hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১৩

অধ্যায়- ৭ : আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা

নবীগণ আল্লাহর বাণী শুনে কান্নায় লুটিয়ে পড়তেন :

اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا

যখন তাদের (নবীদের) নিকট দয়াময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তখন তারা ক্রন্দন করতে করতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত। (সূরা মারইয়াম- ৫৮)

আহলে কিতাবের সত্যনিষ্ঠ লোকেরা কুরআন শুনে কান্না করত :

وَاِذَا سَمِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَى الرَّسُوْلِ تَرٰۤى اَعْيُنَهُمْ تَفِيْضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوْا مِنَ الْحَقِّۚ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ

রাসূলের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তারা যখন তা শোনে, তখন তুমি এমন অনেক লোককে দেখতে পাবে যারা সত্য চেনার কারণে বলে উঠে, হে আমাদের মালিক! আমরা ঈমান আনয়ন করেছি, সুতরাং তুমি (আমাদের নাম) সত্যের প্রতি সাক্ষ্যদাতাদের সাথে লিখে নাও। (সূরা মায়েদা- ৮৩)

ব্যাখ্যা : হিজরতের কয়েক বৎসর পর একদা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৭০ জন লোক রাসূল ﷺ এর কাছে এসে কুরআনের বাণী শুনে অতিশয় মুগ্ধ হয়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। তখন তাদের মুখে ‘‘রববানা- আ-মান্না’’ (হে আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান আনলাম) উচ্চারিত হতে থাকে। উক্ত আয়াতে তাদের অবস্থার দিকেই ইংগিত করা হয়েছে।

সাহাবীগণ জিহাদে যেতে না পারলে কান্না করতেন :

وَ لَا عَلَى الَّذِيْنَ اِذَا مَاۤ اَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا ۤاَجِدُ مَاۤ اَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ۪ تَوَلَّوْا وَّاَعْيُنُهُمْ تَفِيْضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا اَ لَّا يَجِدُوْا مَا يُنْفِقُوْنَ

তাদেরও কোন অপরাধ নেই, যারা তোমার নিকট বাহনের জন্য আসলে তুমি বলেছিলে, তোমাদের জন্য কোন বাহন পাচ্ছি না। তখন তারা জিহাদে যাওয়ার খরচ সংগ্রহ করতে না পারায় দুঃখে অশ্রুবিগলিত অবস্থায় ফিরে গেল। (সূরা তাওবা- ৯২)

কান্না করার জন্য উৎসাহ প্রদান :

اَفَمِنْ هٰذَا الْحَدِيْثِ تَعْجَبُوْنَ ‐ وَتَضْحَكُوْنَ وَلَا تَبْكُوْنَ

তোমরা কি এ বাণীর ব্যাপারে (কুরআনে) বিস্ময়বোধ করছ? হাসছ অথচ কাঁদছ না? (সূরা নাজম- ৫৯, ৬০)