hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩১

অধ্যায়- ৩ : সৎকাজের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

জান্নাত পেতে হলে অবশ্যই সৎকাজ করতে হবে :

اِنَّ الْاَبْرَارَ لَفِيْ نَعِيْمٍ – عَلَى الْاَرَآئِكِ يَنْظُرُوْنَ – تَعْرِفُ فِيْ وُجُوْهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيْمِ – يُسْقَوْنَ مِنْ رَّحِيْقٍ مَّخْتُوْمٍ – خِتَامُهٗ مِسْكٌؕ وَفِيْ ذٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُوْنَ

নিশ্চয় পুণ্যবানগণ থাকবে অতি স্বাচ্ছন্দ্যে (জান্নাতে), তারা সুসজ্জিত আসনে বসে দেখতে থাকবে। তুমি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি অনুভব করবে। অতঃপর তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধতম শরাব হতে পান করানো হবে, এর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। সুতরাং প্রতিযোগীরা এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করুক। (সূরা মুতাফফিফীন, ২২-২৬)

اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ – لِمِثْلِ هٰذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُوْنَ

নিশ্চয় এ তো মহাসাফল্য; এরূপ সফলতার জন্যই কর্মীদের কাজ করা উচিত। (সূরা সাফ্ফাত- ৬০, ৬১)

নেক আমলের বরকতেই জান্নাত লাভ হয় :

اَمَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ جَنَّاتُ الْمَاْوٰىؗ نُزُلًا ۢبِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ

অতএব যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আমলের প্রতিদানস্বরূপ তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত। (সূরা সাজদা- ১৯)

وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِۤيْ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ

এটাই সেই জান্নাত, যা তোমাদের কর্মের প্রতিদানস্বরূপ তোমাদের অধিকারে দেয়া হয়েছে। (সূরা যুখরুফ- ৭২)

اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ طَيِّبِيْنَ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ

ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় যাদের মৃত্যু ঘটায় তাদেরকে বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা নাহল- ৩২)

সৎকর্মের প্রতি আল্লাহর উৎসাহ প্রদান :

فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِؕ اَيْنَ مَا تَكُوْنُوْا يَأْتِ بِكُمُ اللهُ جَمِيْعًاؕ اِنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে ধাবিত হও; তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তোমাদের সকলকেই একত্র করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান। (সূরা বাক্বারা- ১৪৮)

فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَّلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا

যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তার প্রতিপালকের ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক না করে। (সূরা কাহফ- ১১০)

ব্যাখ্যা : সৎকাজ হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা। মানুষের চিন্তাধারা, ধারণা-কল্পনা ও ইচ্ছার পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাই হচ্ছে মন ও মস্তিষ্কের সৎকাজ। খারাপ কথা না বলা এবং হক, ইনসাফ ও সততা অনুযায়ী সব কথা বলাই হচ্ছে কণ্ঠের সৎকাজ। আর মানুষের সমগ্র জীবন আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদাতের মধ্যে অতিবাহিত করাই হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়ের সৎকাজ। সৎকর্মশীলতার জীবন অবলম্বন করার কারণে আপনা আপনিই মানুষের নাফসের সংশোধন হয়ে যায় এবং তাদের অনেক দুর্বলতা দূর হয়ে যায়।

সকল নবী সৎকর্মে অগ্রগামী ছিলেন :

اِنَّهُمْ كَانُوْا يُسَارِعُوْنَ فِى الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَّرَهَبًاؕ وَكَانُوْا لَنَا خَاشِعِيْنَ

তারা (নবীগণ) সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করতেন, তারা আমাকে ডাকতেন আশা ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিলেন আমার নিকট বিনীত। (সূরা আম্বিয়া- ৯০)

নেক আমলের প্রতি পূর্ববর্তী মুমিনদের আগ্রহ :

يُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَيَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُوْنَ فِى الْخَيْرَاتِؕ وَاُولٰٓئِكَ مِنَ الصَّالِحِيْنَ

তারা (আহলে কিতাবের কিছু লোক) আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং কল্যাণের কাজে দ্রুত অগ্রসর হয়। মূলত তারাই সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা আলে ইমরান- ১১৪)

যে ভালো কাজ করবে সে নিজেই তার ফলাফল পাবে :

وَمَنْ جَاهَدَ فَاِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهٖؕ اِنَّ اللهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ

যে ব্যক্তি চেষ্টা করে, সে তো নিজের জন্যই চেষ্টা করে। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগৎ হতে অমুখাপেক্ষী। (সূরা আনকাবূত- ৬)

وَمَنْ تَزَكّٰى فَاِنَّمَا يَتَزَكّٰى لِنَفْسِهٖؕ وَاِلَى اللهِ الْمَصِيْرُ

যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নেয়, সে তো পরিশুদ্ধ হয় নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর সকল প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহরই দিকে। (সূরা ফাতির- ১৮)

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهٖۚ وَمَنْ اَسَآءَ فَعَلَيْهَاؗ ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ

যে সৎ আমল করে, সে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দকর্ম করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা জাসিয়া- ১৫)

ভালো কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করার জন্য আল্লাহর নির্দেশ :

وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوٰى وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الْاِثْمِ وَالْعُدْوَانِ۪ وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিমূলক কাজে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনমূলক কাজে একে অপরের সহযোগিতা করো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর। (সূরা মায়েদা- ২)