hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪৮

১৬. ইউনুস (আঃ)

ইউনুস (আঃ) ইরাকের মূছেল নগরীর নিকটবর্তী নীনাওয়া জনপদের অধিবাসীদের প্রতি প্রেরিত হন। তাঁর পিতার নাম ছিল মাত্তা। কুরআন মাজীদে ইউনুস (আঃ) কে কখনো যুন-নূন আবার কখনো সাহেবুল হূত নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে এ দু’টি শব্দের অর্থ হচ্ছে, মাছওয়ালা। একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি উক্ত নামে পরিচিত হন।

ইউনুস (আঃ) ছিলেন নবীদের মধ্যে একজন :

وَاِنَّ يُوْنُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ

আর ইউনুসও ছিলেন রাসূলদের মধ্যে অন্যতম। (সূরা সাফ্ফাত– ১৩৯)

আল্লাহ তাঁকে উচ্চমর্যাদা দান করেছিলেন :

وَيُوْنُسَ وَلُوْطًاؕ وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِيْنَ

ইউনুস ও লূত প্রত্যেককেই (আমি সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম) এবং প্রত্যেককেই বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম। (সূরা আন‘আম– ৮৬)

ইউনুস (আঃ) জাতির নিকট থেকে বেরিয়ে যান :

وَذَا النُّوْنِ اِذْ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنْ لَّنْ نَّقْدِرَ عَلَيْهِ

স্মরণ করো, যুন–নূনুএর কথা, যখন সে ক্রোধভরে বের হয়ে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল আমি তার জন্য শাস্তি নির্ধারণ করব না। (সূরা আম্বিয়া– ৮৭)

বোঝাই করা একটি নৌকায় আরোহণ করেন :

اِذْ اَبَقَ اِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ ‐ فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِيْنَ

যখন তিনি পালিয়ে বোঝাই নৌযানে গিয়ে পৌঁছলেন। অতঃপর তিনি লটারীতে শরীক হলেন এবং অপরাধী সাব্যস্ত হলেন। (সূরা সাফ্ফাত– ১৪০, ১৪১)

ব্যাখ্যা : ইউনুস (আঃ) আল্লাহর পক্ষ হতে আযাব নাযিল হওয়ার সংবাদ পেয়ে আল্লাহর অনুমতি ছাড়াই বেরিয়ে পড়েন। পথিমধ্যে একটি নৌকায় উঠেন। কিন্তু যে নৌকাটিতে তিনি আরোহন করেছিলেন তা নদীতে আটকে যায়। তখন নৌকার আরোহীদের মধ্যে লটারী হয়। উক্ত লটারীতে ইউনুস (আঃ) এর নাম উঠে। ফলে তাকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। অতঃপর একটি মাছ তাকে গিলে ফেলে।

ইউনুস (আঃ) অনেক দিন মাছের পেটে ছিলেন :

فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوَ مُلِيْمٌ

তারপর একটি মাছ তাকে গিলে ফেলল, তখন তিনি নিজেকে তিরস্কার করতে লাগলেন। (সূরা সাফ্ফাত– ১৪২)

তিনি এ তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তাওবা করেন :

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ

তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই; তুমি পবিত্র ও মহান! নিশ্চয় আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (সূরা আম্বিয়া– ৮৭)

আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন :

فَاجْتَبَاهُ رَبُّهٗ فَجَعَلَهٗ مِنَ الصَّالِحِيْنَ

পরিশেষে, তার রব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে দিলেন।

(সূরা ক্বালাম– ৫০)

আল্লাহ ইউনুস (আঃ) কে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন :

فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّؕ وَكَذٰلِكَ نُنْجِى الْمُؤْمِنِيْنَ

তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি দিয়েছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি। (সূরা আম্বিয়া– ৮৮)

মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাকে বের করলেন :

فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيْمٌ ‐ وَاَنْۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّنْ يَّقْطِيْنٍ

অতঃপর আমি তাকে নিক্ষেপ করলাম এক ময়দানে, তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আর আমি উৎপন্ন করলাম তার উপর এক লাউ গাছ। (সূরা সাফ্ফাত– ১৪৫)

তাওবা না করলে তাকে মাছের পেটেই থাকতে হতো :

فَلَوْلَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِيْنَ ‐ لَلَبِثَ فِيْ بَطْنِهٖۤ اِلٰى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ

সুতরাং তিনি যদি তাসবীহ পাঠকারী না হতেন, তবে অবশ্যই কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটে থেকে যেতেন। (সূরা সাফ্ফাত– ১৪৩, ১৪৪)

ইউনুস (আঃ) লোকদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন :

وَاَرْسَلْنَاهُ اِلٰى مِائَةِ اَلْفٍ اَوْ يَزِيْدُوْنَ

আমি তাকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছিলাম এক লক্ষ বা তার চেয়ে বেশি লোকের প্রতি।

(সূরা সাফ্ফাত– ১৪৭)

লোকেরা তার দাওয়াত কবুল করল :

فَاٰمَنُوْا فَمَتَّعْنَاهُمْ اِلٰى حِيْنٍ

তারা ঈমান এনেছিল, ফলে আমি তাদেরকে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত জীবনোপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলাম। (সূরা সাফ্ফাত– ১৪৮)

فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ اٰمَنَتْ فَنَفَعَهَاۤ اِيْمَانُهَاۤ اِلَّا قَوْمَ يُوْنُسَ

তবে ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতীত কোন জনপদবাসী কেন এমন হলো না, যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত? (সূরা ইউনুস– ৯৮)

ফলে তারা আযাব থেকে রেহাই পেল :

لَمَّاۤ اٰمَنُوْا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ اِلٰى حِيْنٍ

যখন তারা ঈমান আনল, তখন আমি তাদের হতে পার্থিব জীবনের অপমানজনক শাস্তি দূর করলাম এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করার সুযোগ দিলাম। (সূরা ইউনুস– ৯৮)