hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০৭

পর্ব- ২৪ : উত্তম গুণাবলি অধ্যায়- ১ : দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করা

চোখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করার নির্দেশ :

قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ اَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْؕ ذٰلِكَ اَزْكٰى لَهُمْؕ اِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ ۢبِمَا يَصْنَعُوْنَ

মুমিনদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। (সূরা নূর- ৩০)

ব্যাখ্যা : غَضٌّ (গাদ্বদুন) অর্থ হচ্ছে, কোন জিনিস কম করা, হ্রাস করা ও নিচু করা ইত্যাদি।

আর غَضُّ الْبَصَرِ (গাদ্বদুল বাসার) এর অর্থ হচ্ছে, পূর্ণ দৃষ্টিভরে না দেখা এবং দেখার জন্য দৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে না দেয়া। অর্থাৎ যে জিনিসটি দেখা সংগত নয় তার উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেবে। এজন্য দৃষ্টি নত করা যায় আবার অন্য কোন দিকে নজর ঘুরিয়েও নেয়া যায়। এ বিধি-নিষেধ যে জিনিসের উপর আরোপ করা হয়েছে সেটি হচ্ছে, পুরুষরা মহিলাদেরকে দেখবে না এবং মহিলারাও কোন পরপুরুষের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। কেউ কারো লজ্জাস্থানে দৃষ্টি দেবে না এবং অশ্লীল দৃশ্যের দিকেও তাকিয়ে থাকবে না। নিজের স্ত্রী বা মাহরাম নারীদের ছাড়া কাউকে নজর ভরে দেখা মানুষের জন্য জায়েয নয়। একবার হঠাৎ নজর পড়ে গেলে ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু প্রথম দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় মনে হলে সেখানে আবার দৃষ্টিপাত করা ক্ষমাযোগ্য নয়। নবী ﷺ এ ধরনের দেখাকে চোখের যিনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। (মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৬১১)

নারীদের জন্যও পুরুষদের মতো দৃষ্টি সংযত রাখার বিধান রয়েছে :

وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ اَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ

মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। (সূরা নূর- ৩১)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ ইচ্ছা করে পরপুরুষদের দেখা উচিত নয়। কিন্তু যদি হঠাৎ কোন পরপুরুষের প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়, তবে সাথে সাথে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং দ্বিতীয়বার দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। সকল ধরনের অশ্লীল দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রেও এ নীতি অবলম্বন করতে হবে।

লজ্জাস্থানের হেফাজত মুমিনের উত্তম বৈশিষ্ট্য :

وَالَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حَافِظُوْنَ

(আর ঐসব ব্যক্তিগণও মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত) যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। (সূরা মু’মিনূন- ৫)

ব্যাখ্যা : লজ্জাস্থানের হেফাজত করার দু’টি অর্থ হয়।

(এক) নিজের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা এবং অন্যের সামনে লজ্জাস্থান না খুলে।

(দুই) নিজেদের সততা ও পবিত্রতা সংরক্ষণ করা। অর্থাৎ যৌন স্বাধীনতা দান না করা এবং কামশক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাগামহীন না হওয়া।