hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭৩

অধ্যায়- ১০ : আমল ওজন করা হবে

সঠিকভাবে আমলের ওজন হবে :

وَنَضَعُ الْمَوَازِيْنَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًاؕ وَاِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَيْنَا بِهَاؕ وَكَفٰى بِنَا حَاسِبِيْنَ

আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না। কারো কর্ম যদি তিল পরিমাণ ওজনেরও হয়, তবুও তা উপস্থিত করব; হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট। (সূরা আম্বিয়া- ৪৭)

ব্যাখ্যা : আল্লাহর আদালতে এমন দাঁড়িপাল্লা কায়েম হবে, যাতে বস্তু ওজন করার পরিবর্তে মানুষের নৈতিক গুণাবলি, কর্মকান্ড ও তার পাপ-পুণ্য ওজন করা হবে। আর যথাযথ ওজন করার পর নৈতিক দিক দিয়ে কোন ব্যক্তি কোন ধরনের মর্যাদার অধিকারী তা জানিয়ে দেবে। পুণ্যবান হলে কী পরিমাণ পুণ্যবান এবং পাপী হলে কী পরিমাণ পাপী- তা জানিয়ে দেবে। একটি দাঁড়িপাল্লা যেমন দু’টি জিনিসের ওজনের পার্থক্য সঠিকভাবে জানিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি আল্লাহর ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লাও প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনের কাজকর্ম যাচাই করে পুণ্য ও পাপের কোন দিকটি প্রবল তা হুবহু বলে দেবে।

যাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে তারা জান্নাতে যাবে :

فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهٗ – فَهُوَ فِيْ عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ

অতএব যার (নেকীর) পাল্লা ভারী হবে, সে সুখী জীবন যাপন করবে। (সূরা ক্বারিয়াহ- ৬, ৭)

তারাই সফলকাম হবে :

وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذِنِ الْحَقُّۚ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

সেদিনের ওজন হবে সঠিক। অতঃপর যাদের (নেকীর) পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। (সূরা আ‘রাফ- ৮)

ব্যাখ্যা : সেদিন ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায় হক বা সত্য ছাড়া অন্য কোন বস্তুর ওজন থাকবে না। আর ওজন ছাড়াও কোন জিনিস সত্য সাব্যস্ত হবে না। ওজনের পরিপ্রেক্ষিতেই সবকিছুর ফায়সালা হবে। মানুষের জীবনের সমগ্র কার্যাবলি দু’টি অংশে বিভক্ত হবে। একটি সৎকাজ এবং অন্যটি অসৎকাজ। মানুষের জীবনের সকল কার্যাবলির ভালো অংশ যদি তার মন্দ অংশের উপর বিজয় লাভ করে, তবেই আখিরাতে তার সাফল্য লাভ করা সম্ভব হবে। আর যে ব্যক্তির মন্দকাজগুলো তার সমস্ত ভালো কাজকে মূল্যহীন করে দেবে তার অবস্থা হবে সেই দেউলিয়া ব্যবসায়ীর মতো, যার সকল পুঁজি দেনা পরিশোধ করতে করতেই শেষ হয়ে যায়, তারপরও দেনা শেষ হয় না।

فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম। (সূরা মু’মিনূন- ১০২)

যাদের নেকীর পাল্লা হালকা হবে, তারা জাহান্নামে যাবে :

وَاَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِيْنُهٗ – فَاُمُّهٗ هَاوِيَةٌ – وَمَاۤ اَدْرَاكَ مَا هِيَهْ – نَارٌ حَامِيَةٌ

যার (নেকীর) পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে ‘হাবিয়া’। আর আপনি কি জানেন তা কী? তা হচ্ছে প্রজ্বলিত অগ্নি। (সূরা ক্বারিয়াহ, ৮-১১)

তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে :

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ خَسِرُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ فِيْ جَهَنَّمَ خَالِدُوْنَ – تَلْفَحُ وُجُوْهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيْهَا كَالِحُوْنَ

যাদের (নেকীর) পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। অগ্নি তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে, সুতরাং সেখানে তারা থাকবে ভয়ংকর চেহারায়। (সূরা মু’মিনূন- ১০৩, ১০৪)

তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে :

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ خَسِرُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوْا بِاٰيَاتِنَا يَظْلِمُوْنَ

আর যাদের (নেকীর) পাল্লা হালকা হবে, তারা তো নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; যেহেতু তারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করত। (সূরা আ‘রাফ- ৯)

কাফিরদের আমলের কোন ওজনই থাকবে না :

اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاٰيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآئِهٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا

তারাই সেসব লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি ও তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়টিকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়; সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থাই রাখব না। (সূরা কাহফ- ১০৫)