hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭৫

অধ্যায়- ৬ : ইবরাহীম (আঃ) এর কাছে ফেরেশতা আগমনের ঘটনা

মেহমান হিসেবে কয়েকজন ফেরেশতা আগমন করেন :

وَنَبِّئْهُمْ عَنْ ضَيْفِ اِبْرَاهِيْمَ

আর তাদেরকে ইবরাহীমের অতিথিদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করো। (সূরা হিজর– ৫১)

هَلْ اَتَاكَ حَدِيْثُ ضَيْفِ اِبْرَاهِيْمَ الْمُكْرَمِيْنَ

হে নবী! তোমার নিকট ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের কাহিনী পৌঁছেছে কি? (সূরা যারিয়াত– ২৪)

তাঁরা ইবরাহীম (আঃ) কে সালাম দিলেন :

اِذْ دَخَلُوْا عَلَيْهِ فَقَالُوْا سَلَامًاؕ قَالَ اِنَّا مِنْكُمْ وَجِلُوْنَ

যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম’, তখন তিনি বলেছিলেন, আমরা তোমাদের আগমনে আতঙ্কিত। (সূরা হিজর– ৫২)

ইবরাহীম (আঃ) সালামের জওয়াব দিলেন :

وَلَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُنَاۤ اِبْرَاهِيْمَ بِالْبُشْرٰى قَالُوْا سَلَامًا قَالَ سَلَامٌ

আমার দূতগণ সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম।’ (সূরা হুদু ৬৯)

তিনি মেহমানদারীর জন্য একটি ভূনা করা বাছুর নিয়ে আসলেন :

فَمَا لَبِثَ اَنْ جَآءَ بِعِجْلٍ حَنِيْذٍ

সে অবিলম্বে এক কাবাবকৃত গো–বৎস নিয়ে আসল। (সূরা হুদু ৬৯)

فَرَاغَ اِلٰۤى اَهْلِهٖ فَجَآءَ بِعِجْلٍ سَمِيْنٍ ‐ فَقَرَّبَهٗۤاِلَيْهِمْ قَالَ اَ لَا تَأْكُلُوْنَ

অতঃপর ইবরাহীম তাঁর স্ত্রীর নিকট গেলেন এবং একটি গরুর বাছুরের ভাজা গোশত নিয়ে আসলেন। তা তাদের সামনে রাখলেন এবং বললেন, আপনারা খাচ্ছেন না কেন? (সূরা যারিয়াত– ২৬, ২৭)

ফেরেশতারা না খাওয়াতে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন :

فَاَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيْفَةً

এতে তিনি তাদের সম্পর্কে মনে মনে ভয় পেয়ে গেলেন। (সূরা যারিয়াত– ২৮)

فَلَمَّا رَاٰۤى اَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ اِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَاَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيْفَةً

সে যখন দেখল, তাদের হাত সেটার দিকে প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করল এবং তাদের সম্বন্ধে তার মনে ভীতি সঞ্চার হলো। (সূরা হুদু ৭০)

ফেরেশতারা তাকে আশ্বস্ত করলেন :

قَالُوْا لَا تَخَفْ اِنَّاۤ اُرْسِلْنَاۤ اِلٰى قَوْمِ لُوْطٍ

তারা বলল, ভয় করো না; আমরা তো লূতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। (সূরা হুদু ৭০)

তাদের আগমনের কারণ বর্ণনা করলেন :

قَالُوْاۤ اِنَّاۤ اُرْسِلْنَاۤ اِلٰى قَوْمٍ مُّجْرِمِيْنَ ‐ لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّنْ طِيْنٍ ‐ مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِيْنَ

তাঁরা বললেন, আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের (লূত জাতির) নিকট পাঠানো হয়েছে। তাদের উপর মাটির শক্ত কঙ্কর নিক্ষেপ করার জন্য, যা তোমার প্রতিপালকের নিকট সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত। (সূরা যারিয়াত, ৩২–৩৪)

তারা ইসহাক (আঃ) জন্মের সুসংবাদ দিলেন :

قَالُوْا لَا تَوْجَلْ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ عَلِيْمٍ

তারা বলল, ভয় করো না, আমরা তোমাকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। (সূরা হিজর– ৫৩)

ইবরাহীম (আঃ) বললেন, আমি তো এখন বৃদ্ধ :

قَالَ اَبَشَّرْتُمُوْنِيْ عَلٰۤى اَنْ مَّسَّنِيَ الْكِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُوْنَ

সে বলল, আমি বৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তোমরা কি আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছ? (মূলত) তোমরা কী বিষয়ে সুসংবাদ দিচ্ছ (তা বুঝিয়ে বলো)? (সূরা হিজর– ৫৪)

ফেরেশতারা বললেন, আপনি হতাশ হবেন না :

قَالُوْا بَشَّرْنَاكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُنْ مِّنَ الْقَانِطِيْنَ ‐ قَالَ وَمَنْ يَّقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهٖۤ اِلَّا الضَّآلُّوْنَ

তারা বলল, আমরা সত্য সংবাদ দিচ্ছি; সুতরাং আপনি হতাশ হবেন না। সে বলল, যারা পথভ্রষ্ট তারা ব্যতীত আর কে তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ হতে হতাশ হতে পারে? (সূরা হিজর– ৫৫, ৫৬)

স্ত্রীকেও এ সুসংবাদ দেয়া হলো :

وَامْرَاَتُهٗ قَآئِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِاِسْحَاقَ وَمِنْ وَّرَآءِ اِسْحَاقَ يَعْقُوْبَ

অতঃপর তার স্ত্রী দাঁড়ানো এবং সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাক ও ইসহাকের পরবর্তীতে ইয়াকূবের সুসংবাদ দিলাম। (সূরা হুদু ৭১)

ইবরাহীম (আঃ) এর স্ত্রীও অবাক হলেন :

قَالَتْ يَا وَيْلَتَاۤ اَ اَلِدُ وَاَنَاْ عَجُوْزٌ وَّهٰذَا بَعْلِيْ شَيْخًاؕ اِنَّ هٰذَا لَشَيْءٌ عَجِيْبٌ

সে বলল, কি আশ্চর্য! আমি সন্তানের জননী হব! অথচ আমি বৃদ্ধা ও আমার স্বামী বৃদ্ধ। নিশ্চয় এটা এক আশ্চর্যের ব্যাপার। (সূরা হুদু ৭২)

ফেরেশতারা বললেন, অবাক হওয়ার কিছু নেই :

قَالُوْاۤ اَتَعْجَبِيْنَ مِنْ اَمْرِ اللهِ رَحْمَتُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ عَلَيْكُمْ اَهْلَ الْبَيْتِؕ اِنَّهٗ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

তারা বলল, আল্লাহর কাজে তুমি বিস্ময় বোধ করছ? হে পরিবারবর্গ! তোমাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ। নিশ্চয় তিনি প্রশংসীত ও সম্মানীত। (সূরা হুদু ৭৩)

এটা তো আল্লাহর ইচ্ছার ব্যাপার :

قَالُوْا كَذٰلِكِ قَالَ رَبُّكِؕ اِنَّهٗ هُوَ الْحَكِيْمُ الْعَلِيْمُ

তারা বললেন, তোমার প্রতিপালক এরকমই বলেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ। (সূরা যারিয়াত– ৩০)