hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭৯

অধ্যায়- ১০ : পিতাকে দাওয়াত প্রদান

ইবরাহীম (আঃ) পিতাকেও দ্বীনের দাওয়াত দিলেন :

اِذْ قَالَ لِاَبِيْهِ يَاۤ اَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِيْ عَنْكَ شَيْئًا

স্মরণ করো, যখন সে তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা! আপনি কেন তার ইবাদাত করেন যে কোনকিছু শুনতে পায় না, দেখতে পায় না ও আপনার কোন উপকারও করতে পারে না? (সূরা মারইয়াম– ৪২)

তার পিতা আযর নামে পরিচিত ছিল :

وَاِذْ قَالَ اِبْرَاهِيْمُ لِاَبِيْهِ اٰزَرَ اَتَتَّخِذُ اَصْنَامًا اٰلِهَةًۚ اِنِّۤيْ اَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ

স্মরণ করো, ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বলেছিল, তুমি কি মূর্তিকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ কর? আমি তো আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি। (সূরা আন‘আম– ৭৪)

হৃদয়ের আবেগ উজাড় করে পিতাকে বুঝালেন :

يَاۤ اَبَتِ اِنِّيْ قَدْ جَآءَنِيْ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِيْۤ اَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا ‐ يَاۤ اَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَؕ اِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ عَصِيًّا ‐ يَاۤ اَبَتِ اِنِّۤيْ اَخَافُ اَنْ يَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ فَتَكُوْنَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا

(সে তার পিতাকে বলল) হে আমার পিতা! আমার নিকট এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার নিকট আসেনি। সুতরাং আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব। হে আমার পিতা! শয়তানের ইবাদাত করো না, নিশ্চয় শয়তান দয়ালু আল্লাহর অবাধ্য। হে আমার পিতা! আমি আশঙ্কা করি যে, দয়াময়ের শাস্তি তোমাকে স্পর্শ করবে, তখনও তুমি শয়তানের বন্ধু হিসেবে গণ্য হবে। (সূরা মারইয়াম, ৪৩–৪৫)

পিতাও তাকে হত্যার হুমকি দিল :

قَالَ اَرَاغِبٌ اَنْتَ عَنْ اٰلِهَتِيْ يَاۤ اِبْرَاهِيْمُۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهِ لَاَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِيْ مَلِيًّا

পিতা বলল, হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার দেব–দেবী হতে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে আমি প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণ নাশ করবই। তুমি চিরদিনের জন্য আমার নিকট হতে দূর হয়ে যাও। (সূরা মারইয়াম– ৪৬)

পিতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার ওয়াদা করেছিলেন :

قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَۚ سَاَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّيْ ؕ اِنَّهٗ كَانَ بِيْ حَفِيًّا

ইবরাহীম বলল, তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল। (সূরা মারইয়াম– ৪৭)

তিনি ওয়াদা পূর্ণ করেছিলেন :

وَاغْفِرْ لِاَبِۤيْ اِنَّهٗ كَانَ مِنَ الضَّآلِّيْنَ

(হে আমার প্রতিপালক) আমার পিতাকে ক্ষমা করো, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন। (সূরা শু‘আরা– ৮৬)

পিতা মুশরিক থাকায় দু‘আ কবুল হয়নি :

وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ اِبْرَاهِيْمَ لِاَبِيْهِ اِلَّا عَنْ مَّوْعِدَةٍ وَّعَدَهَاۤ اِيَّاهُۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهٗۤ اَنَّهٗ عَدُوٌّ لِّلّٰهِ تَبَرَّاَ مِنْهُؕ اِنَّ اِبْرَاهِيْمَ لَاَوَّاهٌ حَلِيْمٌ

শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার জন্য ইবরাহীম তার পিতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিল। অতঃপর যখন তা তার নিকট সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন ইবরাহীম তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল। নিশ্চয় ইবরাহীম কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও সহনশলী। (সূরা তাওবা– ১১৪)

কেবলমাত্র ভাতিজা লূত–ই ঈমান এনেছিলেন :

فَاٰ مَنَ لَهٗ لُوْطٌ

অতঃপর লূত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল। (সূরা আনকাবূত– ২৬)