hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৬

অধ্যায়- ৮ : যুদ্ধবন্দীদের বিধান

বন্দীদের ব্যাপারে প্রাথমিক বিধান :

فَاِمَّا مَنًّا ۢبَعْدُ وَاِمَّا فِدَآءً حَتّٰى تَضَعَ الْحَرْبُ اَوْزَارَهَا

যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর তোমরা ইচ্ছা করলে বন্দীদের প্রতি দয়া করবে বা ফিদিয়া নিয়ে ছেড়ে দেবে।

(সূরা মুহাম্মাদ- ৪)

বন্দীদের ব্যাপারে পরবর্তী বিধান :

مَا كَانَ لِنَبِيٍّ اَنْ يَّكُوْنَ لَهٗۤ اَسْرٰى حَتّٰى يُثْخِنَ فِى الْاَرْضِؕ تُرِيْدُوْنَ عَرَضَ الدُّنْيَاۗ وَاللهُ يُرِيْدُ الْاٰخِرَةَؕ وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ

দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দীদেরকে আটকে রাখা কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয়। তোমরা শুধু পার্থিব সম্পদের আশা পোষণ কর, কিন্তু আল্লাহ পরকালের কল্যাণ চান; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আনফাল- ৬৭)

ব্যাখ্যা : বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের যেসব লোক বন্দী হয়েছিল তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হবে- এ নিয়ে পরামর্শ হয়। আবু বকর (রাঃ) পরামর্শ দেন, তাদের কাছ থেকে ফিদিয়া (মুক্তিপণ) নিয়ে ছেড়ে দেয়া হোক। ওমর (রাঃ) বলেন, তাদেরকে হত্যা করা হোক। অবশেষে নবী ﷺ তাঁর নম্র স্বভাবের কারণে আবু বকর (রাঃ) এর মতটিই গ্রহণ করেন। অথচ ওমর (রাঃ) এর মতটিই অধিক উত্তম ছিল। ফলে আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন।

يَاۤ اَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّمَنْ فِۤيْ اَيْدِيْكُمْ مِّنَ الْاَسْرٰۤى اِنْ يَّعْلَمِ اللهُ فِيْ قُلُوْبِكُمْ خَيْرًا يُّؤْتِكُمْ خَيْرًا مِّمَّاۤ اُخِذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ ‐ وَاِنْ يُّرِيْدُوْا خِيَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللهَ مِنْ قَبْلُ فَاَمْكَنَ مِنْهُمْؕ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ

হে নবী! তোমাদের হস্তগত যুদ্ধবন্দীদেরকে বলো, আল্লাহ যদি তোমাদের হৃদয়ে ভালো কিছু দেখেন, তবে তোমাদের নিকট হতে যা নেয়া হয়েছে তার চেয়ে আরো উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তারা তোমার সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করতে চাইলে, তারা তো ইতোপূর্বে আল্লাহর সাথেও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। অতঃপর তিনি (তোমাদেরকে) তাদের উপর শক্তিশালী করেছেন; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আনফাল- ৭০, ৭১)