hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭৫

অধ্যায়- ৩ : মুহাম্মাদ ﷺ এর সার্বজনীনতা

তিনি বিশ্ববাসীর রাসূল :

قُلْ يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اِنِّيْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَيْكُمْ جَمِيْعًا

বলো, হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৮)

তিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ :

وَمَاۤ اَرْسَلْنَاكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ

আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর প্রতি কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া- ১০৭)

তিনি বিশ্ববাসীর জন্য ভীতি প্রদর্শনকারী :

تَبَارَكَ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِه لِيَكُوْنَ لِلْعَالَمِيْنَ نَذِيْرًا

তিনি কতই না মহান, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরক্বান (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী) অবতীর্ণ করেছেন; যাতে সে বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে। (সূরা ফুরক্বান- ১)

وَاُوْحِيَ اِلَيَّ هٰذَا الْقُرْاٰنُ لِاُنْذِرَكُمْ بِه وَمَنْ ۢ بَلَغَ

এ কুরআন আমার নিকট প্রেরিত হয়েছে, যেন আমি এর দ্বারা তোমাদেরকে এবং যার নিকট তা পৌঁছবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি। (সূরা আন‘আম- ১৯)

তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সুসংবাদদাতা :

وَمَاۤ اَرْسَلْنَاكَ اِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيْرًا وَّنَذِيْرًا وَّلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ

আমি তোমাকে সমগ্র মানবজাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (সূরা সাবা- ২৮)

তারা বিশ্বমানবের উপর সাক্ষী হবে :

لِيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِيْدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ

যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হন, আর তোমরাও মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও। (সূরা হজ্জ- ৭৮)

ব্যাখ্যা : নবী ﷺ কে সাক্ষী বানানোর বাক্যটি ব্যাপক অর্থ বহন করে। তিন ধরনের সাক্ষ্য প্রদান এর অন্তর্ভুক্ত :

(এক) মৌখিক সাক্ষ্য। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীন যেসব সত্য ও মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত নবী ﷺ তার সত্যতার সাক্ষী হবেন এবং দুনিয়াবাসীকে বলে দেবেন, এটিই সত্য।

(দুই) কর্মের সাক্ষ্য। অর্থাৎ নবী ﷺ যে মতবাদ পেশ করার জন্য আবির্ভাব হয়েছেন তিনি নিজের জীবনের সমগ্র কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা প্রদর্শন করবেন। তিনি যে জিনিসকে মন্দ বলেন, নিজে সে জিনিস থেকে মুক্ত থাকবেন। যে জিনিসকে ভালো বলেন তা নিজের জীবনে পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন করেন।

(তিন) পরকালীন সাক্ষ্য। অর্থাৎ আখিরাতে যখন আল্লাহর আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে তখন নবী ﷺ এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন যে, তাঁকে যে বিধান দেয়া হয়েছিল তা তিনি কোন প্রকার কম বেশি না করে হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাদের সামনে নিজের কথা ও কর্মের মাধ্যমে সত্যকে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরার ব্যাপারে সামান্যতম ত্রুটি করেননি।