hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬০

পর্ব- ১৯ : পারিবারিক জীবন অধ্যায়- ১ : বিবাহের গুরুত্ব

বিয়ে করে পরিবার গঠন করা নবীদের সুন্নাত :

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ اَزْوَاجًا وَّذُرِّيَّةً

নিশ্চয় আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিও দান করেছিলাম। (সূরা রা‘দ- ৩৮)

বিবাহ মানব বংশের ধারা জারি রাখে :

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيْرًا وَّنِسَآءً

হে মানবমন্ডলী! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকেও সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। (সূরা নিসা- ১)

অবিবাহিতাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা অভিভাবকদের দায়িত্ব :

وَاَنْكِحُوا الْاَيَامٰى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِيْنَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَاِمَآئِكُمْؕ اِنْ يَّكُوْنُوْا فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهٖؕ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ ‐ اِنْ يَّكُوْنُوْا فُقَرَآءَ يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهٖؕ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ

তোমাদের মধ্যে যাদের স্ত্রী নেই তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও বিবাহের ব্যবস্থা করো। যদি তারা অভাবী হয়, (তাহলে) আল্লাহ (অচিরেই) তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন; আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ তো প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। (সূরা নূর- ৩২)

ব্যাখ্যা : اَيَمٌ (আয়ামুন) এমন প্রত্যেক পুরুষকে বলা হয়, যার কোন স্ত্রী নেই এবং এমন প্রত্যেক নারীকেও বলা হয়, যার কোন স্বামী নেই। মুসলিমদেরকে সাধারণভাবে এ চিন্তা করা উচিত যে, তাদের সমাজে যেন লোকেরা অবিবাহিত অবস্থায় না থাকে। পরিবারের সাথে জড়িত লোকেরা, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী সবাই এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করবে। আর যার কেউ নেই তাকে সাহায্য করবে রাষ্ট্র। আরো বলা হয়েছে, লোকেরা যেন এ ব্যাপারে খুব বেশি হিসেবী না হয়। এজন্য মেয়ে পক্ষকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, কোন সৎ, ভদ্র ও রুচিশীল ব্যক্তি যদি তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠায়, তাহলে নিছক তার দারিদ্রতা দেখেই যেন তা প্রত্যাখ্যান না করা হয়। আবার ছেলে পক্ষকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আয়-রোজগারের অজুহাত দেখিয়ে কোন যুবককে যেন অবিবাহিত করে না রাখা হয়। আর যুবকদেরকেও উপদেশ দেয়া হচ্ছে, বেশি সচ্ছলতার অপেক্ষায় বসে থেকে নিজেদের বিয়ের ব্যাপারকে অযথা পিছিয়ে দিয়ো না। অনেক সময় বিয়ে নিজেই মানুষের আর্থিক সচ্ছলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দায়িত্ব মাথার উপর এসে পড়ার পর মানুষ আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। উপার্জনের কাজে স্ত্রীও সাহায্য করতে পারে।

খুব বেশি অভাবী হলে সামর্থ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংযত থাকতে হবে :

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِيْنَ لَا يَجِدُوْنَ نِكَاحًا حَتّٰى يُغْنِيَهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهٖ

যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযমতা অবলম্বন করে। (সূরা নূর- ৩৩)

অভিভাবকদের অনুমতি সাপেক্ষে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে হবে :

فَانْكِحُوْهُنَّ بِاِذْنِ اَهْلِهِنَّ وَاٰتُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ

তোমরা তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের অভিভাকের অনুমতিক্রমে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের মোহর দিয়ে দেবে। (সূরা নিসা- ২৫)