hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯৬

অধ্যায়- ২০ : উপহাস ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা

প্রত্যেক নবীর সাথেই উপহাস করা হয়েছে :

يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِۚ مَا يَأْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ يَسْتَهْزِئُوْنَ

আফসোস সেসব বান্দাদের জন্য, যাদের কাছে কখনো এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। (সূরা ইয়াসীন- ৩০)

আমাদের নবীর সাথেও উপহাস করা হয়েছে :

وَاِذَا رَاَوْكَ اِنْ يَّتَّخِذُوْنَكَ اِلَّا هُزُوًاؕ اَهٰذَا الَّذِيْ بَعَثَ اللهُ رَسُوْلًا

তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র হিসেবেই গণ্য করে এবং বলে, এ কি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন? (সূরা ফুরক্বান- ৪১)

কাফিররা মুমিনদেরকে নিয়ে উপহাস করে :

اِنَّهٗ كَانَ فَرِيْقٌ مِّنْ عِبَادِيْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَاَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ ‐ فَاتَّخَذْتُمُوْهُمْ سِخْرِيًّا حَتّٰۤى اَنْسَوْكُمْ ذِكْرِيْ وَكُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُوْنَ

আমার বান্দাদের মধ্যে একদল ছিল যারা বলত, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো ও দয়া করো, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। অথচ তোমরা তাদেরকে নিয়ে এত ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে যে, সেটা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাতেই লিপ্ত ছিলে। (সূরা মু’মিনূন- ১০৯, ১১০)

মুনাফিকরাও মুমিনদের সাথে উপহাস করত :

وَاِذَا لَقُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْاۤ اٰمَنَّا وَاِذَا خَلَوْا اِلٰى شَيَاطِيْنِهِمْ قَالُوْاۤ اِنَّا مَعَكُمْ اِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُوْنَ

যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি এবং যখন তারা নিজেদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি, আমরা তো শুধু (তাদের সাথে) ঠাট্টা-বিদ্রূপই করে থাকি। (সূরা বাক্বারা- ১৪)

কাফিররা আযান দিলেও বিদ্রূপ করত :

وَاِذَا نَادَيْتُمْ اِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوْهَا هُزُوًا وَّلَعِبًا ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْقِلُوْنَ

যখন তোমরা সালাতের জন্য আহবান কর, তখন তারা তাকে হাসি-তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের কোন বোধশক্তি নেই। (সূরা মায়েদা- ৫৮)

উপহাসকারীরাই খারাপ পরিণামের সম্মুখীন হবে :

وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِيْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ يَسْتَهْزِئُوْنَ

তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকেই ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছিল; পরিণামে তাদের মধ্যে যারা উপহাস করত, তারা যা নিয়ে উপহাস করত তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছিল। (সূরা আম্বিয়া- ৪১)

উপহাসকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম :

ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوْا وَاتَّخَذُوْاۤ اٰيَاتِيْ وَرُسُلِيْ هُزُوًا

তাদের প্রতিফল হচ্ছে জাহান্নাম, যেহেতু তারা কুফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলি ও রাসূলদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। (সূরা কাহফ- ১০৬)

উপহাসকারীদের মজলিসে বসতে নেই :

اِذَا سَمِعْتُمْ اٰيَاتِ اللهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوْا مَعَهُمْ حَتّٰى يَخُوْضُوْا فِيْ حَدِيْثٍ غَيْرِهٖۤ اِنَّكُمْ اِذًا مِّثْلُهُمْ

যখন তোমরা আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যানের কথা এবং তাকে বিদ্রূপ করা হয় এমন কথা শুনতে পাবে, তখন যতক্ষণ পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাদের সঙ্গে বসবে না; অন্যথায় তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে। (সূরা নিসা- ১৪০)