১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১২
অধ্যায়- ১৪ : প্রাণীর উপকারিতা
প্রাণীর মধ্যে রয়েছে অগণিত উপকারিতা :
وَلَهُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُؕ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ
তাদের জন্য এগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক উপকারিতা এবং বিভিন্ন ধরনের পানীয়। তবুও কি তারা শুকরিয়া আদায় করবে না? (সূরা ইয়াসীন- ৭৩)
কতক প্রাণী পরিবহনের কাজে লাগে :
وَالَّذِيْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَالْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَ
যিনি সবকিছুর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু, যেন তোমরা তাতে আরোহণ করতে পার। (সূরা যুখরুফ- ১২)
কতক প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় :
اَللهُ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَنْعَامَ لِتَرْكَبُوْا مِنْهَا وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ
আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের উপর আরোহণ করতে পার। আবার কতক রয়েছে যার গোশত তোমরা খাও। (সূরা মু’মিন- ৭৯)
وَالْاَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيْهَا دِفْءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ
তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকার। আর তোমরা তা হতে আহারও করে থাক। (সূরা নাহল- ৫)
প্রাণীর মধ্যে সৌন্দর্য রয়েছে :
وَلَكُمْ فِيْهَا جَمَالٌ حِيْنَ تُرِيْحُوْنَ وَحِيْنَ تَسْرَحُوْنَ
আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে সৌন্দর্য রয়েছে, যখন তোমরা তাদেরকে বিকালে চারণভূমি থেকে নিয়ে আস এবং সকালে তাতে নিয়ে যাও। (সূরা নাহল- ৬)
জন্তুর চামড়াও অনেক কাজে লাগে :
وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ جُلُوْدِ الْاَنْعَامِ بُيُوْتًا تَسْتَخِفُّوْنَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ اِقَامَتِكُمْ وَمِنْ اَصْوَافِهَا وَاَوْبَارِهَا وَاَشْعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّمَتَاعًا اِلٰى حِيْنٍ
আল্লাহ তোমাদের জন্য পশুর চামড়ার মাধ্যমে তাঁবুর ব্যবস্থা করেন, তোমরা তাকে সহজে ব্যবহার কর ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। আর তিনি তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন তাদের পশম, লোম ও কেশ হতে কিছু কালের গৃহসামগ্রী ও ব্যবহার উপকরণ। (সূরা নাহল- ৮০)
আল্লাহ গবাদিপশু থেকে দুধ সরবরাহ করেন :
وَاِنَّ لَكُمْ فِى الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُّسْقِيْكُمْ مِّمَّا فِيْ بُطُوْنِهٖ مِنْ ۢبَيْنِ فَرْثٍ وَّدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشَّارِبِيْنَ
নিশ্চয় তোমাদের জন্য গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। (সূরা নাহল- ৬৬)
মৌমাছি মধু তৈরি করে :
وَاَوْحٰى رَبُّكَ اِلَى النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِيْ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُوْنَ – ثُمَّ كُلِيْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِيْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًاؕ يَخْرُجُ مِنْ ۢبُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِيْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘‘তোমরা গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। অতঃপর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার করো এবং তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো।’’ তার উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে চিমত্মাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল- ৬৮, ৬৯)
আল্লাহ প্রাণীকে মানুষের অনুগত করে দিয়েছেন :
اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَيْدِيْنَاۤ اَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُوْنَ – وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا يَاْكُلُوْنَ
তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার নিজ হাতে সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্য থেকে আমি তাদের জন্য পশু সৃষ্টি করেছি? অতঃপর তারা এগুলোর মালিক হয়েছে। আর আমি এগুলোকে তাদের অনুগত করে দিয়েছি, ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতককে তারা খায়। (সূরা ইয়াসীন- ৭১, ৭২)
ব্যাখ্যা : আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে শুধু মানুষকে স্থলযান, জলযান ও আকাশযান ইত্যাদি সবকিছু পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি বিশাল সমুদ্রে জাহাজ চালনা সম্ভব করেছেন এবং অসংখ্য প্রজাতির জীবজন্তুর মধ্যে এমন কিছু জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেগুলো আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের অধীন হয়ে থাকে। আমরা তাদের পিঠে আরোহণ করে যে দিকে ইচ্ছা নিয়ে যাই। বিবেকসম্পন্ন মানুষ যখনই এসব সওয়ারীর পিঠে আরোহণ করবে তখনই তার হৃদয়-মন কৃতজ্ঞতার আবেগে বলে উঠবে, আমি সেই মহান সত্তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, যিনি আমার জন্য এ সবকিছু অনুগত করে দিয়েছেন।
প্রাণীর মধ্যে তাওহীদের নিদর্শন রয়েছে :
وَمِنْ اٰيَاتِهٖ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيْهِمَا مِنْ دَآبَّةٍ
তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এতোদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলোও। (সূরা শূরা- ২৯)
ব্যাখ্যা : প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, এক ব্যভিচারিণীকে কেবল এ কারণে ক্ষমা করে দেয়া হয় যে, সে যখন একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছিল। পানির পিপাসা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। (এ অবস্থা দেখে) মহিলাটি তার মোজা খুলে ওড়নার সঙ্গে বাঁধল। তারপর (তা কূপে ছেড়ে দিয়ে) পানি উঠিয়ে তাকে পান করাল। এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩২১)
ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, এক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গিয়েছে। কেননা সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু তাকে কোন কিছুই খেতে দিচ্ছিল না, আবার তাকে ছেড়েও দিচ্ছিল না- যাতে সে জমিনের পোকামাকড় ভক্ষণ করতে পারে। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩১৮)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, একদা একটি পিঁপড়া কোন একজন নবীকে কামড় দিলে তিনি উক্ত পিঁপড়ার এলাকা আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন যে, একটি পিঁপড়া তোমায় কামড় দিল, আর তুমি আল্লাহর এমন একদল সৃষ্টিকে পুড়িয়ে দিলে, যারা আল্লাহর তাসবীহ্ তাহ্লীল আদায় করে থাকে।
(সহীহ বুখারী, হা/৩০১৯)
وَلَهُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُؕ اَفَلَا يَشْكُرُوْنَ
তাদের জন্য এগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক উপকারিতা এবং বিভিন্ন ধরনের পানীয়। তবুও কি তারা শুকরিয়া আদায় করবে না? (সূরা ইয়াসীন- ৭৩)
কতক প্রাণী পরিবহনের কাজে লাগে :
وَالَّذِيْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَالْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَ
যিনি সবকিছুর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু, যেন তোমরা তাতে আরোহণ করতে পার। (সূরা যুখরুফ- ১২)
কতক প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় :
اَللهُ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَنْعَامَ لِتَرْكَبُوْا مِنْهَا وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ
আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের উপর আরোহণ করতে পার। আবার কতক রয়েছে যার গোশত তোমরা খাও। (সূরা মু’মিন- ৭৯)
وَالْاَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيْهَا دِفْءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَاْكُلُوْنَ
তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকার। আর তোমরা তা হতে আহারও করে থাক। (সূরা নাহল- ৫)
প্রাণীর মধ্যে সৌন্দর্য রয়েছে :
وَلَكُمْ فِيْهَا جَمَالٌ حِيْنَ تُرِيْحُوْنَ وَحِيْنَ تَسْرَحُوْنَ
আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে সৌন্দর্য রয়েছে, যখন তোমরা তাদেরকে বিকালে চারণভূমি থেকে নিয়ে আস এবং সকালে তাতে নিয়ে যাও। (সূরা নাহল- ৬)
জন্তুর চামড়াও অনেক কাজে লাগে :
وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ جُلُوْدِ الْاَنْعَامِ بُيُوْتًا تَسْتَخِفُّوْنَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ اِقَامَتِكُمْ وَمِنْ اَصْوَافِهَا وَاَوْبَارِهَا وَاَشْعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّمَتَاعًا اِلٰى حِيْنٍ
আল্লাহ তোমাদের জন্য পশুর চামড়ার মাধ্যমে তাঁবুর ব্যবস্থা করেন, তোমরা তাকে সহজে ব্যবহার কর ভ্রমণকালে এবং অবস্থানকালে। আর তিনি তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন তাদের পশম, লোম ও কেশ হতে কিছু কালের গৃহসামগ্রী ও ব্যবহার উপকরণ। (সূরা নাহল- ৮০)
আল্লাহ গবাদিপশু থেকে দুধ সরবরাহ করেন :
وَاِنَّ لَكُمْ فِى الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُّسْقِيْكُمْ مِّمَّا فِيْ بُطُوْنِهٖ مِنْ ۢبَيْنِ فَرْثٍ وَّدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشَّارِبِيْنَ
নিশ্চয় তোমাদের জন্য গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। (সূরা নাহল- ৬৬)
মৌমাছি মধু তৈরি করে :
وَاَوْحٰى رَبُّكَ اِلَى النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِيْ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوْتًا وَّمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُوْنَ – ثُمَّ كُلِيْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِيْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًاؕ يَخْرُجُ مِنْ ۢبُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِيْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘‘তোমরা গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। অতঃপর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার করো এবং তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো।’’ তার উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে চিমত্মাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল- ৬৮, ৬৯)
আল্লাহ প্রাণীকে মানুষের অনুগত করে দিয়েছেন :
اَوَلَمْ يَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَيْدِيْنَاۤ اَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُوْنَ – وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوْبُهُمْ وَمِنْهَا يَاْكُلُوْنَ
তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার নিজ হাতে সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্য থেকে আমি তাদের জন্য পশু সৃষ্টি করেছি? অতঃপর তারা এগুলোর মালিক হয়েছে। আর আমি এগুলোকে তাদের অনুগত করে দিয়েছি, ফলে এদের কতক তাদের বাহন এবং কতককে তারা খায়। (সূরা ইয়াসীন- ৭১, ৭২)
ব্যাখ্যা : আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে শুধু মানুষকে স্থলযান, জলযান ও আকাশযান ইত্যাদি সবকিছু পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি বিশাল সমুদ্রে জাহাজ চালনা সম্ভব করেছেন এবং অসংখ্য প্রজাতির জীবজন্তুর মধ্যে এমন কিছু জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেগুলো আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের অধীন হয়ে থাকে। আমরা তাদের পিঠে আরোহণ করে যে দিকে ইচ্ছা নিয়ে যাই। বিবেকসম্পন্ন মানুষ যখনই এসব সওয়ারীর পিঠে আরোহণ করবে তখনই তার হৃদয়-মন কৃতজ্ঞতার আবেগে বলে উঠবে, আমি সেই মহান সত্তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, যিনি আমার জন্য এ সবকিছু অনুগত করে দিয়েছেন।
প্রাণীর মধ্যে তাওহীদের নিদর্শন রয়েছে :
وَمِنْ اٰيَاتِهٖ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيْهِمَا مِنْ دَآبَّةٍ
তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এতোদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলোও। (সূরা শূরা- ২৯)
ব্যাখ্যা : প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি দেখাতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, এক ব্যভিচারিণীকে কেবল এ কারণে ক্ষমা করে দেয়া হয় যে, সে যখন একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে কুকুরটি একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছিল। পানির পিপাসা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। (এ অবস্থা দেখে) মহিলাটি তার মোজা খুলে ওড়নার সঙ্গে বাঁধল। তারপর (তা কূপে ছেড়ে দিয়ে) পানি উঠিয়ে তাকে পান করাল। এ কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩২১)
ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, এক মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গিয়েছে। কেননা সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু তাকে কোন কিছুই খেতে দিচ্ছিল না, আবার তাকে ছেড়েও দিচ্ছিল না- যাতে সে জমিনের পোকামাকড় ভক্ষণ করতে পারে। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩১৮)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, একদা একটি পিঁপড়া কোন একজন নবীকে কামড় দিলে তিনি উক্ত পিঁপড়ার এলাকা আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন যে, একটি পিঁপড়া তোমায় কামড় দিল, আর তুমি আল্লাহর এমন একদল সৃষ্টিকে পুড়িয়ে দিলে, যারা আল্লাহর তাসবীহ্ তাহ্লীল আদায় করে থাকে।
(সহীহ বুখারী, হা/৩০১৯)