hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫৫

অধ্যায়- ৯ : আলমে বার্যাখ বা কবর

মৃত্যুর পর কিয়ামত পর্যন্ত সময়কাল হলো আলমে বার্যাখ :

وَمِنْ وَّرَآئِهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ

তাদের সম্মুখে আলমে বার্যাখ থাকবে উত্থান দিবস পর্যমত্ম। (সূরা মু’মিনূন- ১০০)

মানুষ মারা যায় কিন্তু আত্মা মরে না :

قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَؕ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ

তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল- আহা! যদি আমার সম্প্রদায় জানতে পারত। (সূরা ইয়াসীন- ২৬)

ব্যাখ্যা : যেসব আয়াত থেকে বার্যাখের জীবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এ আয়াতটি তার অন্যতম। এ থেকে জানা যায় যে, মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়কাল চূড়ান্ত অস্তিত্ব বিলুপ্তির যুগ নয়। এ সময় দেহ ছাড়াই প্রাণ জীবিত থাকে, কথা বলে, কথা শোনে, আবেগ-অনুভুতি পোষণ করে, আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করে এবং দুনিয়াবাসীদের ব্যাপারেও আগ্রহ অব্যাহত থাকে। যদি এমনটি না হতো, তাহলে মৃত্যুর পর কোন ব্যক্তি কেমন করে তার জাতির জন্য এ আকাঙ্ক্ষা করেন যে, হায়! যদি তারা তাঁর এ শুভ পরিণাম সম্পর্কে জানতে পারত!

মৃত্যুর পর থেকেই আযাব শুরু হয়ে যায় :

اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ ظَالِمِيْۤ اَنْفُسِهِمْ۪ فَاَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوْٓءٍؕ بَلٰۤى اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ ۢبِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ‐ فَادْخُلُوْاۤ اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِيْنَ

নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা অবস্থায় ফেরেশতাগণ যাদের মৃত্যু ঘটায়, তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, আমরা কোন মন্দকর্ম করতাম না। (আল্লাহ বলবেন) নিশ্চয় তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দ্বারগুলো দিয়ে প্রবেশ করো, সেথায় তোমরা স্থায়ী হবে। দেখো, অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট! (সূরা নাহল- ২৮, ২৯)

اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ طَيِّبِيْنَ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ

পবিত্র থাকা অবস্থায় ফেরেশতাগণ যাদের মৃত্যু ঘটায়। ফেরেশতাগণ তাদেরকে বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা নাহল- ৩২)

ব্যাখ্যা : এসব আয়াতে মৃত্যুর পর মুত্তাক্বী ও ফেরেশতাদের যে আলাপ-আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা কুরআন মাজীদের এমন ধরনের আয়াতের অন্যতম, যেগুলো সুস্পষ্টভাবে কবরের আযাব ও সওয়াবের প্রমাণ পেশ করে। হাদীসে ‘আলমে বারযাখ’- এর জন্য কবর শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ এমন একটি জগত, যেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করার পর থেকে নিয়ে পরবর্তী পুনরুত্থান লাভ করা পর্যন্ত মানুষের রূহগুলো অবস্থান করবে। মৃত্যুর মাধ্যমে দেহ ও রূহের আলাদা হয়ে যাওয়ার পর রূহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না। বরং দুনিয়ার জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক ও নৈতিক উপার্জনের মাধ্যমে যে ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তাসহ জীবিত থাকে।

মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে।

১. مَنْ رَّبُّكَ অর্থাৎ তোমার রব কে?

২. وَمَا دِيْنُكَ অর্থাৎ তোমার দ্বীন কী?

৩. وَمَنْ نَّبِيُّكَ অর্থাৎ তোমার নবী কে ছিলেন?

যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আল্লাহ সত্যের উপর অটল রাখবেন এবং তারা সঠিকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে। আর যারা কাফির ও মুনাফিক তারা কিছুই বলতে পারবে না। বরং তারা বলবে, হায়! হায়! আমি তো কিছুই জানি না।