hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩৬

অধ্যায়- ৮ : যে সকল আযাব দুনিয়াতে এসেছিল

লাঞ্ছনা ও দুর্ভিক্ষ :

وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُۗ وَبَآءُوْا بِغَضَبٍ مِّنَ اللهِؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَانُوْا يَكْفُرُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُوْنَ النَّبِيِّيْنَ بِغَيْرِ الْحَقِّؕ ذٰلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّكَانُوْا يَعْتَدُوْنَ

তাদের উপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যতা নিপতিত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধে পতিত হলো। এটা এজন্য যে, নিশ্চয় তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করত এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। আর এ কারণেও যে, তারা অবাধ্যাচারণ করেছিল এবং সীমালঙ্ঘন করেছিল। (সূরা বাক্বারা- ৬১)

লাঞ্ছনা-অপমান :

وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ اَنْ يُّذْكَرَ فِيْهَا اسْمُهٗ وَسَعٰى فِيْ خَرَابِهَاؕ اُولٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ اَنْ يَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَآئِفِيْنَؕ لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْيٌ وَّلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ

তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে নিষেধ করে এবং তা ধ্বংস করতে চেষ্টা করে। অথচ এ ধরনের ব্যক্তিদেরকে তাতে ভীত অবস্থায় প্রবেশ করা উচিত। তাদের জন্য দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে মহাশাস্তি (প্রস্তুত) রয়েছে। (সূরা বাক্বারা- ১১৪)

বানরে পরিণত করা :

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِيْنَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِى السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُوْنُوْا قِرَدَةً خَاسِئِيْنَ

অবশ্যই তোমরা অবগত আছ যে, তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছিল আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত বানর হয়ে যাও। (সূরা বাক্বারা- ৬৫)

প্রাণী দ্বারা ধ্বংস করা :

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ – اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ‐ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ – تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ – فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ

তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক (কা‘বাঘর ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? তিনি কি (সে সময়) তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর (ঝাঁকে ঝাঁকে) আবাবীল পাখী পাঠিয়েছেন। তারা তাদের উপর পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে জন্তু জানোয়ারের চর্বিত ঘাস-পাতার মতো করে দিলেন। (সূরা ফীল)

প্রবল বাতাস, বিকট শব্দ, ভূমি ধস ও পানিতে ডুবানো :

فَكُلًّا اَخَذْنَا بِذَنْۢبِهٖۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ اَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًاۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ اَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الْاَرْضَۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ اَغْرَقْنَاۚ وَمَا كَانَ اللهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُوْنَ

তাদের প্রত্যেককেই আমি তার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলাম। তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রবল বাতাস, তাদের কাউকে আঘাত করেছিল বিকট শব্দ, কাউকে জমিনে ধসিয়ে দিয়েছিলাম, আবার কাউকে (পানিতে) নিমজ্জিত করেছিলাম। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। (সূরা আনকাবূত- ৪০)

মানুষের উপর মানুষের নির্যাতন :

قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰۤى اَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ اَوْ مِنْ تَحْتِ اَرْجُلِكُمْ اَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَّيُذِيْقَ بَعْضَكُمْ بَاْسَ بَعْضٍ

বলো, তিনি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শাস্তি প্রেরণ করতে, অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে একদলকে অপর দলের দ্বারা শাস্তি প্রদান করতে (পরিপূর্ণভাবে) সক্ষম। (সূরা আন‘আম- ৬৫)

ব্যাখ্যা : জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে সময় উপর থকে শাসিত্মত পাঠানোর আয়াতাংশ অবতীর্ণ হলো, তখন নবী ﷺ বললেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার মহান সত্তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তারপর যখন পায়ের নীচ থেকে আযাব পাঠানোর আয়াতাংশ অবতীর্ণ হলো, তখনো তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি (এ আযাব থেকেও) তোমার মহান সত্তার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর যখন বিভিন্ন দলে বিভ‎ক্ত‎ করে একদলকে অন্যদলের দ্বারা শাসিত্মত দেয়ার আয়াতাংশ নাযিল হলো তখন রাসূল ﷺ বললেন, এটা বরং (আগের দু’টির চেয়ে) সহজতর। (সহীহ বুখারী, হা/৪৬২৮)