hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২৮

অধ্যায়- ১১ : হারূন (আঃ) কে সহযোগী বানানোর আবেদন

মূসা (আঃ) হারূন (আঃ) কে তার সহযোগী করার জন্য প্রার্থনা করলেন :

وَاَخِيْ هَارُوْنُ هُوَ اَفْصَحُ مِنِّيْ لِسَانًا فَاَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُّصَدِّقُنِيْؗ اِنِّۤيْ اَخَافُ اَنْ يُّكَذِّبُوْنِ

আমার ভাই হারূন আমার থেকে ভালো করে কথা বলতে পারে। অতএব তাকে আমার সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আর আমি আশঙ্কা করি তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। (সূরা ক্বাসাস– ৩৪)

وَاجْعَلْ لِّيْ وَزِيْرًا مِّنْ اَهْلِيْ ‐ هَارُوْنَ اَخِيْ ‐ اُشْدُدْ بِهٖۤ اَزْرِيْ ‐ وَاَشْرِكْهُ فِۤيْ اَمْرِيْ ‐ كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيْرًا ‐ وَنَذْكُرَكَ كَثِيْرًا ‐ اِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيْرًا

আমার জন্য আমার স্বজনবর্গের মধ্য হতে একজনকে সাহায্যকারী হিসেবে মনোনীত করো, (অর্থাৎ) আমার ভাই হারূনকে। অতঃপর তা দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করো ও তাকে আমার কর্মে শরীক করো, যাতে আমরা প্রচুর পরিমাণে তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি এবং তোমাকে অধিক স্মরণ করতে পারি। নিশ্চয় তুমি আমাদের সম্যক দ্রষ্টা। (সূরা ত্বা–হা, ২৯-৩৫)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ আমার মনে এ মহান দায়িত্ব বহন করার মতো দৃঢ়তা সৃষ্টি করে দাও। আমার উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়িয়ে দাও। যেহেতু মূসা (আঃ) এর উপর অনেক বড় একটি কাজের দায়িত্ব সোপর্দ করা হচ্ছিল, যা বহন করার জন্য দূরন্ত সাহসের প্রয়োজন। তাই তিনি দু‘আ করেন, আমাকে এমন ধৈর্য, দৃঢ়তা ও সহনশীলতা দান করো, যা এ কাজের জন্য প্রয়োজন। মূসা (আঃ) নিজের মধ্যে বাগ্মীতার অভাব লক্ষ্য করতে পেরেছিলেন। ফলে তাঁর মনে এ আশঙ্কা জেগেছিল যে, নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কখনো তাঁর বক্তৃতা দেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই তিনি দু‘আ করেন, হে আল্লাহ! আমার জিহবার জড়তা দূর করে দাও, যাতে আমি লোকদেরকে নিজের কথা ভালোভাবে বুঝাতে পারি। এর অর্থ তিনি তোতলা ছিলেন- তা নয়। রাসূলগণ সবসময় এমন ধরনের লোক হয়েছেন, যাঁরা চেহারা, ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার দিক দিয়ে ছিলেন সর্বোত্তম। যাদের ভেতর ও বাহিরের প্রতিটি দিক মানুষকে প্রভাবিত করেছে। কোন রাসূলকে এমন কোন দোষ সহকারে পাঠানো হয়নি, যে কারণে তিনি লোকদের মধ্যে হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত হন অথবা লোকেরা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে।

মূসা (আঃ) এর দু‘আ আল্লাহ কবুল করলেন :

قَالَ قَدْ اُوْتِيْتَ سُؤْلَكَ يَا مُوْسٰى

তিনি বললেন, হে মূসা! তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হলো। (সূরা ত্বা–হা– ৩৬)

قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِاَخِيْكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُوْنَ اِلَيْكُمَاۚ بِاٰيَاتِنَاۚ اَنْتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُوْنَ

আল্লাহ বললেন, আমি তোমার ভাইয়ের দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করব এবং তোমাদের উভয়কে প্রাধান্য দান করব। ফলে তারা তোমাদের নিকট পৌঁছতে পারবে না। অতঃপর তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা আমার নিদর্শনের বলে তাদের উপর বিজয়ী হবে। (সূরা ক্বাসাস– ৩৫)

আল্লাহ হারূন (আঃ) কে নবী হিসেবে নির্বাচন করলেন :

وَوَهَبْنَا لَهٗ مِنْ رَّحْمَتِنَاۤ اَخَاهُ هَارُوْنَ نَبِيًّا

আমি নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারূনকে নবী হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মারইয়াম– ৫৩)

وَلَقَدْ اٰتَيْنَا مُوْسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَا مَعَهٗۤ اَخَاهُ هَارُوْنَ وَزِيْرًا

আমি তো মূসাকে কিতাব দান করেছিলাম এবং তার সাথে তার ভাই হারূনকে সাহায্যকারী হিসেবে মনোনীত করেছিলাম। (সূরা ফুরক্বানু ৩৫)