hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫১৮

১৪-১৫. মূসা ও হারূন (আঃ) অধ্যায়- ১ : মূসা ও হারূন (আঃ) এর পরিচিতি

মূসা (আঃ) ছিলেন বনী ইসরাঈলদের উপর প্রেরিত নবী ও রাসূল। হারূন (আঃ) ছিলেন তার ভাই। তাদের পিতার নাম ইমরান। প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি বর্তমান মিসরেই তারা জন্মগ্রহণ করেন। মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের চিরশত্রু তৎকালীন মিসর সম্রাটের ঘরেই লালিত-পালিত হন। অতঃপর ৪০ বছর বয়সে তুয়া নামক উপত্যকায় নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন। তারপর তূর পবর্তে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। কুরআন মাজীদে তাঁর অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা, সম্মানজনকভাবে লালন-পালন, কৈশোর ও যৌবনের নানা ঘটনা, হিজরত, বিবাহ, দেশে প্রত্যাবর্তন, ফিরাউনের সাথে সংঘাত ও সংগ্রাম ইত্যাদি নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ যা কিছু করতে চান সেজন্য তিনি সবার অলক্ষ্যে তার উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করে দেন। যার হাতে শেষ পর্যন্ত ফিরাউনের রাজত্বের অবসান ঘটবে, তাকে আল্লাহ ফিরাউনের গৃহেই প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেন। ফিরাউন জানতেও পারেনি যে, সে কাকে প্রতিপালন করছে। সেই আল্লাহর ইচ্ছার সাথে কে লড়াই করতে পারে এবং তাঁর মুকাবিলায় কার কৌশল সফল হতে পারে? আল্লাহ যদি কোন বান্দার দ্বারা কোন কাজ করিয়ে নিতে চান, তবে কোন সেনাবাহিনী ও সাজ-সরঞ্জাম ছাড়াই তার উত্থান ঘটতে পারে। এতে অপর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। বাহ্যত তার কাছে কোন শক্তির বহর নাও থাকতে পারে। কিন্তু বড় বড় সেনাদল ও সাজ-সরঞ্জামের অধিকারীরাও তার মুকাবিলায় সফল হতে পারে না।

মূসা ও হারূন (আঃ) এর উপর সালাম :

سَلَامٌ عَلٰى مُوْسٰى وَهَارُوْنَ

‘সালাম’ বর্ষিত হোক মূসা ও হারূনের উপর। (সূরা সাফফাত- ১২০)

তারা মুমিন বান্দা ছিলেন :

اِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِيْنَ

নিশ্চয় তারা উভয়ে ছিলেন আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা সাফফাত– ১২২)

আল্লাহ মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ) এর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন :

وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلٰى مُوْسٰى وَهَارُوْنَ

আর আমি মূসা ও হারূনের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম। (সূরা সাফফাত– ১১৪)

আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন :

وَاٰتَيْنَاهُمَا الْكِتَابَ الْمُسْتَبِيْنَ ‐ وَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ

আমি তাদের উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম এবং তাদের উভয়কে সরল–সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম। (সূরা সাফফাত– ১১৭, ১১৮)

পরবর্তীদের মধ্যে তাদের খ্যাতি রেখে দিয়েছেন :

وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى الْاٰخِرِيْنَ

আর আমি তাদের উভয়কে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় করে রাখলাম। (সূরা সাফফাত– ১১৯)

সৎকর্মশীলদের ফল এভাবেই দেয়া হয় :

اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ

এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। (সূরা সাফফাত– ১২১)