْنٌ
তখন সে ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল (এ ব্যক্তি) এক যাদুকর অথবা উন্মাদ। (সূরা যারিয়াত– ৩৯)
রাজত্বের বড়াই করত :
وَنَادٰى فِرْعَوْنُ فِيْ قَوْمِهٖ قَالَ يَا قَوْمِ اَلَيْسَ لِيْ مُلْكُ مِصْرَ وَهٰذِهِ الْاَنْهَارُ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِيْۚ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ
ফিরাউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘোষণা করল যে, হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের বাদশাহী কি আমার নয়? এ নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা কি তা দেখ না? (সূরা যুখরুফু ৫১)
সে তার জাতিকে দাস বানিয়ে রেখেছিল :
فَقَالُوْاۤ اَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُوْنَ
তারা বলল, আমরা কি এমন দু’ব্যক্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, যারা আমাদেরই মতো (মানুষ) এবং যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে? (সূরা মু’মিনূনু ৪৭)
ফিরাউনের ভয়ে তারা মূসা (আঃ) এর উপর ঈমান আনেনি :
فَمَاۤ اٰمَنَ لِمُوْسٰۤى اِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِّنْ قَوْمِهٖ عَلىٰ خَوْفٍ مِّنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ اَنْ يَّفْتِنَهُمْ
ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নির্যাতনের ভয়ে মূসার সম্প্রদায়ের একদল ব্যতীত আর কেউ তার উপর ঈমান আনেনি। (সূরা ইউনুস– ৮৩)
তারা ফিরাউনের আদেশ মেনে চলত :
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰى بِاٰيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِيْنٍ ‐ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ فَاتَّبَعُوْاۤ اَمْرَ فِرْعَوْنَ
আমি তো মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি ও স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে ফিরাউন ও তার প্রধানদের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু তারা ফিরাউনের কার্যকলাপের অনুসরণ করল। (সূরা হুদু ৯৬, ৯৭)
অথচ ফিরাউনের কার্যকলাপ সঠিক ছিল না :
وَمَاۤ اَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيْدٍ
ফিরাউনের কার্যকলাপ সঠিক ছিল না। (সূরা হুদু ৯৭)
ফিরাউনের জাতি ছিল অপরাধী :
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ ۢبَعْدِهِمْ مُّوْسٰى وَهَارُوْنَ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ بِاٰيَاتِنَا فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا مُّجْرِمِيْنَ
তারপর মূসা ও হারূনকে আমার নিদর্শনসহ ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু তারা অহংকার করেছিল এবং তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়। (সূরা ইউনুস– ৭৫)
তারা ছিল কীলকের অধিকারী :
وَفِرْعَوْنَ ذِى الْاَوْتَادِ
বহু কীলকের অধিপতি ফিরাউন। (সূরা ফাজ্র– ১০)
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّعَادٌ وَّفِرْعَوْنُ ذُو الْاَوْتَادِ
তাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ এবং বহু কীলকের মালিক ফিরাউন। (সূরা সোয়াদু ১২)
ব্যাখ্যা : ফিরাউনের জন্য ذِى الْاَوْتَادِ (যিল আওতাদ) তথা কীলক বা পেরেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু তার ক্ষমতা এতই মজবুত ছিল, যেন জমিনে পেরেক পোঁতা রয়েছে। তার বিপুলসংখ্যক সৈন্য যেখানেই অবস্থান করত সেখানের চারদিকে কেবল তাঁবুর খুঁটিই দেখা যেত। আবার পেরেক বলতে মিসরের পিরামিডও বুঝানো যেতে পারে। কেননা এগুলো জমিনের মধ্যে পেরেকের মতো গাঁথা রয়েছে।
তারা অহংকার করত :
ثُمَّ اَرْسَلْنَا مُوْسٰى وَاَخَاهُ هَارُوْنَ بِاٰيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِيْنٍ ‐ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا عَالِيْنَ
অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট পাঠালাম। কিন্তু তারা অহংকার করল; কেননা তারা ছিল ঔদ্ধত্য সম্প্রদায়।
(সূরা মু’মিনূনু ৪৫, ৪৬)
وَلَقَدْ جَآءَهُمْ مُّوْسٰى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوْا فِى الْاَرْضِ وَمَا كَانُوْا سَابِقِيْنَ
মূসা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। কিন্তু তারা পৃথিবীতে অহংকার করেই চলল, ফলে তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি। (সূরা আনকাবূত– ৩৯)
তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে বিশ্বাস করত না :
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُوْدُهٗ فِى الْاَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوْاۤ اَنَّهُمْ اِلَيْنَا لَا يُرْجَعُوْنَ
ফিরাউন ও তার বাহিনী পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না। (সূরা ক্বাসাস– ৩৯)
তারা ছিল যালিম সম্প্রদায় :
وَاَغْرَقْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ وَكُلٌّ كَانُوْا ظَالِمِيْنَ
আমি ফিরাউনের সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করেছি। আর তারা সকলেই ছিল যালিম। (সূরা আনফাল– ৫৪)
তারা ছিল ফাসিক সম্প্রদায় :
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهٗ فَاَطَاعُوْهُؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فَاسِقِيْنَ
এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতভম্ব করে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক সম্প্রদায়। (সূরা যুখরুফু ৫৪)
তারা পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘন করত :
اَلَّذِيْنَ طَغَوْا فِى الْبِلَادِ
তারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। (সূরা ফাজ্র– ১১)
তারা বহু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে :
فَاَكْثَرُوْا فِيْهَا الْفَسَادَ
অতঃপর সেখানে তারা ব্যাপক অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। (সূরা ফাজ্র– ১২)
তাদের নেতারা জাতিকে জাহান্নামের দিকে পথ দেখাত :
وَجَعَلْنَاهُمْ اَئِمَّةً يَّدْعُوْنَ اِلَى النَّارِۚ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُوْنَ
তাদেরকে আমি নেতা বানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করত। সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। (সূরা ক্বাসাস– ৪১)
তারা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করত :
كَدَأْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْؕ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَاۚ فَاَخَذَهُمُ اللهُ بِذُنُوْبِهِمْؕ وَاللهُ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
যেমন আচরণ করেছিল ফিরাউনের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তীরা, তারা আমার নিদর্শনাবলিকে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলেন। আর আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা আলে ইমরানু ১১)
তারা সকল নিদর্শনকে মিথ্যারোপ করল :
وَلَقَدْ جَآءَ اٰلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ ‐ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَا كُلِّهَا فَاَخَذْنَاهُمْ اَخْذَ عَزِيْزٍ مُّقْتَدِرٍ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের নিকটও সতর্কবাণী এসেছিল, কিন্তু তারা আমার সকল নিদর্শন মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান হিসেবে আমি তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করলাম। (সূরা ক্বামার– ৪১, ৪২)
وَاِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِى الْاَرْضِۚ وَاِنَّهٗ لَمِنَ الْمُسْرِفِيْنَ
বস্তুত (আল্লাহর) জমিনে ফিরাউন ছিল প্রভাবশালী। নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা ইউনুস– ৮৩)
সে ছিল ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও জাতির উপর নির্যাতনকরী :
اِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِى الْاَرْضِ وَجَعَلَ اَهْلَهَا شِيَعًا يَّسْتَضْعِفُ طَآئِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ اَبْنَآءَهُمْ وَيَسْتَحْيِيْ نِسَآءَهُمْؕ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ
নিশ্চয় ফিরাউন জমিনে প্রভাবশালী হয়েছিল উঠেছিল এবং সেখানকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে তাদের একটি শ্রেণিকে হীনবল করে দিয়েছিল। সে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করত এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। (সূরা ক্বাসাস– ৪)
ফিরাউন মুসলিমদের পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করত :
قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبْنَآءَهُمْ وَنَسْتَحْيِيْ نِسَآءَهُمْۚ وَاِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُوْنَ
সে বলল, আমরা তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করব এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব। আমরা তো তাদের উপর প্রবল। (সূরা আ‘রাফু ১২৭)
সে তার জাতিকে ভ্রষ্ট করেছে :
وَاَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهٗ وَمَا هَدٰى
আর ফিরাউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি। (সূরা ত্বা–হা– ৭৯)
সে নিজেকে নবীর চেয়ে উত্তম মনে করত :
اَمْ اَنَاْ خَيْرٌ مِّنْ هٰذَا الَّذِيْ هُوَ مَهِيْنٌ وَّلَا يَكَادُ يُبِيْنُ
আমি তো এই ব্যক্তি হতে শ্রেষ্ঠ, যে হীন এবং যে স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারে না। (সূরা যুখরুফু ৫২)
ধনী না হওয়াতে নবীকে দোষারোপ করত :
فَلَوْلَاۤ اُلْقِيَ عَلَيْهِ اَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ اَوْ جَآءَ مَعَهُ الْمَلَآئِكَةُ مُقْتَرِنِيْنَ
(তিনি যদি নবী হতেন তবে) কেন তাকে স্বর্ণবালা দেয়া হলো না অথবা তার সাথে কেন ফেরেশতারা দলবদ্ধভাবে আগমন করল না। (সূরা যুখরুফু ৫৩)
সে নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল ও অমান্য করল :
فَكَذَّبَ وَعَصٰى
কিন্তু সে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং অবাধ্য হলো। (সূরা নাযি‘আত– ২১)
দাওয়াত না মেনে পিছনে ফিরে গেল :
ثُمَّ اَدْبَرَ يَسْعٰى
অতঃপর সে পেছনে ফিরে পূর্বের কর্মে সচেষ্ট হলো। (সূরা নাযি‘আত– ২২)
ফিরাউন নিজেকে বড় রব বলে দাবী করল :
فَحَشَرَ فَنَادٰى ‐ فَقَالَ اَنَاْ رَبُّكُمُ الْاَعْلٰى
সে সকলকে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল যে, আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক। (সূরা নাযি‘আত– ২৩, ২৪)
নিজেকে উপাস্য মনে করল :
وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَاۤ اَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَيْرِيْ فَاَوْقِدْ لِيْ يَا هَامَانُ عَلَى الطِّيْنِ فَاجْعَلْ لِّيْ صَرْحًا لَّعَلِّيْۤ اَطَّلِعُ اِلٰۤى اِلٰهِ مُوْسٰى وَاِنِّيْ لَاَظُنُّهٗ مِنَ الْكَاذِبِيْنَ
ফিরাউন বলল, হে পরিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে বলে আমি তো জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি তাতে উঠে মূসার ইলাহকে দেখতে পারি। তবে আমি মনে করি যে, অবশ্যই সে মিথ্যাবাদী। (সূরা ক্বাসাস– ৩৮)
ফিরাউন নিজের ক্ষমতার জন্য গর্ব করত :
فَتَوَلّٰى بِرُكْنِهٖ وَقَالَ سَاحِرٌ اَوْ مَجْنُوْنٌ
তখন সে ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল (এ ব্যক্তি) এক যাদুকর অথবা উন্মাদ। (সূরা যারিয়াত– ৩৯)
রাজত্বের বড়াই করত :
وَنَادٰى فِرْعَوْنُ فِيْ قَوْمِهٖ قَالَ يَا قَوْمِ اَلَيْسَ لِيْ مُلْكُ مِصْرَ وَهٰذِهِ الْاَنْهَارُ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِيْۚ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ
ফিরাউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘোষণা করল যে, হে আমার সম্প্রদায়! মিসরের বাদশাহী কি আমার নয়? এ নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা কি তা দেখ না? (সূরা যুখরুফু ৫১)
সে তার জাতিকে দাস বানিয়ে রেখেছিল :
فَقَالُوْاۤ اَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُوْنَ
তারা বলল, আমরা কি এমন দু’ব্যক্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, যারা আমাদেরই মতো (মানুষ) এবং যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে? (সূরা মু’মিনূনু ৪৭)
ফিরাউনের ভয়ে তারা মূসা (আঃ) এর উপর ঈমান আনেনি :
فَمَاۤ اٰمَنَ لِمُوْسٰۤى اِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِّنْ قَوْمِهٖ عَلىٰ خَوْفٍ مِّنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ اَنْ يَّفْتِنَهُمْ
ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নির্যাতনের ভয়ে মূসার সম্প্রদায়ের একদল ব্যতীত আর কেউ তার উপর ঈমান আনেনি। (সূরা ইউনুস– ৮৩)
তারা ফিরাউনের আদেশ মেনে চলত :
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰى بِاٰيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِيْنٍ ‐ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ فَاتَّبَعُوْاۤ اَمْرَ فِرْعَوْنَ
আমি তো মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি ও স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে ফিরাউন ও তার প্রধানদের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু তারা ফিরাউনের কার্যকলাপের অনুসরণ করল। (সূরা হুদু ৯৬, ৯৭)
অথচ ফিরাউনের কার্যকলাপ সঠিক ছিল না :
وَمَاۤ اَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيْدٍ
ফিরাউনের কার্যকলাপ সঠিক ছিল না। (সূরা হুদু ৯৭)
ফিরাউনের জাতি ছিল অপরাধী :
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ ۢبَعْدِهِمْ مُّوْسٰى وَهَارُوْنَ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ بِاٰيَاتِنَا فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا مُّجْرِمِيْنَ
তারপর মূসা ও হারূনকে আমার নিদর্শনসহ ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু তারা অহংকার করেছিল এবং তারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়। (সূরা ইউনুস– ৭৫)
তারা ছিল কীলকের অধিকারী :
وَفِرْعَوْنَ ذِى الْاَوْتَادِ
বহু কীলকের অধিপতি ফিরাউন। (সূরা ফাজ্র– ১০)
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّعَادٌ وَّفِرْعَوْنُ ذُو الْاَوْتَادِ
তাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ এবং বহু কীলকের মালিক ফিরাউন। (সূরা সোয়াদু ১২)
ব্যাখ্যা : ফিরাউনের জন্য ذِى الْاَوْتَادِ (যিল আওতাদ) তথা কীলক বা পেরেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু তার ক্ষমতা এতই মজবুত ছিল, যেন জমিনে পেরেক পোঁতা রয়েছে। তার বিপুলসংখ্যক সৈন্য যেখানেই অবস্থান করত সেখানের চারদিকে কেবল তাঁবুর খুঁটিই দেখা যেত। আবার পেরেক বলতে মিসরের পিরামিডও বুঝানো যেতে পারে। কেননা এগুলো জমিনের মধ্যে পেরেকের মতো গাঁথা রয়েছে।
তারা অহংকার করত :
ثُمَّ اَرْسَلْنَا مُوْسٰى وَاَخَاهُ هَارُوْنَ بِاٰيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِيْنٍ ‐ اِلٰى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهٖ فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا عَالِيْنَ
অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট পাঠালাম। কিন্তু তারা অহংকার করল; কেননা তারা ছিল ঔদ্ধত্য সম্প্রদায়।
(সূরা মু’মিনূনু ৪৫, ৪৬)
وَلَقَدْ جَآءَهُمْ مُّوْسٰى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوْا فِى الْاَرْضِ وَمَا كَانُوْا سَابِقِيْنَ
মূসা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। কিন্তু তারা পৃথিবীতে অহংকার করেই চলল, ফলে তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি। (সূরা আনকাবূত– ৩৯)
তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে বিশ্বাস করত না :
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُوْدُهٗ فِى الْاَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوْاۤ اَنَّهُمْ اِلَيْنَا لَا يُرْجَعُوْنَ
ফিরাউন ও তার বাহিনী পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিল। তারা মনে করেছিল যে, তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না। (সূরা ক্বাসাস– ৩৯)
তারা ছিল যালিম সম্প্রদায় :
وَاَغْرَقْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ وَكُلٌّ كَانُوْا ظَالِمِيْنَ
আমি ফিরাউনের সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করেছি। আর তারা সকলেই ছিল যালিম। (সূরা আনফাল– ৫৪)
তারা ছিল ফাসিক সম্প্রদায় :
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهٗ فَاَطَاعُوْهُؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فَاسِقِيْنَ
এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতভম্ব করে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক সম্প্রদায়। (সূরা যুখরুফু ৫৪)
তারা পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘন করত :
اَلَّذِيْنَ طَغَوْا فِى الْبِلَادِ
তারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল। (সূরা ফাজ্র– ১১)
তারা বহু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে :
فَاَكْثَرُوْا فِيْهَا الْفَسَادَ
অতঃপর সেখানে তারা ব্যাপক অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। (সূরা ফাজ্র– ১২)
তাদের নেতারা জাতিকে জাহান্নামের দিকে পথ দেখাত :
وَجَعَلْنَاهُمْ اَئِمَّةً يَّدْعُوْنَ اِلَى النَّارِۚ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُوْنَ
তাদেরকে আমি নেতা বানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করত। সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। (সূরা ক্বাসাস– ৪১)
তারা আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করত :
كَدَأْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْؕ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَاۚ فَاَخَذَهُمُ اللهُ بِذُنُوْبِهِمْؕ وَاللهُ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
যেমন আচরণ করেছিল ফিরাউনের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তীরা, তারা আমার নিদর্শনাবলিকে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলেন। আর আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা আলে ইমরানু ১১)
তারা সকল নিদর্শনকে মিথ্যারোপ করল :
وَلَقَدْ جَآءَ اٰلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ ‐ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَا كُلِّهَا فَاَخَذْنَاهُمْ اَخْذَ عَزِيْزٍ مُّقْتَدِرٍ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের নিকটও সতর্কবাণী এসেছিল, কিন্তু তারা আমার সকল নিদর্শন মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ফলে পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান হিসেবে আমি তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করলাম। (সূরা ক্বামার– ৪১, ৪২)