hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬১৩

অধ্যায়- ৪১ : হুদায়বিয়া সফরে দুর্বল ঈমানদারদের কার্যকলাপ

তারা মিথ্যা অজুহাত পেশ করল :

سَيَقُوْلُ لَكَ الْمُخَلَّفُوْنَ مِنَ الْاَعْرَابِ شَغَلَتْنَاۤ اَمْوَالُنَا وَاَهْلُوْنَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَاۚ يَقُوْلُوْنَ بِاَلْسِنَتِهِمْ مَّا لَيْسَ فِيْ قُلُوْبِهِمْ قُلْ فَمَنْ يَّمْلِكُ لَكُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًا اِنْ اَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا اَوْ اَرَادَ بِكُمْ نَفْعًاؕ بَلْ كَانَ اللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرًا

(হে রাসূল!) বেদুঈনদের মধ্যে যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তারা এখন আপনাকে বলবে, আমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানাদির চিন্তা আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছিল; সুতরাং আপনি আমাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করুন। (জেনে রাখুন) তারা মুখে ঐসব কথা বলে, যা তাদের অন্তরে নেই। (সুতরাং) তাদেরকে বলে দিন, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করতে চান, তাহলে তোমাদের পক্ষে কে তাঁর ফায়সালাকে বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখে? আর তোমরা যা কিছু করছ তা তো আল্লাহ জানেন। (সূরা ফাতহ- ১১)

ব্যাখ্যা : রাসূল ﷺ ওমরার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য যাদেরকে আহবান করেছিলেন, এখানে সেসব লোকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ঈমানের দাবি সত্ত্বেও তারা কেবল নিজেদের প্রাণের মায়ার খাতিরে ঘর থেকে বের হয়নি। তারা মনে করেছিল, এমন সময় ওমরার জন্য কুরাইশদের গৃহে যাওয়ার অর্থ নিজেদেরকে মরণের মুখেই ফেলে দেয়া।

তারা ভেবেছিল মুসলিমরা ফিরে আসবে না :

بَلْ ظَنَنْتُمْ اَنْ لَّنْ يَّنْقَلِبَ الرَّسُوْلُ وَالْمُؤْمِنُوْنَ اِلٰۤى اَهْلِيْهِمْ اَبَدًا وَّزُيِّنَ ذٰلِكَ فِيْ قُلُوْبِكُمْ وَظَنَنْتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنْتُمْ قَوْمًا ۢبُوْرًا

(তোমরা যা বলছ তা আসল কথা নয়) বরং তোমরা এ ধারণা করেছিলে যে, রাসূল ও মুমিনগণ তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না। এ ধারণাটা তোমাদের মনে খুব ভালোভাবেই গেঁথে গিয়েছিল। তোমরা খুবই খারাপ ধারণা করেছিলে, সুতরাং তোমরা বড়ই খারাপ মনের সম্প্রদায়। (সূরা ফাতহ- ১২)

তাদের এ কাজকে কুফরী কাজ বলা হয়েছে :

وَمَنْ لَّمْ يُؤْمِنْ ۢبِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ فَاِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِيْنَ سَعِيْرًا

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনয়ন করে না, এমন কাফিরদের জন্য আমি দাউ দাউ করে জ্বলন্ত আগুনের ব্যবস্থা করে রেখেছি। (সূরা ফাতহ- ১৩)

সংশোধন হয়ে গেলে ক্ষমা করে দেয়ার আশা দেয়া হয় :

وَلِلّٰهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِؕ يَغْفِرُ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَّشَآءُؕ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا

আল্লাহই আসমানসমূহ ও জমিনের বাদশাহীর মালিক। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে চান শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ফাতহ- ১৪)