hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২১

অধ্যায়- ৪ : সাবা জাতির ধ্বংসের কাহিনী

‘সাবা’ হচ্ছে দক্ষিণ আরবের একটি বৃহৎ জাতির নাম। কয়েকটি বড় বড় গোত্রের সমন্বয়ে এ জাতিটি গড়ে উঠেছিল। এ জাতির আবাসভূমি ছিল আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, যা বর্তমানে ইয়ামান নামে পরিচিত। এর উত্থানকাল শুরু হয় খৃষ্টপূর্ব ১১০০ বছর থেকে। দাউদ ও সুলায়মান (আঃ) এর যুগে একটি ধনাঢ্য ও সম্পদশালী জাতি হিসেবে সারা দুনিয়ায় এ জাতির নাম ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে তারা ছিল একটি সূর্য উপাসক জাতি। তারপর যখন তাদের রাণী সুলায়মান (আঃ) এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তাদের বেশির ভাগ লোক মুসলিম হয়ে যায়। কিন্তু পরে আবার তাদের মাঝে শিরক ও মূর্তিপূজা প্রবল হয়ে উঠে।

তাদের জনপদ ছিল বাগানে ভরপুর :

لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِيْ مَسْكَنِهِمْ اٰيَةٌۚ جَنَّتَانِ عَنْ يَّمِيْنٍ وَّشِمَالٍؕ كُلُوْا مِنْ رِّزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوْا لَهٗؕ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَّرَبٌّ غَفُوْرٌ

সাবার জন্য তাদের বাসভূমিগুলো ছিল এক দৃষ্টান্ত। দু’টি বাগান- একটি ডানদিকে, অন্যটি বামদিকে। (তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রদত্ত রিযিক হতে ভক্ষণ করো এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তাদের সেই শহরটি ছিল উত্তম শহর; আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল প্রতিপালক। (সূরা সাবা- ১৫)

আল্লাহ তাদের সফরের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন :

وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْقُرَى الَّتِيْ بَارَكْنَا فِيْهَا قُرًى ظَاهِرَةً وَّقَدَّرْنَا فِيْهَا السَّيْرَؕ سِيْرُوْا فِيْهَا لَيَالِيَ وَاَيَّامًا اٰمِنِيْنَ

তাদের জনপদ এবং সেসব জনপদ যেথায় আমি বরকত দিয়ে রেখেছিলাম, সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে বহু দৃশ্যমান জনপদ আবাদ করে রেখেছিলাম এবং সেসব জনপদে ভ্রমণের যথাযথ ব্যবস্থাও করে রেখেছিলাম। (তাদেরকে বলেছিলাম) তোমরা এসব জনপদে রাতে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ করো। (সূরা সাবা- ১৮)

তাদের অধিকাংশই শয়তানের অনুসরণ করল :

وَلَقَدْ صَدَّقَ عَلَيْهِمْ اِبْلِيْسُ ظَنَّهٗ فَاتَّبَعُوْهُ اِلَّا فَرِيْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِيْنَ

ইবলিস বাস্তবিকই তাদের ব্যাপারে তার অনুমান সত্যে পরিণত করল, ফলে মুমিনদের একটি দল ব্যতীত সবাই তার আনুগত্য করল। (সূরা সাবা- ২০)

তারা নিজেদের উপর অবিচার করল :

فَقَالُوْا رَبَّنَا بَاعِدْ بَيْنَ اَسْفَارِنَا وَظَلَمُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ فَجَعَلْنَاهُمْ اَحَادِيْثَ وَمَزَّقْنَاهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

কিন্তু তারা বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দিন। তারা তো নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে ইতিহাসে পরিণত করে দিলাম এবং সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-ভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে রয়েছে দৃষ্টান্ত প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য। (সূরা সাবা- ১৯)

পরে বন্যা দিয়ে আল্লাহ তাদের সবকিছু ধ্বংস করে দিলেন :

فَاَعْرَضُوْا فَاَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ وَبَدَّلْنَاهُمْ بِجَنَّتَيْهِمْ جَنَّتَيْنِ ذَوَاتَيْ اُكُلٍ خَمْطٍ وَّاَثْلٍ وَّشَيْءٍ مِّنْ سِدْرٍ قَلِيْلٍ

অতঃপর তারা নির্দেশ অমান্য করল। ফলে আমি তাদের উপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা প্রবাহিত করলাম এবং তাদের উদ্যানগুলোকে পরিবর্তন করে দিলাম। আর এমন দু’টি উদ্যান যাতে রয়ে গেল বিস্বাদযুক্ত ফলমূল, ঝাউ গাছ, আর সামান্য কুলগাছ। (সূরা সাবা- ১৬)

এটা ছিল তাদের কুফরীর পরিণাম :

ذٰلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِمَا كَفَرُوْاؕ وَهَلْ نُجَازِيْۤ اِلَّا الْكَفُوْرَ

আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম তাদের অকৃতজ্ঞতার দরুন। আর আমি অকৃতজ্ঞদের ছাড়া এমন শাস্তি অন্য কাউকে দেই না। (সূরা সাবা- ১৭)