১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৬৯
অধ্যায়- ৬ : অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দাঁড় করানো হবে
প্রত্যেক জাতির পক্ষ থেকে সাক্ষী দাঁড় করানো হবে :
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِيْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِيْدًا عَلَيْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيْدًا عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ
সেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্য হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী পুনরুত্থিত করব এবং তোমাকেও এদের উপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। (সূরা নাহল- ৮৯)
فَكَيْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ ۢبِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ شَهِيْدًا
যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব, তখন কী অবস্থা হবে? (সূরা নিসা- ৪১)
ব্যাখ্যা : সাক্ষীরা মানুষের কাজকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। এসব সাক্ষী কেবল মানুষই হবে তা জরুরি নয়। নবী, আমলনামা, ফেরেশতা, জিন, জীবজন্তু, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহ, জমিন, ঘরবাড়ি, দরজা, প্রাচীর, গাছপালা, পাথর সবকিছুই এসব সাক্ষীর অন্তর্ভুক্ত হবে। যে নবী উম্মতকে তাওহীদ ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাদেরকে শিরক ও কুসংস্কার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং কিয়ামতের ময়দানে জবাবদিহি করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন- তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন যে, তিনি তাদের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। কাজেই তারা যা কিছু করছে তা অজ্ঞতার কারণে নয় বরং জেনে বুঝেই করেছে।
উম্মতে মুহাম্মাদীরাও সাক্ষ্য দেবে :
وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا
এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী (ন্যায়পরায়ণ) উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছি, যেন তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূলও তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়। (সূরা বাক্বারা- ১৪৩)
ফেরেশতাও সাক্ষ্য দেবে :
وَجَآءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَآئِقٌ وَّشَهِيْدٌ
সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে চালক ও সাক্ষী। (সূরা ক্বাফ- ২১)
মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও সাক্ষ্য দেবে :
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ اَلْسِنَتُهُمْ وَاَيْدِيْهِمْ وَاَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
সেদিন তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা সমূহ তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। (সূরা নূর- ২৪)
اَلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤى اَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَاۤ اَيْدِيْهِمْ وَتَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেব। অতঃপর তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তারা যা করত সে সম্পর্কে তাদের পা সাক্ষ্য প্রদান করবে। (সূরা ইয়াসীন- ৬৫)
وَيَوْمَ يُحْشَرُ اَعْدَآءُ اللهِ اِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوْزَعُوْنَ – حَتّٰۤى اِذَا مَا جَآءُوْهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَاَبْصَارُهُمْ وَجُلُوْدُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ – وَقَالُوْا لِجُلُوْدِهِمْ لِمَ شَهِدْتُّمْ عَلَيْنَاؕ قَالُوْاۤ اَنْطَقَنَا اللهُ الَّذِيْۤ اَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَّهُوَ خَلَقَكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ – وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ اَنْ يَّشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَاۤ اَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُوْدُكُمْ وَلٰكِنْ ظَنَنْتُمْ اَنَّ اللهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيْرًا مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ – وَذٰلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِيْ ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ اَرْدَاكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ مِّنَ الْخَاسِرِيْنَ
সেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছবে, তখন তাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক (চামড়া) তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা তো কোনকিছুই গোপন করতে না এ বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। মূলত তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংসের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ। (সূরা হা-মীম সাজদা, ১৯-২৩)
ব্যাখ্যা : যে অপরাধীরা তাদের অপরাধ মেনে নিতে অস্বীকার করবে, সাক্ষীদের মিথ্যা বলবে এবং আমলনামার নির্ভুলতাও মেনে নেবে না; তাদের ব্যাপারে এ ফায়সালা দেয়া হবে। তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দেবেন- ঠিক আছে, তোমাদের বাজে কথা বন্ধ করো এবং লক্ষ্য করো, তোমাদের নিজেদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তোমাদের কৃতকর্মের কী বর্ণনা দেয়। তাই বলা হয়েছে, তাদের হাত, পা, চোখ, কান, জিহবা এবং শরীরের চর্মও সব কাজের পূর্ণ বিবরণ শুনিয়ে দেবে।
জমিন মানুষের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে :
يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخْبَارَهَا ‐ بِاَنَّ رَبَّكَ اَوْحٰى لَهَا
সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কেননা, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। (সূরা যিলযাল- ৪, ৫)
ব্যাখ্যা : এ থেকে জানা যায় যে, কিয়ামতের দিন কেবল মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গই সাক্ষ্য দেবে না, বরং যেসব ব্যক্তি অথবা বস্তুর সামনে কাজ করেছিল অথবা যেসব ব্যক্তি অথবা বস্তুর মাধ্যমে কাজ সংঘটিত করেছিল সবকিছুই কথা বলে উঠবে।
পাপীরা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে :
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ اَلَمْ يَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ يَقُصُّوْنَ عَلَيْكُمْ اٰيَاتِيْ وَيُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هٰذَا قَالُوْا شَهِدْنَا عَلٰۤى اَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوْا عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ كَانُوْا كَافِرِيْنَ
আমি তাদেরকে বলব, হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য হতে কি রাসূলগণ তোমাদের কাছে আসেনি, যারা আমার নিদর্শনসমূহ তোমাদের নিকট বর্ণনা করত এবং তোমাদেরকে এ দিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করত? তারা বলবে, আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম। বস্তুত পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছিল, আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্য দেবে যে, তারা কাফির ছিল। (সূরা আন‘আম- ১৩০)
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِيْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِيْدًا عَلَيْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيْدًا عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ
সেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্য হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী পুনরুত্থিত করব এবং তোমাকেও এদের উপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব। (সূরা নাহল- ৮৯)
فَكَيْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ ۢبِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰۤؤُلَآءِ شَهِيْدًا
যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব, তখন কী অবস্থা হবে? (সূরা নিসা- ৪১)
ব্যাখ্যা : সাক্ষীরা মানুষের কাজকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। এসব সাক্ষী কেবল মানুষই হবে তা জরুরি নয়। নবী, আমলনামা, ফেরেশতা, জিন, জীবজন্তু, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহ, জমিন, ঘরবাড়ি, দরজা, প্রাচীর, গাছপালা, পাথর সবকিছুই এসব সাক্ষীর অন্তর্ভুক্ত হবে। যে নবী উম্মতকে তাওহীদ ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাদেরকে শিরক ও কুসংস্কার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং কিয়ামতের ময়দানে জবাবদিহি করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন- তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন যে, তিনি তাদের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। কাজেই তারা যা কিছু করছে তা অজ্ঞতার কারণে নয় বরং জেনে বুঝেই করেছে।
উম্মতে মুহাম্মাদীরাও সাক্ষ্য দেবে :
وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا
এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী (ন্যায়পরায়ণ) উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছি, যেন তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূলও তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়। (সূরা বাক্বারা- ১৪৩)
ফেরেশতাও সাক্ষ্য দেবে :
وَجَآءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَآئِقٌ وَّشَهِيْدٌ
সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে চালক ও সাক্ষী। (সূরা ক্বাফ- ২১)
মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও সাক্ষ্য দেবে :
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ اَلْسِنَتُهُمْ وَاَيْدِيْهِمْ وَاَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
সেদিন তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা সমূহ তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। (সূরা নূর- ২৪)
اَلْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٰۤى اَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَاۤ اَيْدِيْهِمْ وَتَشْهَدُ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ
আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেব। অতঃপর তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তারা যা করত সে সম্পর্কে তাদের পা সাক্ষ্য প্রদান করবে। (সূরা ইয়াসীন- ৬৫)
وَيَوْمَ يُحْشَرُ اَعْدَآءُ اللهِ اِلَى النَّارِ فَهُمْ يُوْزَعُوْنَ – حَتّٰۤى اِذَا مَا جَآءُوْهَا شَهِدَ عَلَيْهِمْ سَمْعُهُمْ وَاَبْصَارُهُمْ وَجُلُوْدُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ – وَقَالُوْا لِجُلُوْدِهِمْ لِمَ شَهِدْتُّمْ عَلَيْنَاؕ قَالُوْاۤ اَنْطَقَنَا اللهُ الَّذِيْۤ اَنْطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَّهُوَ خَلَقَكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ – وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ اَنْ يَّشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَاۤ اَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُوْدُكُمْ وَلٰكِنْ ظَنَنْتُمْ اَنَّ اللهَ لَا يَعْلَمُ كَثِيْرًا مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ – وَذٰلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِيْ ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ اَرْدَاكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ مِّنَ الْخَاسِرِيْنَ
সেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছবে, তখন তাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক (চামড়া) তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা তো কোনকিছুই গোপন করতে না এ বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। মূলত তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংসের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ। (সূরা হা-মীম সাজদা, ১৯-২৩)
ব্যাখ্যা : যে অপরাধীরা তাদের অপরাধ মেনে নিতে অস্বীকার করবে, সাক্ষীদের মিথ্যা বলবে এবং আমলনামার নির্ভুলতাও মেনে নেবে না; তাদের ব্যাপারে এ ফায়সালা দেয়া হবে। তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দেবেন- ঠিক আছে, তোমাদের বাজে কথা বন্ধ করো এবং লক্ষ্য করো, তোমাদের নিজেদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তোমাদের কৃতকর্মের কী বর্ণনা দেয়। তাই বলা হয়েছে, তাদের হাত, পা, চোখ, কান, জিহবা এবং শরীরের চর্মও সব কাজের পূর্ণ বিবরণ শুনিয়ে দেবে।
জমিন মানুষের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে :
يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخْبَارَهَا ‐ بِاَنَّ رَبَّكَ اَوْحٰى لَهَا
সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কেননা, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। (সূরা যিলযাল- ৪, ৫)
ব্যাখ্যা : এ থেকে জানা যায় যে, কিয়ামতের দিন কেবল মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গই সাক্ষ্য দেবে না, বরং যেসব ব্যক্তি অথবা বস্তুর সামনে কাজ করেছিল অথবা যেসব ব্যক্তি অথবা বস্তুর মাধ্যমে কাজ সংঘটিত করেছিল সবকিছুই কথা বলে উঠবে।
পাপীরা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে :
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ اَلَمْ يَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ يَقُصُّوْنَ عَلَيْكُمْ اٰيَاتِيْ وَيُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هٰذَا قَالُوْا شَهِدْنَا عَلٰۤى اَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوْا عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ كَانُوْا كَافِرِيْنَ
আমি তাদেরকে বলব, হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য হতে কি রাসূলগণ তোমাদের কাছে আসেনি, যারা আমার নিদর্শনসমূহ তোমাদের নিকট বর্ণনা করত এবং তোমাদেরকে এ দিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করত? তারা বলবে, আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম। বস্তুত পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছিল, আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্য দেবে যে, তারা কাফির ছিল। (সূরা আন‘আম- ১৩০)