hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৬

অধ্যায়- ১৭ : পালক পুত্র

পালক পুত্র আসল পুত্রের স্থান লাভ করে না :

وَمَا جَعَلَ اَدْعِيَآءَكُمْ اَبْنَآءَكُمْ ذٰلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِاَفْوَاهِكُمْ

তোমাদের পালক পুত্রদেরকে তোমাদের ছেলে বানিয়ে দেননি। ওগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। (সূরা আহযাব- ৪)

পালক পুত্রকে তার প্রকৃত পিতার পরিচয় দিয়ে ডাকতে হবে :

اُدْعُوْهُمْ لِاٰبَآئِهِمْ هُوَ اَقْسَطُ عِنْدَ اللهِ

তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে আহবান করো, এটাই আল্লাহর কাছে অধিক সঠিক। (সূরা আহযাব- ৫)

পালক পুত্র দ্বীনি ভাইয়ের মর্যাদা পাবে :

فَاِنْ لَّمْ تَعْلَمُوْاۤ اٰبَآءَهُمْ فَاِخْوَانُكُمْ فِى الدِّيْنِ وَمَوَالِيْكُمْ

যদি তোমরা তাদের প্রকৃত পিতৃপরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই এবং বন্ধু হিসেবে গণ্য হবে। (সূরা আহযাব- ৫)

ব্যাখ্যা : কাউকে অধিক স্নেহের কারণে পুত্র বলে ফেললে, এতে কোন গোনাহ হবে না। অনুরূপভাবে মা, মেয়ে, বোন, ভাই ইত্যাদি শব্দাবলিও যদি কারো জন্য নিছক ভদ্রতার খাতিরে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তাতে কোন গোনাহ হবে না। কিন্তু যদি এরূপ নিয়ত সহকারে এ কথা বলা হয় যে, এ সম্পর্কগুলোর যেটা প্রকৃত মর্যাদা সেই মর্যাদায় অভিসিক্ত করতে হবে এবং তার সাথে ঠিক তেমনি সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে যেমন সেই পর্যায়ের আত্মীয়দের সাথে করা হয়ে থাকে, তাহলে তা খুবই আপত্তিকর। এ হুকুমটি পালন করার জন্য সর্বপ্রথম যে সংশোধনমূলক কাজটি করা হয় সেটি হচ্ছে, নবী ﷺ এর পালকপুত্র যায়েদ (রাঃ) কে যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ বলার পরিবর্তে তার প্রকৃত পিতার সাথে সম্পর্কিত করে যায়েদ ইবনে হারেসা বলা শুরু করা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এ আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রাসূল ﷺ এর আযাদকৃত গোলাম যায়েদ ইবনে হারেসাকে যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ বলে ডাকতাম। (সহীহ বুখারী, হা/৪৭৮২)

নবী ﷺ বলেছেন, ‘‘ যে ব্যক্তি নিজেকে আপন পিতা ছাড়া অন্য কারো পুত্র বলে দাবী করে, অথচ সে জানে ঐ ব্যক্তি তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।’’ (সহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬; সহীহ মুসলিম, হা/২২৯)