১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৬
অধ্যায়- ২ : হিজরতের ফযীলত ও উপকারিতা
হিজরতকারীরাই প্রকৃত ঈমানদার :
وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰوَوْا وَّنَصَرُوْاۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّاؕ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْمٌ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। (সূরা আনফাল- ৭৪)
হিজরতকারীরা সফলকাম হয় :
اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় শ্রেয়, আর তারাই সফলকাম। (সূরা তাওবা- ২০)
আল্লাহ হিজরতকারীদেরকে ক্ষমা করেন :
ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِيْنَ هَاجَرُوْا مِنْ ۢبَعْدِ مَا فُتِنُوْا ثُمَّ جَاهَدُوْا وَصَبَرُوْاۤ اِنَّ رَبَّكَ مِنْ ۢبَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, তারপর জিহাদ করে এবং ধৈর্যধারণ করে; নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক এ সবকিছুর পর (তাদের প্রতি) ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নাহল- ১১০)
হিজরতকালে মারা গেলেও পুরস্কার রয়েছে :
وَمَنْ يَّخْرُجْ مِنْ ۢبَيْتِهٖ مُهَاجِرًا اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ اَجْرُهٗ عَلَى اللهِؕ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ হতে মুহাজির হয়ে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে; তার পুরস্কার আল্লাহর উপর বর্তাবে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নিসা- ১০০)
وَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ثُمَّ قُتِلُوْاۤ اَوْ مَاتُوْا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللهُ رِزْقًا حَسَنًاؕ وَاِنَّ اللهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِيْنَ
আর যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, অতঃপর নিহত হয়েছে অথবা মারা গিয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই তো সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। (সূরা হজ্জ- ৫৮)
ব্যাখ্যা : যদি ঈমান ও নেকীর পথে চলে কেউ দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত থেকে বঞ্চিতও হয়, তবুও কিয়ামতের দিন অবশ্যই এর ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এমনকি এর বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদানও পাওয়া যাবে। সত্যের দাওয়াতের পথে এমন একটি পর্যায় এসে যায়, যখন একজন সত্যপ্রিয় মানুষের জন্য উপকরণের নির্ভরতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে প্রাণপণ প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। এ অবস্থায় যারা হিসাব করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিচার করে এবং পা বাড়ানোর আগে প্রাণ রক্ষা ও জীবিকা উপার্জনের নিশ্চয়তা খুঁজে বেড়ায় তারা কিছুই করতে পারে না। এ অবস্থায় সফল হয় এমনসব লোক, যারা প্রতি মুহূর্তে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সবধরনের বিপদ উপেক্ষা করে নির্দ্বিধায় এগিয়ে যায়। তাদেরই ত্যাগ ও কুরবানীর ফলে শেষ পর্যন্ত এমন এক সময় উপস্থিত হয়, যখন ইসলাম সকল ভ্রান্ত মতবাদের উপর বিজয়ী হয়।
হিজরতের ফলাফল দুনিয়াতেও পাওয়া যায় :
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَهَبْنَا لَهُۤ اِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَؕ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا
অতঃপর যখন সে সত্যিই তাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং (পৃথক হয়ে গেল তাদের থেকেও) যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকত, তখন আমি তাকে ইসহাক ও (ইসহাক পুত্র) ইয়াকূব দান করলাম; এদের সবাইকেই আমি নবী বানিয়েছিলাম। (সূরা মারইয়াম- ৪৯)
ব্যাখ্যা : যেসব মুহাজির গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এগুলো তাদের জন্য সান্ত্বনাবাণী। তাদেরকে বলা হচ্ছে, হিজরত করার মাধ্যমে ইবরাহীম (আঃ) যেমন তাঁর পরিবারবর্গ থেকে বিচ্ছিনণ হয়ে যাননি; বরং উল্টো সফলকাম হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তোমরাও ধ্বংস হয়ে যাবে না। বরং তোমরা এমন মর্যাদা লাভ করবে, জাহেলিয়াতের অন্ধকারে পড়ে থাকা কুরাইশ বংশীয় কাফিররা যার কল্পনাও করতে পারবে না।
আল্লাহ হিজরতকারীদেরকে জান্নাত দান করবেন :
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّيْ لَاۤ اُضِيْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰىۚ بَعْضُكُمْ مِّنْ ۢبَعْضٍؕ فَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ وَاُوْذُوْا فِيْ سَبِيْلِيْ وَقَاتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللهِؕ وَاللهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ
অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের আহবানে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের পুরুষ অথবা নারীর মধ্য হতে কোন আমলকারীর আমল নষ্ট করব না, তোমরা পরস্পর এক। অতএব যারা হিজরত করেছে, তাদের ঘরবাড়ি হতে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং সংগ্রাম করেছে ও নিহত হয়েছে, অবশ্যই আমি তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে। এটা আল্লাহর নিকট হতে (তাদের জন্য) প্রতিদান; (মূলত) আল্লাহর নিকটই রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)
শানে নুযূল : উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ মুহাজির পুরুষদের সম্বন্ধে কুরআনের অনেক স্থানেই প্রশংসা করেছেন, কিন্তু মুহাজির নারীদের ব্যাপারে কোনকিছুই বলেননি। তবে কি আমরা হিজরতের কোন সওয়াব পাব না? তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি নাযিল করেন। (তিরমিযী, হা/৩০২৩)
হিজরতকারীরা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী হয় :
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اُولٰٓئِكَ يَرْجُوْنَ رَحْمَتَ اللهِؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা পোষণ করে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। (সূরা বাক্বারা- ২১৮)
মুহাজির ও আনসারগণ একে অপরের বন্ধু :
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰوَوْا وَّنَصَرُوْاۤ اُولٰٓئِكَ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। সূরা আনফাল- ৭২)
মুমিন মহিলারাও হিজরত করবে :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا جَآءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوْهُنَّؕ اَللهُ اَعْلَمُ بِاِيْمَانِهِنَّۚ فَاِنْ عَلِمْتُمُوْهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوْهُنَّ اِلَى الْكُفَّارِؕ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّوْنَ لَهُنَّ
হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের নিকট মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদেরকে (প্রথমে) পরীক্ষা করে নাও। তবে আল্লাহ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। অতঃপর যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তবে তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিয়ে দিয়ো না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিররা মুমিন নারীদের জন্যও বৈধ নয়। (সূরা মুমতাহিনা- ১০)
মুসলিমরা তাদেরকে বিয়ে করতে পারবে :
وَاٰتُوْهُمْ مَّاۤ اَنْفَقُوْاؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ اِذَاۤ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ
কাফিররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে। অতঃপর যদি তোমরা তাদেরকে বিয়ে কর এবং তাদেরকে তাদের মোহরানা দিয়ে দাও, তবে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। (সূরা মুমতাহিনা- ১০)
وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰوَوْا وَّنَصَرُوْاۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّاؕ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْمٌ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। (সূরা আনফাল- ৭৪)
হিজরতকারীরা সফলকাম হয় :
اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় শ্রেয়, আর তারাই সফলকাম। (সূরা তাওবা- ২০)
আল্লাহ হিজরতকারীদেরকে ক্ষমা করেন :
ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِيْنَ هَاجَرُوْا مِنْ ۢبَعْدِ مَا فُتِنُوْا ثُمَّ جَاهَدُوْا وَصَبَرُوْاۤ اِنَّ رَبَّكَ مِنْ ۢبَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, তারপর জিহাদ করে এবং ধৈর্যধারণ করে; নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক এ সবকিছুর পর (তাদের প্রতি) ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নাহল- ১১০)
হিজরতকালে মারা গেলেও পুরস্কার রয়েছে :
وَمَنْ يَّخْرُجْ مِنْ ۢبَيْتِهٖ مُهَاجِرًا اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ اَجْرُهٗ عَلَى اللهِؕ وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ হতে মুহাজির হয়ে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে; তার পুরস্কার আল্লাহর উপর বর্তাবে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নিসা- ১০০)
وَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ ثُمَّ قُتِلُوْاۤ اَوْ مَاتُوْا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللهُ رِزْقًا حَسَنًاؕ وَاِنَّ اللهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِيْنَ
আর যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, অতঃপর নিহত হয়েছে অথবা মারা গিয়েছে, অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই তো সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। (সূরা হজ্জ- ৫৮)
ব্যাখ্যা : যদি ঈমান ও নেকীর পথে চলে কেউ দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত থেকে বঞ্চিতও হয়, তবুও কিয়ামতের দিন অবশ্যই এর ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এমনকি এর বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদানও পাওয়া যাবে। সত্যের দাওয়াতের পথে এমন একটি পর্যায় এসে যায়, যখন একজন সত্যপ্রিয় মানুষের জন্য উপকরণের নির্ভরতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে প্রাণপণ প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। এ অবস্থায় যারা হিসাব করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিচার করে এবং পা বাড়ানোর আগে প্রাণ রক্ষা ও জীবিকা উপার্জনের নিশ্চয়তা খুঁজে বেড়ায় তারা কিছুই করতে পারে না। এ অবস্থায় সফল হয় এমনসব লোক, যারা প্রতি মুহূর্তে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সবধরনের বিপদ উপেক্ষা করে নির্দ্বিধায় এগিয়ে যায়। তাদেরই ত্যাগ ও কুরবানীর ফলে শেষ পর্যন্ত এমন এক সময় উপস্থিত হয়, যখন ইসলাম সকল ভ্রান্ত মতবাদের উপর বিজয়ী হয়।
হিজরতের ফলাফল দুনিয়াতেও পাওয়া যায় :
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَهَبْنَا لَهُۤ اِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَؕ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا
অতঃপর যখন সে সত্যিই তাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং (পৃথক হয়ে গেল তাদের থেকেও) যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকত, তখন আমি তাকে ইসহাক ও (ইসহাক পুত্র) ইয়াকূব দান করলাম; এদের সবাইকেই আমি নবী বানিয়েছিলাম। (সূরা মারইয়াম- ৪৯)
ব্যাখ্যা : যেসব মুহাজির গৃহত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এগুলো তাদের জন্য সান্ত্বনাবাণী। তাদেরকে বলা হচ্ছে, হিজরত করার মাধ্যমে ইবরাহীম (আঃ) যেমন তাঁর পরিবারবর্গ থেকে বিচ্ছিনণ হয়ে যাননি; বরং উল্টো সফলকাম হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তোমরাও ধ্বংস হয়ে যাবে না। বরং তোমরা এমন মর্যাদা লাভ করবে, জাহেলিয়াতের অন্ধকারে পড়ে থাকা কুরাইশ বংশীয় কাফিররা যার কল্পনাও করতে পারবে না।
আল্লাহ হিজরতকারীদেরকে জান্নাত দান করবেন :
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّيْ لَاۤ اُضِيْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰىۚ بَعْضُكُمْ مِّنْ ۢبَعْضٍؕ فَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ وَاُوْذُوْا فِيْ سَبِيْلِيْ وَقَاتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللهِؕ وَاللهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ
অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের আহবানে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের পুরুষ অথবা নারীর মধ্য হতে কোন আমলকারীর আমল নষ্ট করব না, তোমরা পরস্পর এক। অতএব যারা হিজরত করেছে, তাদের ঘরবাড়ি হতে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং সংগ্রাম করেছে ও নিহত হয়েছে, অবশ্যই আমি তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে। এটা আল্লাহর নিকট হতে (তাদের জন্য) প্রতিদান; (মূলত) আল্লাহর নিকটই রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)
শানে নুযূল : উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ মুহাজির পুরুষদের সম্বন্ধে কুরআনের অনেক স্থানেই প্রশংসা করেছেন, কিন্তু মুহাজির নারীদের ব্যাপারে কোনকিছুই বলেননি। তবে কি আমরা হিজরতের কোন সওয়াব পাব না? তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি নাযিল করেন। (তিরমিযী, হা/৩০২৩)
হিজরতকারীরা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী হয় :
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اُولٰٓئِكَ يَرْجُوْنَ رَحْمَتَ اللهِؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা পোষণ করে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। (সূরা বাক্বারা- ২১৮)
মুহাজির ও আনসারগণ একে অপরের বন্ধু :
اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَالَّذِيْنَ اٰوَوْا وَّنَصَرُوْاۤ اُولٰٓئِكَ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জীবন ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। সূরা আনফাল- ৭২)
মুমিন মহিলারাও হিজরত করবে :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا جَآءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوْهُنَّؕ اَللهُ اَعْلَمُ بِاِيْمَانِهِنَّۚ فَاِنْ عَلِمْتُمُوْهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوْهُنَّ اِلَى الْكُفَّارِؕ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّوْنَ لَهُنَّ
হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের নিকট মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদেরকে (প্রথমে) পরীক্ষা করে নাও। তবে আল্লাহ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। অতঃপর যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তবে তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠিয়ে দিয়ো না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিররা মুমিন নারীদের জন্যও বৈধ নয়। (সূরা মুমতাহিনা- ১০)
মুসলিমরা তাদেরকে বিয়ে করতে পারবে :
وَاٰتُوْهُمْ مَّاۤ اَنْفَقُوْاؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ اِذَاۤ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ
কাফিররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে। অতঃপর যদি তোমরা তাদেরকে বিয়ে কর এবং তাদেরকে তাদের মোহরানা দিয়ে দাও, তবে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। (সূরা মুমতাহিনা- ১০)