hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯৩

অধ্যায়- ৯ : অসিয়ত

সম্পদের এক তৃতীয়াংশে অসিয়ত করা যায় :

كُتِبَ عَلَيْكُمْ اِذَا حَضَرَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ اِنْ تَرَكَ خَيْرَانِ الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْاَقْرَبِيْنَ بِالْمَعْرُوْفِۚ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِيْنَ

তোমাদের উপর এ বিধান দেয়া হলো যে, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি কোন ধনসম্পদ রেখে যায়, তাহলে সে যেন ইনসাফের ভিত্তিতে মাতা-পিতা ও আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করে যায়। মুত্তাক্বীদের জন্য এটা কর্তব্য। (সূরা বাক্বারা- ১৮০)

ব্যাখ্যা : অসিয়তের এ নিয়ম প্রবর্তনের কারণ হচ্ছে, মিরাসী আইনের মাধ্যমে যেসব আত্মীয়স্বজন পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোন অংশ পায় না, তাদের মধ্যে যাকে যে পরিমাণ সাহায্য দেয়ার প্রয়োজন উপলব্ধি করা হয়, অসিয়তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন কোন ইয়াতীম নাতি বা নাতনী রয়েছে। মৃত পুত্রের কোন বিধবা স্ত্রী কষ্টে জীবন-যাপন করছে। অথবা কোন ভাই, বোন, ভাবী, ভাইপো, ভাগিনা বা কোন আত্মীয় সাহায্য লাভের মুখাপেক্ষী। এ ক্ষেত্রে অসিয়তের মাধ্যমে তাদের জন্য একটি অংশ সংরক্ষণ করা যেতে পারে। আর যদি আত্মীয়দের মধ্যে এমন কেউ না থাকে, তাহলে অন্যদের জন্য বা কোন জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তির কোন অংশ অসিয়ত করা যেতে পারে। সারকথা হচ্ছে, সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ভাগ বা তার চেয়ে কিছু বেশি অংশের উপর ইসলামী শরীয়াত মিরাসের আইন বলবৎ করেছে, যা শরীয়াতের মনোনীত ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। আর তিন ভাগের এক ভাগ বা তার চেয়ে কিছু কম অংশ বণ্টনের অধিকার মালিককে দেয়া হয়েছে। তবে অসিয়ত যদি এমনভাবে করা হয় যে, এর মাধ্যমে হকদার আত্মীয়দের হক নষ্ট হয়, তাহলে এ ধরনের অসিয়ত বৈধ নয়। আর নিছক হকদারদেরকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তির এমন কোন ঋণের স্বীকৃতি দেয়া, যা সে প্রকৃতপক্ষে নেয়নি অথবা হকদারকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে কোন চালবাজি করা প্রতারণার শামিল। ইসলামী শরীয়াতে এ ধরনের ক্ষতিকর বিষয়সমূহকে কবীরা গোনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

অসিয়ত পরিবর্তন করা গোনাহের কাজ :

فَمَنْ ۢ بَدَّلَهٗ بَعْدَمَا سَمِعَهٗ فَاِنَّمَاۤ اِثْمُهٗ عَلَى الَّذِيْنَ يُبَدِّلُوْنَهٗؕ اِنَّ اللهَ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ

এ বিধান শোনার পর যে ব্যক্তি তা পরিবর্তন করবে, এর পাপ সেই পরিবর্তনকারীদের উপরই বর্তাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সূরা বাক্বারা- ১৮১)

অসিয়তকারী ভুল করলে সংশোধন করে নেয়া যাবে :

فَمَنْ خَافَ مِنْ مُّوْصٍ جَنَفًا اَوْ اِثْمًا فَاَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَاۤ اِثْمَ عَلَيْهِؕ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

আর যদি কেউ অসিয়তকারীর ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব বা পাপের আশঙ্কা করে। অতঃপর তাদের মধ্যে মীমাংসা করে নেয়, তবে তাতে কোন গোনাহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়। (সূরা বাক্বারা- ১৮২)

অসিয়তের সময় সাক্ষী রাখা প্রয়োজন :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ اِذَا حَضَرَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِيْنَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنْكُمْ

হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন (কোনকিছু) অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে। (সূরা মায়েদা- ১০৬)