১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫২
অধ্যায়- ৪ : দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষামূলক একটি ঘটনা
দু’জন মামলাকারী দাউদ (আঃ) এর নিকট আসল :
وَهَلْ اَتَاكَ نَبَاُ الْخَصْمِ اِذْ تَسَوَّرُوا الْمِحْرَابَ
আপনার কাছে ঝগড়াকারী লোকদের সংবাদ পৌঁছেছে কি? যখন তারা ইবাদাতখানার দেয়াল টপকাল।
(সূরা সোয়াদু ২১)
দেয়াল বেয়ে আসাতে দাউদ (আঃ) ভয় পেলেন :
اِذْ دَخَلُوْا عَلٰى دَاوُوْدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ قَالُوْا لَا تَخَفْ
যখন তারা দাউদের কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাদেরকে দেখে ভীত হয়ে পড়লেন। তারা বলল, আপনি ভয় পাবেন না। (সূরা সোয়াদু ২২)
তারা বলল, আমরা বিচারপ্রার্থী :
خَصْمَانِ بَغٰى بَعْضُنَا عَلٰى بَعْضٍ فَاحْكُمْ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ وَاهْدِنَاۤ اِلٰى سَوَآءِ الصِّرَاطِ
(আমরা) বিবাদমান দু’টি পক্ষ, একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার করে দিন এবং (আপনি আমাদের মাঝে) অবিচার করবেন না। আর আপনি আমাদেরকে সঠিক পথপদর্শন করুন। (সূরা সোয়াদু ২২)
বাদী তার মামলা পেশ করল :
اِنَّ هٰذَاۤ اَخِيْ لَهٗ تِسْعٌ وَّتِسْعُوْنَ نَعْجَةً وَّلِيَ نَعْجَةٌ وَّاحِدَةٌ فَقَالَ اَكْفِلْنِيْهَا وَعَزَّنِيْ فِى الْخِطَابِ
এ লোকটি আমার ভাই, তার আছে নিরানববইটি দুম্বা রয়েছে। আর আমার রয়েছে একটি দুম্বা। এরপরও সে বলে এটাও আমাকে দিয়ে দাও এবং কথায় কথায় সে আমার উপর জোর দেখায়। (সূরা সোয়াদু ২৩)
দাউদ (আঃ) বিচারের রায় দিলেন :
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ اِلٰى نِعَاجِهٖؕ وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ الْخُلَطَآءِ لَيَبْغِيْ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيْلٌ مَّا هُمْ
দাউদ বললেন, তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করতে চেয়ে অবশ্যই সে তোমার প্রতি অত্যাচার করেছে। আর অধিকাংশ শরীকই একে অন্যের উপর অন্যায় আচরণ করে থাকে, তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করে থাকে তারা নয়, অবশ্য এরূপ লোক খুবই বিরল। (সূরা সোয়াদু ২৪)
দাউদ (আঃ) রহস্য বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলেন :
وَظَنَّ دَاوُوْدُ اَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهٗ وَخَرَّ رَاكِعًا وَّاَنَابْ
অতঃপর দাউদ বুঝতে পারলেন যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। অতএব তিনি তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাইলেন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ও তাঁর অভিমুখী হলেন। (সূরা সোয়াদ – ২৪)
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন :
فَغَفَرْنَا لَهٗ ذٰلِكَؕ وَاِنَّ لَهٗ عِنْدَنَا لَزُلْفٰى وَحُسْنَ مَاٰبٍ
আমি তাঁর ত্রুটি ক্ষমা করে দিলাম। আর তার জন্য রয়েছে আমার কাছে (নৈকট্য লাভের) মর্যাদা এবং উত্তম বাসস্থান। (সূরা সোয়াদু ২৫)
ব্যাখ্যা : দাউদ (আঃ) উরিয়ার (অথবা এ ব্যক্তির যে নাম থেকে থাকুক) কাছে নিছক নিজের মনের এ আকাঙ্ক্ষা পেশ করেছিলেন যে, সে যেন নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। যে কোন উপায়ে দাউদ (আঃ) ঐ ভদ্রমহিলার গুণাবলি জানতে পেরেছিলেন। তাঁর মনে আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল এ ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন মহিলার পক্ষে একজন সাধারণ অফিসারের স্ত্রী হয়ে থাকার পরিবর্তে রাজরাণী হওয়া উচিত। আর যেহেতু এ আকাঙ্ক্ষা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়নি বরং একজন ক্ষমতাধর শাসক এবং দ্বীনী গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক প্রজার সামনে প্রকাশ করা হচ্ছিল, তাই এ ব্যক্তি কোন প্রকার বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই তা গ্রহণ করে নেয়ার ব্যাপারে নিজেকে বাধ্য মনে করেছিলেন। এ অবস্থায় দাউদ (আঃ) এর আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য তার উদ্যোগ নেয়ার পূর্বেই জাতির দু’জন সৎলোক আকস্মিকভাবে দাউদ (আঃ) এর কাছে গেল এবং একটি কাল্পনিক মামলার আকারে এ বিষয়টি তাঁর সামনে পেশ করল। কাজেই মামলার বিবরণ শুনে তিনি নিজের ফায়সালা শুনিয়ে দিলেন। কিন্তু মুখ থেকে ফায়সালার শব্দগুলো বের হওয়ার সাথে সাথেই স্বীয় বিবেক তাঁকে সতর্ক করে দিল যে, এটি একটি রূপক আকারে তাঁর ও ঐ ব্যক্তির বিষয়ের সাথে মিলে যায় এবং যে কাজটিকে তিনি যুলুম হিসেবে গণ্য করেছেন তাঁর ও ঐ ব্যক্তির বিষয়ে তার প্রকাশ ঘটছে। এ অনুভূতি মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই তিনি আল্লাহর কাছে সিজদায় পড়ে গেলেন ও তাওবা করলেন এবং নিজের ঐ কাজটি থেকেও বিরত হলেন।
কুরআন মাজীদে এ ঘটনাটি দু’টি উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম উদ্দেশ্যটি হলো, নবী ﷺ কে ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দেয়া। এ উদ্দেশ্যে তাঁকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, এরা তোমার বিরুদ্ধে যা কিছু বলে সে ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করো এবং আমার বান্দা দাউদের কথা স্মরণ করো। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি হলো, কাফিরদেরকে এ কথা জানিয়ে দেয়া যে, তোমরা সব রকমের হিসাব-নিকাশের শঙ্কামুক্ত হয়ে দুনিয়ায় নানা রকম বাড়াবাড়ি করে যেতে থাকো। তবে জেনে রেখো, তোমরা যে সত্তার অধীনে এসব কাজ করে যাচ্ছ তিনি হিসাব-নিকাশ না নিয়ে কাউকে ছাড়বেন না। এমনকি যেসব বান্দা তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ও নৈকট্যলাভকারী হয় তারাও যদি কখনো সামান্যতম ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলেন, তাহলে তিনি তাদেরকেও কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন করবেন।
وَهَلْ اَتَاكَ نَبَاُ الْخَصْمِ اِذْ تَسَوَّرُوا الْمِحْرَابَ
আপনার কাছে ঝগড়াকারী লোকদের সংবাদ পৌঁছেছে কি? যখন তারা ইবাদাতখানার দেয়াল টপকাল।
(সূরা সোয়াদু ২১)
দেয়াল বেয়ে আসাতে দাউদ (আঃ) ভয় পেলেন :
اِذْ دَخَلُوْا عَلٰى دَاوُوْدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ قَالُوْا لَا تَخَفْ
যখন তারা দাউদের কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাদেরকে দেখে ভীত হয়ে পড়লেন। তারা বলল, আপনি ভয় পাবেন না। (সূরা সোয়াদু ২২)
তারা বলল, আমরা বিচারপ্রার্থী :
خَصْمَانِ بَغٰى بَعْضُنَا عَلٰى بَعْضٍ فَاحْكُمْ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ وَاهْدِنَاۤ اِلٰى سَوَآءِ الصِّرَاطِ
(আমরা) বিবাদমান দু’টি পক্ষ, একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার করে দিন এবং (আপনি আমাদের মাঝে) অবিচার করবেন না। আর আপনি আমাদেরকে সঠিক পথপদর্শন করুন। (সূরা সোয়াদু ২২)
বাদী তার মামলা পেশ করল :
اِنَّ هٰذَاۤ اَخِيْ لَهٗ تِسْعٌ وَّتِسْعُوْنَ نَعْجَةً وَّلِيَ نَعْجَةٌ وَّاحِدَةٌ فَقَالَ اَكْفِلْنِيْهَا وَعَزَّنِيْ فِى الْخِطَابِ
এ লোকটি আমার ভাই, তার আছে নিরানববইটি দুম্বা রয়েছে। আর আমার রয়েছে একটি দুম্বা। এরপরও সে বলে এটাও আমাকে দিয়ে দাও এবং কথায় কথায় সে আমার উপর জোর দেখায়। (সূরা সোয়াদু ২৩)
দাউদ (আঃ) বিচারের রায় দিলেন :
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ اِلٰى نِعَاجِهٖؕ وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ الْخُلَطَآءِ لَيَبْغِيْ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيْلٌ مَّا هُمْ
দাউদ বললেন, তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করতে চেয়ে অবশ্যই সে তোমার প্রতি অত্যাচার করেছে। আর অধিকাংশ শরীকই একে অন্যের উপর অন্যায় আচরণ করে থাকে, তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করে থাকে তারা নয়, অবশ্য এরূপ লোক খুবই বিরল। (সূরা সোয়াদু ২৪)
দাউদ (আঃ) রহস্য বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলেন :
وَظَنَّ دَاوُوْدُ اَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهٗ وَخَرَّ رَاكِعًا وَّاَنَابْ
অতঃপর দাউদ বুঝতে পারলেন যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। অতএব তিনি তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাইলেন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ও তাঁর অভিমুখী হলেন। (সূরা সোয়াদ – ২৪)
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন :
فَغَفَرْنَا لَهٗ ذٰلِكَؕ وَاِنَّ لَهٗ عِنْدَنَا لَزُلْفٰى وَحُسْنَ مَاٰبٍ
আমি তাঁর ত্রুটি ক্ষমা করে দিলাম। আর তার জন্য রয়েছে আমার কাছে (নৈকট্য লাভের) মর্যাদা এবং উত্তম বাসস্থান। (সূরা সোয়াদু ২৫)
ব্যাখ্যা : দাউদ (আঃ) উরিয়ার (অথবা এ ব্যক্তির যে নাম থেকে থাকুক) কাছে নিছক নিজের মনের এ আকাঙ্ক্ষা পেশ করেছিলেন যে, সে যেন নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। যে কোন উপায়ে দাউদ (আঃ) ঐ ভদ্রমহিলার গুণাবলি জানতে পেরেছিলেন। তাঁর মনে আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল এ ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন মহিলার পক্ষে একজন সাধারণ অফিসারের স্ত্রী হয়ে থাকার পরিবর্তে রাজরাণী হওয়া উচিত। আর যেহেতু এ আকাঙ্ক্ষা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে পেশ করা হয়নি বরং একজন ক্ষমতাধর শাসক এবং দ্বীনী গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক প্রজার সামনে প্রকাশ করা হচ্ছিল, তাই এ ব্যক্তি কোন প্রকার বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই তা গ্রহণ করে নেয়ার ব্যাপারে নিজেকে বাধ্য মনে করেছিলেন। এ অবস্থায় দাউদ (আঃ) এর আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য তার উদ্যোগ নেয়ার পূর্বেই জাতির দু’জন সৎলোক আকস্মিকভাবে দাউদ (আঃ) এর কাছে গেল এবং একটি কাল্পনিক মামলার আকারে এ বিষয়টি তাঁর সামনে পেশ করল। কাজেই মামলার বিবরণ শুনে তিনি নিজের ফায়সালা শুনিয়ে দিলেন। কিন্তু মুখ থেকে ফায়সালার শব্দগুলো বের হওয়ার সাথে সাথেই স্বীয় বিবেক তাঁকে সতর্ক করে দিল যে, এটি একটি রূপক আকারে তাঁর ও ঐ ব্যক্তির বিষয়ের সাথে মিলে যায় এবং যে কাজটিকে তিনি যুলুম হিসেবে গণ্য করেছেন তাঁর ও ঐ ব্যক্তির বিষয়ে তার প্রকাশ ঘটছে। এ অনুভূতি মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই তিনি আল্লাহর কাছে সিজদায় পড়ে গেলেন ও তাওবা করলেন এবং নিজের ঐ কাজটি থেকেও বিরত হলেন।
কুরআন মাজীদে এ ঘটনাটি দু’টি উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম উদ্দেশ্যটি হলো, নবী ﷺ কে ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দেয়া। এ উদ্দেশ্যে তাঁকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, এরা তোমার বিরুদ্ধে যা কিছু বলে সে ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করো এবং আমার বান্দা দাউদের কথা স্মরণ করো। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি হলো, কাফিরদেরকে এ কথা জানিয়ে দেয়া যে, তোমরা সব রকমের হিসাব-নিকাশের শঙ্কামুক্ত হয়ে দুনিয়ায় নানা রকম বাড়াবাড়ি করে যেতে থাকো। তবে জেনে রেখো, তোমরা যে সত্তার অধীনে এসব কাজ করে যাচ্ছ তিনি হিসাব-নিকাশ না নিয়ে কাউকে ছাড়বেন না। এমনকি যেসব বান্দা তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ও নৈকট্যলাভকারী হয় তারাও যদি কখনো সামান্যতম ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলেন, তাহলে তিনি তাদেরকেও কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন করবেন।