hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০৫

অধ্যায়- ৯ : পরামর্শ করা

যৌথ কাজ-কারবারে পরামর্শ করতে হবে :

وَالَّذِيْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمْ وَاَقَامُوا الصَّلَاةَ وَاَمْرُهُمْ شُوْرٰى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ

যারা তাদের প্রতিপালকের আহবানে সাড়া দেয়, সালাত প্রতিষ্ঠা করে, পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে এবং তাদেরকে আমি যে রিযিক দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে। (সূরা শূরা- ৩৮)

وَشَاوِرْهُمْ فِى الْاَمْرِۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِيْنَ

কাজকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করবে, অতঃপর যখন তুমি কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, তখন আল্লাহর প্রতি ভরসা করবে; নিশ্চয় আল্লাহ নির্ভরশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৫৯)

ব্যাখ্যা : পরামর্শ ইসলামী জীবনপ্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পরামর্শ ছাড়া সামষ্টিক কাজ পরিচালনা করা আল্লাহর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যে বিষয়টি দুই বা আরো বেশি লোকের স্বার্থের সাথে জড়িত সে ক্ষেত্রে কোন এক ব্যক্তির নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের উপেক্ষা করা যুলুম। ইনসাফের দাবী হচ্ছে, কোন বিষয়ে যত লোকের স্বার্থ জড়িত সে ব্যাপারে তাদের সবার মতামত গ্রহণ করতে হবে। মুমিন কখনো স্বার্থপর হয় না। তাই সে অন্যদের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করে ফায়দা হাসিল করতে পারে না এবং নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে করতে পারে না।

যেসব বিষয় অন্যদের অধিকার ও স্বার্থের সাথে জড়িত সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা একটা বড় দায়িত্ব। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং এ কথা জানে যে, তাকে তার রবের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, সে কখনো একা এই গুরুভার নিজের কাঁধে উঠিয়ে নেয়ার দুঃসাহস করতে পারে না।

সমাজের ছোট বড় প্রতিটি ব্যাপারেই পরামর্শের নীতি কার্যকর থাকা উচিত। পারিবারিক ব্যাপার হলে স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে কাজ করবে এবং ছেলে-মেয়ে বড় হলে তাদেরকেও পরামর্শে শরীক করবে। গোষ্ঠীর ব্যাপার হলে গোষ্ঠীর সমস্ত বুদ্ধিমান ও বয়োঃপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় বিষয়গুলোকে এমনসব ব্যক্তিবর্গের পরার্মশানুসারে পরিচালনা করতে হবে, জাতি যাদেরকে নির্ভরযোগ্য মনে করে।

পরামর্শদাতাদের সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজকর্ম পরিচালনা করা প্রয়োজন। পরামর্শভিত্তিক কাজ পরিচালনা নীতির সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মুসলিমদের পারস্পরিক বিষয়সমূহ পরিচালনায় এই পরামর্শ পরিষদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়, বরং অবশ্যই এটি সেই দ্বীনের বিধিবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ, যা আল্লাহ নিজেই রচনা করেছেন। যে ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সে ব্যাপারে মুসলিমরা নিজেরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে- এ উদ্দেশ্যে কোন পরামর্শ হতে পারে না।

খারাপ কাজের জন্য গোপন পরামর্শ করা যাবে না :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا تَنَاجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَاجَوْا بِالْاِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَةِ الرَّسُوْلِ وَتَنَاجَوْا بِالْبِرِّ وَالتَّقْوٰىؕ وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِيْۤ اِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কানে কানে কথা বল তখন পাপকার্য, সীমালঙ্ঘন ও রাসূলের অবাধ্যাচরণ সম্পর্কে কানাকানি করো না; বরং সৎকাজ ও তাক্বওয়া সম্পর্কে কানাঘুষা করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার কাছে তোমাদেরকে একত্র করা হবে। (সূরা মুজাদালা- ৯)