hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫৫

অধ্যায়- ২ : সুলায়মান (আঃ) এর মু‘জিযা

সুলায়মান (আঃ) পশু–পাখীর ভাষা বুঝতেন :

وَقَالَ يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ

সুলায়মান বলেছিল, হে মানুষ! আমাকে বিহঙ্গকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে। (সূরা নামল– ১৬)

বাতাসকে তার অধীন করে দেয়া হয়েছিল :

فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيْحَ تَجْرِيْ بِاَمْرِهٖ رُخَآءً حَيْثُ اَصَابَ

তখন আমি বাতাসকে তার অধীন করে দিলাম, যা তার নির্দেশে যেখানে ইচ্ছা সেখানে মৃদু গতিতে প্রবাহিত হতো। (সূরা সোয়াদু ৩৬)

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيْحَ عَاصِفَةً تَجْرِيْ بِاَمْرِهٖۤ اِلَى الْاَرْضِ الَّتِيْ بَارَكْنَا فِيْهَاؕ وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِيْنَ

আর আমি প্রবল বাতাসকে সুলায়মানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার আদেশক্রমে ঐ ভূমির দিকে প্রবাহিত হতো, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। (সূরা আম্বিয়া– ৮১)

তিনি একদিনে দুই মাস দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেন :

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيْحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَّرَوَاحُهَا شَهْرٌ

আমি বাতাসকে সুলায়মানের অনুগত করে দিয়েছিলাম, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। (সূরা সাবা– ১২)

তাকে গলিত তামার ঝর্ণা দেয়া হয়েছিল :

وَاَسَلْنَا لَهٗ عَيْنَ الْقِطْرِ

আর আমি তার জন্য গলিত তামার ঝর্ণা প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম। (সূরা সাবা– ১২)

জিনেরা সুলায়মান (আঃ) এর কর্মচারী ছিল :

وَمِنَ الْجِنِّ مَنْ يَّعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِاِذْنِ رَبِّهٖؕ وَمَنْ يَّزِغْ مِنْهُمْ عَنْ اَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيْرِ

কিছু সংখ্যক জিন তাঁর সামনে তাঁর প্রতিপালকের নির্দেশে কাজ করত। তাদের মধ্য থেকে যে আমার আদেশ অমান্য করে বক্র পথে যাবে, তাকে আমি জাহান্নামের আযাব ভোগ করাব। (সূরা সাবা– ১২)

তারা বিভিন্ন জিনিস তৈরি করত :

يَعْمَلُوْنَ لَهٗ مَا يَشَآءُ مِنْ مَّحَارِيْبَ وَتَمَاثِيْلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُوْرٍ رَّاسِيَاتٍ

তারা (জিনেরা) সুলায়মানের জন্য সেসব বস্তু নির্মাণ করত, যা তিনি ইচ্ছা করতেন। যেমন বড় বড় অট্টালিকা, মূর্তি, চৌবাচ্চার ন্যায় বড় বড় পাত্র এবং চুল্লির উপর দৃঢ়ভাবে স্থাপিত বড় ডেগসমূহ। (সূরা সাবা– ১৩)

ব্যাখ্যা : تَمَاثِيْلُ (তামাসীল) শব্দটির উপর ভিত্তি করে কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ ও পশুর ছবি হালাল এ বিধান দেয়া যেতে পারে না। বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী সনদযুক্ত হাদীস থেকে এ কথা প্রমাণিত যে, নবী ﷺ প্রাণীজাতীয় যে কোন জিনিসের মূর্তি বা ছবি নির্মাণ ও সংরক্ষণকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।

এছাড়াও তারা ডুবুরীর কাজ করত :

وَمِنَ الشَّيَاطِيْنِ مَنْ يَّغُوْصُوْنَ لَهٗ وَيَعْمَلُوْنَ عَمَلًا دُوْنَ ذٰلِكَۚ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِيْنَ

কতক শয়তান তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত, এটা ব্যতীত অন্যান্য কাজও করত। আর আমি ছিলাম তাদের রক্ষাকারী। (সূরা আম্বিয়া– ৮২)

وَالشَّيَاطِيْنَ كُلَّ بَنَّآءٍ وَّغَوَّاصٍ

আর শয়তানদেরকেও অধীন করে দিয়েছিলাম, যারা ছিল ইমারত নির্মাণকারী ও ডুবুরী। (সূরা সোয়াদু ৩৭)

সুলায়মান (আঃ) দুষ্ট জিনকে আটক রাখতেন :

وَاٰخَرِيْنَ مُقَرَّنِيْنَ فِى الْاَصْفَادِ

আরো অনেক (জিন) ছিল, যারা শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকত। (সূরা সোয়াদু ৩৮)