hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২২

অধ্যায়- ৫ : শয়তানের অনুসরণ করার পরিণাম

অনেক লোকই শয়তানের অনুসরণ করে :

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيْدٍ

মানুষের মধ্যে কতক (লোক) অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে। (সূরা হজ্জ- ৩)

তারপরও তারা সঠিক পথে আছে বলে মনে করে :

اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ

তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিল; তারা মনে করত, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। (সূরা আ‘রাফ- ৩০)

শয়তানের আনুগত্য করা শিরক :

وَاِنَّ الشَّيَاطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ اِلٰۤى اَوْلِيَآئِهِمْ لِيُجَادِلُوْكُمْۚ وَاِنْ اَطَعْتُمُوْهُمْ اِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ

নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়; যদি তোমরা তাদের কথামতো চল, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা আন‘আম- ১২১)

আল্লাহ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন :

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ كُلُوْا مِمَّا فِى الْاَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ

হে মানবজাতি! পৃথিবীর মধ্যে যা হালাল ও পবিত্র তা হতে খাও। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বাক্বারা- ১৬৮)

وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ

আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা আন‘আম- ১৪২)

যারা শয়তানকে বন্ধু বানায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে :

وَمَنْ يَّتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّنْ دُوْنِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِيْنًا

যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, সে স্পষ্টভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা নিসা- ১১৯)

শয়তানের গোটা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে :

اَ لَاۤ اِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ

জেনে রেখো, নিশ্চয় শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। (সূরা মুজাদালা- ১৯)

শয়তানের অনুসারীরা জাহান্নামে যাবে :

قَالَ فَالْحَقُّؗ وَالْحَقَّ اَقُوْلُ – لَاَمْلَاَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ اَجْمَعِيْنَ

আল্লাহ বললেন, তবে তাই ঠিক; আর আমি সত্য কথাই বলে থাকি। অবশ্যই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব তোমাকে দিয়ে এবং তাদের (মানুষ ও জিন জাতির) মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে। (সূরা সোয়াদ- ৮৪, ৮৫)

পাপীদের সাথে শয়তানেরও হাশর ঘটবে :

فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِيْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا

শপথ তোমার প্রতিপালকের! আমি তো তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে সমবেত করব। তারপর আমি তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করবই। (সূরা মারইয়াম- ৬৮)

অপরাধীরা শয়তানকে ধিক্কার দেবে :

حَتّٰۤى اِذَا جَآءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِيْ وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِيْنُ

অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হবে, তখন সে (শয়তানকে) বলবে, হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত! সুতরাং (লক্ষ্য করো) সে কতই না নিকৃষ্ট সহচর। (সূরা যুখরুফ- ৩৮)

শয়তান পাশ কাটিয়ে জবাব দেবে :

وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْاَمْرُ اِنَّ اللهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُّكُمْ فَاَخْلَفْتُكُمْؕ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَانٍ اِلَّاۤ اَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِيْۚ فَلَا تَلُوْمُوْنِيْ وَلُوْمُوْاۤ اَنْفُسَكُمْؕ مَاۤ اَنَاْ بِمُصْرِخِكُمْ وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّؕ اِنِّيْ كَفَرْتُ بِمَاۤ اَشْرَكْتُمُوْنِ مِنْ قَبْلُؕ اِنَّ الظَّالِمِيْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ

যখন বিচারকার্য সম্পন্ন হবে তখন শয়তান বলবে, আল্লাহ তো তোমাদেরকে সত্য প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন। আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহবান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করো না, বরং তোমরা নিজেদের প্রতি দোষারোপ করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি, নিশ্চয় যালিমদের জন্য (প্রস্তুত) রয়েছে মর্মান্তিক শাসিত্ম। (সূরা ইবরাহীম- ২২)

ব্যাখ্যা : তোমরা দেখতেই পাচ্ছ, আল্লাহর প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি ও হুমকি অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে আমি তোমাদেরকে যেসব আশ্বাস দিয়েছিলাম, যেসব লাভের লোভ দেখিয়েছিলাম এগুলো সবই ছিল নিছক প্রতারণা। আমি তো কেবল তোমাদের সামনে হকের আহবানের মুকাবিলায় বাতিলের আহবান পেশ করেছিলাম, সত্যের মুকাবিলায় মিথ্যার দিকে ডেকেছিলাম, সৎকাজের মুকাবিলায় অসৎকাজ করার জন্য আহবান করেছিলাম। এর বেশি আর কিছুই করিনি। আমার কথা মানা অথবা না মানার পূর্ণ স্বাধীনতা তোমাদের ছিল। তোমাদেরকে বাধ্য করার কোন ক্ষমতা আমার ছিল না। এখন আমার এ দাওয়াতের জন্য নিঃসন্দেহে আমি নিজে দায়ী ছিলাম এবং এর শাস্তিও আমিই নিচ্ছি। কিন্তু তোমরা যে এ দাওয়াতে সাড়া দিয়েছ এর দায়ভার কেমন করে আমার ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছ? নিজেদের ভুল নির্বাচন এবং নিজেদের ক্ষমতার অসৎ ব্যবহারের দায়ভার পুরোপুরি তোমাদেরকেই বহন করতে হবে।