hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৭

অধ্যায়- ১ : কা‘বাঘরের ইতিহাস ও মর্যাদা

কা‘বা সর্বপ্রথম নির্মিত ইবাদাতখানা :

اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِيْ بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَّهُدًى لِّلْعَالَمِيْنَ

নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক। (সূরা আলে ইমরান- ৯৬)

সেখানে আছে মাকামে ইবরাহীম :

فِيْهِ اٰيَاتٌ ۢبَيِّنَاتٌ مَّقَامُ اِبْرَاهِيْمَ

সেখানে রয়েছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, (এর মধ্যে একটি হচ্ছে) মাকামে ইবরাহীম। (সূরা আলে ইমরান- ৯৭)

মাকামে ইবরাহীমে সালাত আদায় করার নির্দেশ :

وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى

তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। (সূরা বাক্বারা- ১২৫)

আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) কে কা‘বার সন্ধান দিয়েছিলেন :

وَاِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرَاهِيْمَ مَكَانَ الْبَيْتِ

স্মরণ করো, যখন আমি ইবরাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সে গৃহের স্থান। (সূরা হজ্জ- ২৬)

ইবরাহীম (আঃ) তাঁর ছেলেকে নিয়ে কা‘বা নির্মাণ করেন :

وَاِذْ يَرْفَعُ اِبْرَاهِيْمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَاِسْمَاعِيْلُؕ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّاؕ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

(স্মরণ করো) যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কা‘বাঘরের ভিত্তি উঁচু করেছিলেন (তখন বলেছিলেন) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ হতে এটা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী। (সূরা বাক্বারা- ১২৭)

কা‘বা গোটা বিশ্বের কেবলা :

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِؕ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ شَطْرَهٗ

আর তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন, তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও। আর তোমরা যে যেখানেই থাক না কেন তোমাদের মুখমন্ডল সেদিকেই ফিরিয়ে নাও। (সূরা বাক্বারা- ১৫০)

কা‘বা মানবজাতির মিলনকেন্দ্র :

وَاِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَاَمْنًا

আমি কা‘বাগৃহকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান হিসেবে মনোনীত করেছি। (সূরা বাক্বারা- ১২৫)

সেখানে সকলের অধিকার সমান :

اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِيْ جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَآءَنِ الْعَاكِفُ فِيْهِ وَ الْبَادِ ؕ وَمَنْ يُّرِدْ فِيْهِ بِاِلْحَادٍ ۢبِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ اَلِيْمٍ

অবশ্যই যারা কুফরী করে এবং (অন্যদেরকেও) আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয়, আর (বাধা দেয়) মানুষদেরকে মাসজিদুল হারাম (এর তাওয়াফ ও যিয়ারত) থেকে- যাকে আমি স্থানীয়-অস্থানীয় নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একই রকম (মর্যাদার স্থান) বানিয়েছি (এমন লোকদের মনে রাখতে হবে) যারা তাতে ইচ্ছাপূর্বক আল্লাহবিরোধী কাজ করবে, আমি তাদের (সবাইকে) কঠিন আযাব আস্বাদন করাব। (সূরা হজ্জ- ২৫)

কা‘বা নিরাপদ স্থান :

وَمَنْ دَخَلَهٗ كَانَ اٰمِنًا

আর যে ব্যক্তি সেখানে (মক্কায়) প্রবেশ করবে, সে নিরাপত্তা লাভ করবে। (সূরা আলে ইমরান- ৯৭)

সেখানে সবধরনের ফলমূল পাওয়া যায় :

اَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَّهُمْ حَرَمًا اٰمِنًا يُّجْبٰۤى اِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِّزْقًا مِّنْ لَّدُنَّا وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ

আমি কি তাদেরকে এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার দেয়া রিযিকস্বরূপ সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (সূরা ক্বাসাস- ৫৭)

এসব ইবরাহীম (আঃ) এর দু‘আর ফসল :

وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّارْزُقْ اَهْلَهٗ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِؕ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَاُمَتِّعُهٗ قَلِيْلًا ثُمَّ اَضْطَرُّهٗۤ اِلٰى عَذَابِ النَّارِؕ وَبِئْسَ الْمَصِيْرُ

যখন ইবরাহীম বললেন, হে আমার রব! আপনি এ স্থানকে নিরাপদ শহরে পরিণত করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে ফলমূল থেকে জীবিকা দান করুন। আল্লাহ বলেন, যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকেও আমি অল্প কিছু দিন ভোগ করতে দেব। পরে তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব; আর এটি কতই না নিকৃষ্টতম গন্তব্যস্থল। (সূরা বাক্বারা- ১২৬)

কা‘বাঘর পবিত্র রাখার নির্দেশ :

وَعَهِدْنَاۤ اِلٰۤى اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمَاعِيْلَ اَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ

আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম যে, যেন তারা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, আল্লাহর ইবাদাতে আত্মনিয়োগকারী এবং রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখে। (সূরা বাক্বারা- ১২৫)

সেখানে সবধরনের অন্যায় কাজ নিষিদ্ধ :

وَمَنْ يُّرِدْ فِيْهِ بِاِلْحَادٍ ۢبِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ اَلِيْمٍ

আর যে তাতে ইচ্ছা করে অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করে, তাকে আমি মর্মান্তিক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব। (সূরা হজ্জ- ২৫)

কা‘বায় প্রবেশে বাধা দিলে আল্লাহ শাস্তি দেবেন :

وَمَا لَهُمْ اَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّوْنَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُوْاۤ اَوْلِيَآءَهٗؕ اِنْ اَوْلِيَآؤُهٗۤ اِلَّا الْمُتَّقُوْنَ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ

আল্লাহ তাদেরকে কেনইবা শাস্তি দেবেন না, যখন তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে মাসজিদুল হারামে আসতে বাধা দেয়, অথচ তারা তো এ ঘরের আসল অভিভাবকও নয়। এ ঘরের আসল অভিভাবক হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহকে ভয় করে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (সূরা আনফাল- ৩৪)

অমুসলিমরা হারামে প্রবেশের অধিকার রাখে না :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنَّمَا الْمُشْرِكُوْنَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هٰذَا

হে মুমিনগণ! নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র, সুতরাং এ বৎসরের পর তারা যেন মাসজিদুল হারামের নিকটেও না আসে। (সূরা তাওবা- ২৮)

ব্যাখ্যা : ‘অপবিত্র’ কথাটির অর্থ হচ্ছে, তাদের আকীদা-বিশ্বাস, নৈতিক চরিত্র, কাজকর্ম এবং তাদের জাহেলী চালচলন ও সমাজব্যবস্থা অপবিত্র।

আল্লাহ কা‘বা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদেরকে শাস্তি দিয়েছেন :

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحَابِ الْفِيْلِ ‐ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍ ‐ وَاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَ ‐ تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍ ‐ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ

তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক (কা‘বা ধ্বংসের জন্য আগত) হাতিওয়ালাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের যাবতীয় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর এ পাখিগুলো ঐ সুসজ্জিত বাহিনীর উপর পাথরের টুকরো নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে জন্তু-জানোয়ারের চর্বিত ঘাস-পাতার ন্যায় করে দিলেন। (সূরা ফীল)