hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২০

অধ্যায়- ৩ : শয়তানের বিরুদ্ধে মুমিনের করণীয়

শয়তান ভুল পথে নিয়ে গেলে ফিরে আসতে হবে :

وَاِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرٰى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ

শয়তান যদি তোমাকে ভুলের মধ্যে ফেলে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না। (সূরা আন‘আম- ৬৮)

শয়তানের বাহিনীর সাথে লড়াই করতে হবে :

فَقَاتِلُوْاۤ اَوْلِيَآءَ الشَّيْطَانِؕ اِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيْفًا

তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; নিশ্চয় শয়তানের কৌশল খুবই দুর্বল। (সূরা নিসা- ৭৬)

শয়তান খাঁটি মুসলিমকে বিভ্রান্ত করতে পারে না :

قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَغْوَيْتَنِيْ لَاُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى الْاَرْضِ وَلَاُغْوِيَنَّهُمْ اَجْمَعِيْنَ – اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ – قَالَ هٰذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ – اِنَّ عِبَادِيْ لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ اِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِيْنَ

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন সেজন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মকে অবশ্যই শোভন করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দাগণ ব্যতীত। আল্লাহ বললেন, এটাই আমার নিকট পৌঁছার সরল পথ, বিভ্রামত্মদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ব্যতীত আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনই ক্ষমতা থাকবে না। (সূরা হিজর, ৩৯-৪২)

قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَاُغْوِيَنَّهُمْ اَجْمَعِيْنَ – اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ

সে বলল, তবে আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবই। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা আপনার খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া। (সূরা সোয়াদ- ৮২, ৮৩)

ব্যাখ্যা : দাসত্ব ও আনুগত্যের পথই হচ্ছে আল্লাহর কাছে পৌঁছার একমাত্র সোজা পথ। যারা এ পথ অবলম্বন করবে তাদের উপর শয়তানের কোন কর্তৃত্ব চলবে না। শয়তান নিজেও স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, তারা তার ফাঁদে পা দেবে না। তবে যারা নিজেরাই দাসত্ব ও আনুগত্যের পথ থেকে সরে এসে নিজেদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথ হারিয়ে ফেলবে, তারা ইবলিসের শিকারে পরিণত হবে। ইবলিসকে কেবলমাত্র ধোঁকা দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, কারো হাত ধরে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়নি।

আল্লাহভীরু লোকেরা শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক থাকে :

اِنَّ الَّذِيْنَ اتَّقَوْا اِذَا مَسَّهُمْ طَآئِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِۚ تَذَكَّرُوْا فَاِذَا هُمْ مُّبْصِرُوْنَ

যারা তাক্বওয়ার অধিকারী শয়তান যখন তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়। (সূরা আ‘রাফ- ২০১)

কুরআন পড়ার সময় শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে :

فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে তখন অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (সূরা নাহল- ৯৮)

শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য দু‘আ করতে হবে :

رَبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ ‐ وَ اَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ يَّحْضُرُوْنِ

বলো, হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন তারা আমার কাছে না আসতে পারে। (সূরা মু’মিনূন- ৯৭, ৯৮)