hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮৯

অধ্যায়- ৫ : আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার

সকল প্রকার আত্মীয়ের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে :

وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا وَّبِالْوَالِدَيْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْجَارِ ذِى الْقُرْبٰى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْۢبِ وَابْنِ السَّبِيْلِ وَمَا مَلَكَتْ اَيْمَانُكُمْؕ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرًا

তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে, কোনকিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা- ৩৬)

আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার না করার শপথ করা ঠিক নয় :

وَلَا يَأْتَلِ اُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ اَنْ يُّؤْتُوْاۤ اُولِى الْقُرْبٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَالْمُهَاجِرِيْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَلْيَعْفُوْا وَلْيَصْفَحُوْاۤ اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ يَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন এ মর্মে শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়স্বজন ও অভাবগ্রস্তদেরকে এবং আল্লাহর রাস্তায় হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নূর- ২২)

শানে নুযূল : ইফ্কের ঘটনায় আয়েশা (রাঃ) নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর আবু বকর (রাঃ) ও আরো কতিপয় সাহাবী ভীষণভাবে রাগান্বিত হয়ে শপথ করে বললেন যে, যারা এ অপবাদ রটনায় যোগ দিয়েছে, তাদেরকে আর কোন আর্থিক সাহায্য করা হবে না। এদের মধ্যে কেউ কেউ অভাবগ্রস্তও ছিল। তখন আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াতে তাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে আর্থিক সাহায্য করার নির্দেশ প্রদান করেন।

আত্মীয়স্বজনদের জন্য মাল খরচ করতে হবে :

وَاٰتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهٗ وَالْمِسْكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ

আত্মীয়স্বজনকে তার হক আদায় করে দেবে এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও (তাদের হক আদায় করে দেবে)। (সূরা বনী ইসরাঈল- ২৬)

ব্যাখ্যা : আত্মীয়স্বজন, মিসকীন ও মুসাফিরকে দান-খয়রাত করার কথা বলা হয়নি; বরং বলা হয়েছে, এটা তাদের অধিকার মনে করেই দেয়া উচিত। এ অধিকার দিতে গিয়ে যেন তোমার মনে এ ধারণা না জন্মে যে, তার প্রতি তুমি অনুগ্রহ করছ; বরং এ কথা ভালোভাবে মনে রাখা উচিত যে, সম্পদের আসল মালিক যদি তোমাকে বেশি এবং অন্য বান্দাদেরকে কম দিয়ে থাকেন, তাহলে এ বর্ধিত সম্পদ তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়েছে। তুমি অন্যদের অধিকার আদায় করছ কি না এটা তোমার প্রতিপালক দেখতে চান।

فَاٰتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهٗ وَالْمِسْكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِؕ ذٰلِكَ خَيْرٌ لِّلَّذِيْنَ يُرِيْدُوْنَ وَجْهَ اللهِ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরদেরকেও (তাদের হক দিয়ে দাও)। এটা তাদের জন্য উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে; আর তারাই সফলকাম। (সূরা রূম- ৩৮)

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না :

وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِيْ تَسَآءَلُوْنَ بِهٖ وَالْاَرْحَامَؕ اِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْبًا

তোমরা ঐ আল্লাহকে ভয় করো, যার অসীলা নিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও; আর তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ককেও ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী। (সূরা নিসা- ১)

সম্পর্ক রক্ষা করা জান্নাতী লোকদের বৈশিষ্ট্য :

وَالَّذِيْنَ يَصِلُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللهُ بِهٖۤ اَنْ يُّوْصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُوْنَ سُوْٓءَ الْحِسَابِ

আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুণ্ণ রাখে, তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবকেও ভয় করে (তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত)। (সূরা রা‘দ- ২১)