hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪৯

১৭. দাউদ (আঃ) অধ্যায়- ১ : দাউদ (আঃ) এর পরিচয়

দাউদ (আঃ) ছিলেন বিপুল শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী। বর্তমান ফিলিস্তীনসহ সমগ্র ইরাক ও শাম (সিরিয়া) এলাকায় ছিল তাঁর রাজত্ব। দাউদ (আঃ) ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠস্বরের অধিকারী। তাঁর উপর যাবূর কিতাব অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য লোহাকে মমের মতো ব্যবহার করার মু‘জিযা দান করেন। তাছাড়া তিনি দৈহিক শক্তিমত্তা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞাতেও ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি তালূতের সেনা সদস্য ও অত্যচারী শাসক জালূতকে হত্যা করার মাধ্যমে সর্বপ্রথম লোক সম্মুখে পরিচিতি লাভ করেন। পরে নবুওয়াতের ধারা অনুযায়ী ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন।

দাউদ (আঃ) কে আল্লাহ যাবূর কিতাব দিয়েছিলেন :

وَاٰتَيْنَا دَاوُوْدَ زَبُوْرًا

আমি দাউদকে যাবূর দান করেছিলাম। (সূরা বনী ইসরাঈল– ৫৫)

তিনি জ্ঞানী ও স্পষ্টভাষী ছিলেন :

وَشَدَدْنَا مُلْكَهٗ وَاٰتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ وَفَصْلَ الْخِطَابِ

আর আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে হেকমত ও কথাবার্তায় উত্তম সিদ্ধান্ত দানের যোগ্যতা দান করেছিলাম। (সূরা সোয়াদু ২০)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য জটিল ও অস্পষ্ট হতো না। সমগ্র ভাষণ শোনার পর শ্রোতা এ কথা বলতে পারত না যে, তিনি কী বলতে চান তা বোধগম্য নয়। বরং তিনি যে বিষয়ে কথা বলতেন তার সমস্ত মূল কথাগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতেন এবং মূল বিষয়টি যথাযথভাবে নির্ধারণ করে দিয়ে তার দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়ে দিতেন। কোন ব্যক্তি জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, বিচার-বিবেচনা ও বাক-চাতূর্যের উচ্চতম পর্যায়ে অবস্থান না করলে এ যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না।

দাউদ (আঃ) খুবই শক্তিশালী ও আল্লাহ অভিমুখী ছিলেন :

وَاذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُوْدَ ذَا الْاَيْدِۚ اِنَّهٗۤ اَوَّابٌ

স্মরণ করো, আমার বান্দা দাউদের কথা, যিনি ছিলেন খুবই শক্তিশালী এবং অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। (সূরা সোয়াদু ১৭)

তিনি যুদ্ধের ময়দানে জালূতকে হত্যা করেন :

فَهَزَمُوْهُمْ بِاِذْنِ اللهِ وَقَتَلَ دَاوُوْدُ جَالُوْتَ

অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তারা তাদেরকে (জালূতের সৈন্যদেরকে) পরাজিত করল এবং দাউদ জালূতকে নিহত করল। (সূরা বাক্বারা– ২৫১)

ব্যাখ্যা : দাউদ (আঃ) এ সময় ছিলেন একজন কম বয়সী যুবক। ঘটনাক্রমে তালূতের সেনাবাহিনীতে তিনি এমন এক সময় উপস্থিত হয়েছিলেন, যখন ফিলিস্তিনী সেনাদলের জবরদস্ত পালোয়ান জালূত (জুলিয়েট) বনী ইসরাঈলী সেনাদলকে প্রত্যক্ষ মুকাবিলায় আসার জন্য আহবান জানাচ্ছিল। কিন্তু তখন ইসরাঈলদের মধ্য থেকে একজনও তার সাথে মুকাবিলা করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল না। এ অবস্থা দেখে দাউদ (আঃ) নির্ভয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং জালূতকে হত্যা করলেন। এ ঘটনায় তিনি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠলেন।

আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও বিচক্ষণতা দান করেছিলেন :

وَاٰتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهٗ مِمَّا يَشَآءُ

আল্লাহ দাউদকে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করলেন এবং তাকে ইচ্ছানুযায়ী শিক্ষা দান করলেন। (সূরা বাক্বারা– ২৫১)

দাউদ (আঃ) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন :

يَا دَاوُوْدُ اِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِى الْاَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوٰى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ ۢبِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ

হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছি। অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার–মীমাংসা করতে থাকো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি, হিসাবের দিন ভুলে যাওয়ার কারণে। (সূরা সোয়াদু ২৬)

দাউদ (আঃ) এর জীবনী স্মরণীয় :

وَاذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُوْدَ ذَا الْاَيْدِۚ اِنَّهٗۤ اَوَّابٌ

স্মরণ করুন, আমার বান্দা দাউদের কথা, যিনি ছিলেন খুব শক্তিশালী এবং যিনি ছিলেন অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। (সূরা সোয়াদু ১৭)