hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

অধ্যায়- ৮ : কুরআন সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত

কুরআনের মধ্যে পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই :

وَاتْلُ مَاۤ اُوْحِيَ اِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَؕ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهٖ وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُوْنِهٖ مُلْتَحَدًا

তোমার প্রতিপালকের কিতাব থেকে যা তোমার প্রতি ওহী করা হয়েছে তা পাঠ করে শুনাও। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই। আর তুমি কখনই তাঁকে ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয় খুঁজে পাবে না। (সূরা কাহফ- ২৭)

নবী ﷺ কুরআনের মধ্যে কোন পরিবর্তন করেননি :

قُلْ مَا يَكُوْنُ لِۤيْ اَنْ اُبَدِّلَهٗ مِنْ تِلْقَآءِ نَفْسِيْۚ اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا يُوْحٰۤى اِلَيَّ اِنِّۤيْ اَخَافُ اِنْ عَصَيْتُ رَبِّيْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيْمٍ

(হে নবী) আপনি বলুন, ‘নিজ হতে এটা বদলানো আমার কাজ নয়। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই আমি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি। (সূরা ইউনুস- ১৫)

যা ওহী করা হতো তিনি ঠিক তা-ই প্রচার করতেন :

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰى – - اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْيٌ يُّوْحٰى

তিনি প্রবৃত্তি হতে কথা বলেন না। এটা তো এক ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়। (সূরা নাজম- ৩, ৪)

নবী ﷺ পরিবর্তন করলে আল্লাহ তাকেও শাস্তি দিতেন :

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْاَقَاوِيْلِ – - لَاَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِيْنِ – - ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ

যদি রাসূল নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতেন, তবে অবশ্যই আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম অতঃপর তাঁর শাহরগ (শ্বাসনালী) কেটে দিতাম। (সূরা হাক্কাহ, ৪৪-৪৬)

কুরআনের সাথে বাতিলের সংমিশ্রণ সম্ভব নয় :

وَاِنَّهٗ لَكِتَابٌ عَزِيْزٌ – - لَا يَاْتِيْهِ الْبَاطِلُ مِنْ ۢبَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهٖؕ تَنْزِيْلٌ مِّنْ حَكِيْمٍ حَمِيْدٍ

এটা অবশ্যই এক মহিমাময় গ্রন্থ। এর মধ্যে অগ্র ও পশ্চাৎ কোন দিক হতে মিথ্যা প্রবেশ করবে না। এটা প্রজ্ঞাবান ও প্রশংসিত আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। (সূরা হা-মীম সাজদা- ৪১, ৪২)

ব্যাখ্যা : বাতিলের অনুসারীরা এর বিরুদ্ধে যেসব চক্রান্ত করছে তার দ্বারা একে পরাভূত করা সম্ভব নয়। কেননা এর মধ্যে আছে সততার শক্তি, সত্য জ্ঞানের শক্তি, যুক্তি-প্রমাণের শক্তি, প্রেরণাকারী আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের শক্তি এবং উপস্থাপনকারী রাসূলের ব্যক্তিত্বের শক্তি। কেউ যদি মিথ্যা প্রচারের হাতিয়ার দিয়ে একে ব্যর্থ করে দিতে চায়, তাহলে তা সম্ভব হবে না। সামনের দিক থেকে বাতিল না আসতে পারার অর্থ হচ্ছে, কেউ যদি কুরআনের উপর সরাসরি আক্রমণ করে তার কোন কথা ভুল বা বাতিল প্রমাণ করতে চায়, তাহলে সে সফলকাম হতে পারবে না। আর পেছন দিক থেকে না আসতে পারার অর্থ হচ্ছে, কখনো এমন কোন সত্য প্রকাশ পাবে না, যা কুরআনে পেশকৃত সত্যের পরিপন্থী। এমন কোন জ্ঞান-বিজ্ঞান উদ্ভাবিত হতে পারে না, যা কুরআনে বর্ণিত জ্ঞান-বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে। যে জিনিসকে এ গ্রন্থ ন্যায় ও সত্য বলে ঘোষণা করেছে তা কখনো বাতিল প্রমাণিত হবে না। আবার এর অর্থ এও হতে পারে যে, বাতিল সম্মুখ দিক থেকে এসে হামলা করুক বা প্রতারণামূলক পথে এসে আকস্মিকভাবে হামলা করুক, কুরআন যে দাওয়াত পেশ করছে, তাকে সে কোনভাবেই পরাজিত করতে পারবে না। বিরোধীদের সবরকম গোপন ও প্রকাশ্য চক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও এর দাওয়াত প্রসার লাভ করবে এবং কেউ একে ব্যর্থ করতে পারবে না।

কুরআনের হেফাজতকারী স্বয়ং আল্লাহ :

اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَاِنَّا لَهٗ لَحَافِظُوْنَ

আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক। (সূরা হিজর- ৯)

ব্যাখ্যা : পারিভাষিক অর্থে ‘যিকির’ বা বাণী শব্দটি কুরআন মাজীদে আল্লাহর বাণীর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ বাণী হচ্ছে উপদেশমালায় পরিপূর্ণ। পূর্ববর্তী নবীদের উপর যতগুলো কিতাব নাযিল হয়েছিল সেগুলো সবই ‘যিকির’ ছিল এবং এ কুরআন মাজীদও যিকির। যিকিরের অর্থ হচ্ছে- স্মরণ করিয়ে দেয়া, সতর্ক করা এবং উপদেশ দেয়া। আল্লাহ কুরআনের বিরোধীদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তোমরা এ বাণীর কোন ক্ষতি করতে পারবে- তা মনে করো না। কেননা এটি সরাসরি আমার হেফাজতে রয়েছে। ফলে তোমাদের চেষ্টায় একে বিলুপ্ত করা যাবে না। তোমরা একে ধামাচাপা দিতে চাইলেও দিতে পারবে না। তোমাদের আপত্তির ফলে এর মর্যাদাও কমে যাবে না। তোমরা ঠেকাতে চাইলেও এর দাওয়াতকে ঠেকাতে পারবে না। একে বিকৃত করা বা এর মধ্যে পরিবর্তন সাধন করার সুযোগও তোমরা কোন দিন পাবে না।