hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০৯

অধ্যায়- ৩ : অনর্থক বিষয়াবলি থেকে দূরে থাকা

অনর্থক কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে :

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ ‐ اَ لَّذِيْنَ هُمْ فِيْ صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ ‐ وَالَّذِيْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَ

অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয় ও নম্র এবং যারা অনর্থক ক্রিয়াকলাপ হতে বিরত থাকে। (সূরা মু’মিনূন- ১, ৩)

ব্যাখ্যা : لَغْوٌ (লাগভুন) বলতে এমন প্রত্যেকটি কথা ও কাজকে বুঝানো হয়, যা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন এবং যাতে কোন ফায়দা হয় না। তাছাড়া যেগুলোর পরিণাম কল্যাণময় নয় এবং যেগুলোর উদ্দেশ্যও ভালো নয়- তা সবই ‘লাগভুন’ এর অন্তর্ভুক্ত। আয়াতের পূর্ণ বক্তব্য হচ্ছে, মুমিন অনর্থক ও বেহুদা কথা ও কাজে কান দেয় না, সেদিকে দৃষ্টি দেয় না এবং সে ব্যাপারে কোন প্রকার কৌতুহলও প্রকাশ করে না। যেখানে এ ধরনের কথাবার্তা হতে থাকে, সেখানে সে অংশগ্রহণ করে না। আর যদি কোথাও এসবের মুখোমুখি হয়েও যায়, তাহলে তা এড়িয়ে চলে যায় অথবা অন্ততপক্ষে তা থেকে সম্পর্কহীন হয়ে যায়। এ ছোট্ট ও সংক্ষিপ্ত বাক্যটিতে যে কথা বলা হয়েছে তা আসলে মুমিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। মুমিন এমন এক ব্যক্তি, যার মধ্যে সবসময় দায়িত্বানুভূতি সজাগ থাকে, সে মনে করে দুনিয়াটা আসলে একটা পরীক্ষাগৃহ। যে জিনিসটিকে জীবন, বয়স, সময় ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে, সেটি আসলে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ। তাকে পরীক্ষা করার জন্য এ সময়টি দেয়া হয়েছে। যে ছাত্র পরীক্ষার হলে বসে নিজের প্রশ্নপত্রের জবাব লিখে যাচ্ছে, সে যেমন নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পূর্ণ ব্যস্ততা সহকারে তার মধ্যে নিজেকে নিমগ্ন করে দেয়, ঠিক তেমনি মুমিন ব্যক্তিও গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় কাটায়। ছাত্রটি যেমন এ ঘণ্টাগুলোর একটি সেকেন্ডও অহেতুক কাজে নষ্ট করতে চায় না, ঠিক তেমনি মুমিনও দুনিয়ার সময়কে এমনসব কাজে ব্যয় করে, যা পরিণামের দিক দিয়ে কল্যাণকর। এমনকি সে খেলাধুলা ও আনন্দ উপভোগের ক্ষেত্রেও এমনসব জিনিস নির্বাচন করে, যা নিছক সময় কাটানোর কারণ হয় না বরং কোন অপেক্ষাকৃত ভালো উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য তাকে তৈরি করে। তার দৃষ্টিতে সময় অবহেলা করার জিনিস নয় বরং ব্যবহার করার জিনিস। এছাড়াও মুমিন ব্যক্তি সবসময় শান্ত প্রকৃতি এবং পবিত্র-পরিচ্ছন্ন স্বভাব ও সুস্থ রুচিসম্পন্ন গুণের অধিকারী হয়। সে ফলদায়ক কথা বলতে পারে, কিন্তু অহেতুক কথা বলতে পারে না। সে ব্যঙ্গ, কৌতুক ও হালকা পরিহাস করতে পারে, কিন্তু ঠাট্টা-তামাশায় মেতে উঠতে পারে না, বাজে ঠাট্টা-মস্করা সহ্য করতে পারে না এবং আনন্দ-ফূর্তির কথাবার্তাকে নিজের পেশায় পরিণত করতে পারে না। মুমিনের কান গালি-গালাজ, পরনিন্দা, পরচর্চা, অপবাদ, মিথ্যা কথা, গান-বাজনা ও অশ্লীল কথাবার্তা থেকে নিরাপদ থাকবে। যে সমাজে এসব চলে ঐ সমাজে সে শান্তিতে বসবাস করতে পারে না।