hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

অধ্যায়- ৪ : কুরআন নাযিলের সময়

কুরআন নাযিল হয়েছে এক বরকতময় রাত্রিতে :

حٰمٓ – وَالْكِتَابِ الْمُبِيْنِ – اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاهُ فِيْ لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ اِنَّا كُنَّا مُنْذِرِيْنَ

হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাত্রিতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (সূরা দুখান, ১-৩)

এ রাতটি হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর :

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاهُ فِيْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ – - وَمَاۤ اَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ -– لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَهْرٍ

আমি একে নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। আর আপনি কি জানেন লাইলাতুল ক্বদর কী? লাইলাতুল ক্বদর হলো, হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা ক্বদর, ১-৩)

এ রাতটি রমাযান মাসে রয়েছে :

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْۤ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ

রমাযান তো সেই মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক এবং হেদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও ফুরক্বান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী)। (সূরা বাক্বারা- ১৮৫)

কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে :

تَنْزِيْلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيْزِ الْحَكِيْمِ

এ কিতাব মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ। (সূরা জাসিয়া- ২)

تَنْزِيْلَ الْعَزِيْزِ الرَّحِيْمِ

এ কিতাব মহাপরাক্রমশালী ও দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ। (সূরা ইয়াসীন- ৫)

ব্যাখ্যা : এখানে কুরআন নাযিলকারীর দু’টি গুণের কথা বলা হয়েছে।

(এক) তিনি প্রবল ও পরাক্রমশালী। (দুই) তিনি করুণাময়।

প্রথম গুণটি বর্ণর্না করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ সত্য সম্পর্কে সতর্ক করা যে, এ কুরআন কোন অক্ষম উপদেষ্টার উপদেশ নয়; বরং এটি এমন এক সত্তার বাণী যিনি সবকিছুর উপর প্রবল, যাঁর ফায়সালাসমূহ প্রয়োগ করার পথে কোন শক্তি বাধা সৃষ্টি করতে পারে না এবং যাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচার ক্ষমতা কারো নেই। আর দ্বিতীয় গুণটি বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ অনুভূতি সৃষ্টি করা যে, তিনি তোমাদের উপর দয়াবান হয়ে এ মহান কিতাবটি তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। যাতে তোমরা এর দ্বারা গোমরাহীমুক্ত হয়ে এমন সরলসঠিক পথে হেদায়াতপ্রাপ্ত হতে পার, যে পথে চললে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য লাভ করতে পারবে।