hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭৯

অধ্যায়- ৭ : মুহাম্মাদ ﷺ এর মর্যাদা

তিনি বিশ্বমানবের উপর সাক্ষ্য হবেন :

وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا

এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছি; যেন তোমরা মানবজাতির জন্য (হেদায়াতের) সাক্ষী হও এবং রাসূলও তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়। (সূরা বাক্বারা- ১৪৩)

وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِيْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِيْدًا عَلَيْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيْدًا عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ

সেদিন আমি উত্থিত করব প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে তাদেরই মধ্য হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকেও আমি এদের বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে নিয়ে আসব। (সূরা নাহল- ৮৯)

فَكَيْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ ۢبِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ شَهِيْدًا

যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব তখন কী অবস্থা হবে? (সূরা নিসা- ৪১)

ব্যাখ্যা : প্রত্যেক যুগের নবী তাঁর যুগের লোকদের ব্যাপারে আল্লাহর আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন যে, হে আল্লাহ! মানবজাতিকে সহজসরল পথপ্রদর্শনের জন্য উন্নত চিন্তা-চেতনা ও কর্মের সঠিক পদ্ধতির যে শিক্ষা তুমি আমাকে দিয়েছিলে তা আমি এদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারপর এ সাক্ষ্য মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর যুগের লোকদের ব্যাপারেও পেশ করবেন।

নবী ﷺ এর ফায়সালা না মানলে মুমিন হওয়া যায় না :

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتّٰى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوْا فِۤيْ اَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের ঝগড়া-বিবাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে। অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং তা মেনে না নেয়। (সূরা নিসা- ৬৫)

ব্যাখ্যা : এ নির্দেশটি কেবল রাসূল ﷺ এর জীবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর হবে। নবী ﷺ আল্লাহর কাছ থেকে যা কিছু এনেছেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে কাজ করেছেন, তা চিরস্থায়ীভাবে মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত ফায়সালাকারী সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সনদটি মানা ও না মানার উপরই কোন ব্যক্তির মুমিন হওয়া না হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। যে ব্যক্তি এ সনদটি যতটুকু পালন করবে তার ঈমানের পরিমাণটাও ততটুকুই নির্ধারিত হবে।

নবী ﷺ এর উপস্থিতিতে আযাব আসে না :

وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَاَنْتَ فِيْهِمْؕ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ

আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে আর তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আর তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (সূরা আনফাল- ৩৩)

ব্যাখ্যা : দু’টি কারণ বিদ্যমান থাকলে আল্লাহ তা‘আলা কোন সম্প্রদায়ের উপর আযাব প্রেরণ করেন না। প্রথম কারণ হচ্ছে, যতদিন কোন নবী কোন জনবসতিতে উপস্থিত থাকেন এবং সত্যের দাওয়াত দিতে থাকেন ততদিন পর্যন্ত জনবসতির অধিবাসীদের অবকাশ দেয়া হয় এবং পূর্বাহ্নে আযাব পাঠিয়ে তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ কেড়ে নেয়া হয় না। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, যতদিন পর্যন্ত কোন জনবসতি থেকে এমন ধরনের লোকেরা একের পর এক বের হয়ে আসতে থাকে, যারা নিজেদের পূর্ববর্তী ভুল কর্মনীতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মনীতি সংশোধন করে নেয়, ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জনবসতিকে মহান আল্লাহ ধ্বংস করেন না।

কেউ চাইলেই তাঁর ক্ষতি করতে পারত না :

وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهٗ لَهَمَّتْ طَّآئِفَةٌ مِّنْهُمْ اَنْ يُّضِلُّوْكَؕ وَمَا يُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّوْنَكَ مِنْ شَيْءٍ

তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে চাইত। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যতীত আর কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তোমার কোন ক্ষতিও করতে পারে না। (সূরা নিসা- ১১৩)