hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৭

অধ্যায়- ১১ : মুনাফিকদের সালাত

মুনাফিকদের সালাত ধ্বংস ডেকে আনে :

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ ‐ اَ لَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ

দুর্ভোগ সেসব সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাতের ব্যাপারে গাফিল। (সূরা মাউন- ৪)

তারা লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে :

اَ لَّذِيْنَ هُمْ يُرَآءُوْنَ

যারা লোক দেখানোর জন্য আমল করে। (সূরা মাউন- ৬)

তারা অলস অবস্থায় সালাতে দাঁড়ায় :

اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ يُخَادِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْۚ وَاِذَا قَامُوْاۤ اِلَى الصَّلَاةِ قَامُوْا كُسَالٰى يُرَآءُوْنَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُوْنَ اللهَ اِلَّا قَلِيْلًا

নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করছে; মূলত আল্লাহই তাদেরকে প্রতারণায় ফেলে দিচ্ছেন। যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়। তারা মানুষকে দেখাতে চায়; বস্তুত তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (সূরা নিসা- ১৪২)

ব্যাখ্যা : নবী ﷺ এর জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তি নিয়মিত সালাত আদায় না করে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত না। ইসলামী দলের কোন সদস্যের জামা‘আতের সাথে সালাতে হাজির না থাকাকে সে সময় ঐ ব্যক্তির ইসলামের প্রতি অনাগ্রহের সুস্পষ্ট প্রমাণ মনে করা হতো। আর যদি সে অনবরত কয়েক ওয়াক্ত জামা‘আতে হাজির না থাকত, তাহলে ধরে নেয়া হতো সে মুসলিম নয়। তাই বড় বড় কট্টর মুনাফিকদেরকেও পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে উপস্থিত হতে হতো। কারণ এ ছাড়া তাদের পক্ষে মুসলিমদের দলের অন্তর্ভুক্ত থাকার জন্য দ্বিতীয় কোন পথ ছিল না। আযানের আওয়াজ কানে আসতেই মুনাফিকদের যেন প্রাণ বেরিয়ে যেত। মন চাইতো না তবুও দায়ে ঠেকে তারা ওঠতো। তাদের মসজিদের দিকে আসার ধরন দেখে পরিষ্কার বুঝা যেত যে, তারা স্বতষ্ফূর্তভাবে আসছে না বরং অনিচ্ছায় নিজেদেরকে টেনে টেনে আনছে। তারা জামা‘আত শেষ হওয়ার পর এমনভাবে মসজিদ থেকে পালাত, যেন মনে হতো কয়েদীরা জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাদের ওঠাবসা, চলাফেরা তথা প্রতিটি পদক্ষেপ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিত যে, আল্লাহর যিকিরের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র মানসিক টান ও আগ্রহ নেই।

উল্লেখিত আয়াতসমূহে মুনাফিকদের সালাতের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা হচ্ছে :

১. তারা যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তাদের ঈমান, নিয়ত কিছুই সঠিক নয় এবং তারা আল্লাহকে ভয় করে না।

২. তারা সালাতের মধ্যে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। সালাতের মধ্যে কী পড়েছে তা কিছুই বুঝে না। তাদের সালাতে মনোযোগ থাকে না।

৩. তারা সালাতের আরকান-আহকাম, রুকূ-সিজদা সঠিকভাবে আদায় করে না; বরং কাকের মতো কয়েকটা ঠোকর মেরে সালাতের দায় থেকে মুক্ত হতে চায়।

৪. তাদের সালাতে ইখলাস থাকে না, তারা লোক দেখানো সালাত আদায় করে। মানুষের সামনে নিজেদেরকে সালাত আদায়কারী হিসেবে তুলে ধরাই হলো তাদের সালাতের উদ্দেশ্য। এজন্য যে সালাতে মানুষ কম থাকে সে সালাতে তারা অনুপস্থিত থাকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুনাফিকদের নিকট সবচেয়ে কঠিন সালাত হলো ফজর ও ইশার সালাত। আর তারা যদি জানত এ দু’সালাতে কী কল্যাণ রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো। (সহীহ বুখারী, হা/৬৭৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৫১৪)

৫. তারা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করে না, সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সেটা মুনাফিকের সালাত! সেটা মুনাফিকের সালাত! সেটা মুনাফিকের সালাত! যে বসে বসে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। অতঃপর সূর্য যখন শয়তানের দু’শিঙ্গের মধ্যখানে চলে যায় অর্থাৎ সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে তখন সে উঠে দাঁড়ায় এবং চারটি ঠোকর মারে, এর মধ্যে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। (সহীহ মুসলিম, হা/১৪৪৩)

৬. তারা নিয়মিত সালাত আদায় করে না, মাঝে মধ্যে আদায় করে। এতটুকু সালাত দ্বারা আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। তাই নিয়মিত সালাতের অভ্যাস গড়ে তুলা সকল মুসলিমের উপর ফরয।