১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫০৬
অধ্যায়- ১১ : অন্যান্য ভাইদের মিসরে গমন
অনেক দিন পর ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ হলো :
وَجَآءَ اِخْوَةُ يُوْسُفَ فَدَخَلُوْا عَلَيْهِ فَعَرَفَهُمْ وَهُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَ
অতঃপর ইউসুফের ভাইয়েরা আসল এবং তার নিকট উপস্থিত হলো। সে তাদেরকে চিনল, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারল না। (সূরা ইউসুফু ৫৮)
ইউসুফ (আঃ) পরবর্তীতে তাদের ছোট ভাইকে সাথে আনতে বললেন :
وَلَمَّا جَهَّزَهُمْ بِجَهَازِهِمْ قَالَ ائْتُوْنِيْ بِاَخٍ لَّكُمْ مِّنْ اَبِيْكُمْۚ اَلَا تَرَوْنَ اَنِّى اُوْفِى الْكَيْلَ وَاَنَاْ خَيْرُ الْمُنْزِلِيْنَ ‐ فَاِنْ لَّمْ تَأْتُوْنِيْ بِهٖ فَلَا كَيْلَ لَكُمْ عِنْدِيْ وَلَا تَقْرَبُوْنِ
সে যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন বলল, তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইটিকে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ। কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার নিকট নিয়ে না আস, তবে আমার নিকট তোমাদের জন্য কোন বরাদ্দ থাকবে না এবং তোমরা আমার নিকটবর্তীও হতে পারবে না। (সূরা ইউসুফু ৫৯, ৬০)
ভাইয়েরা বেনইয়ামিনকে আনার আশ্বাস দিল :
قَالُوْا سَنُرَاوِدُ عَنْهُ اَبَاهُ وَاِنَّا لَفَاعِلُوْنَ
তারা বলল, তার বিষয়ে আমরা তার পিতাকে রাজি করার চেষ্টা করব এবং নিশ্চয় আমরা এটা করব।
(সূরা ইউসুফু ৬১)
ইউসুফ (আঃ) গোপনে খাদ্যের মূল্য ফেরত দিলেন :
وَقَالَ لِفِتْيَانِهِ اجْعَلُوْا بِضَاعَتَهُمْ فِيْ رِحَالِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَعْرِفُوْنَهَاۤ اِذَا انْقَلَبُوْاۤ اِلٰۤى اَهْلِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ
ইউসুফ তার কর্মচারীদেরকে বলল, তারা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর তারা তা চিনতে পারে। তাহলে তারা পুনরায় আসতে পারে। (সূরা ইউসুফু ৬২)
ভাইয়েরা বাড়িতে এসে পিতাকে বুঝাল :
فَلَمَّا رَجَعُوْاۤ اِلٰۤى اَبِيْهِمْ قَالُوْا يَاۤ اَبَانَا مُنِعَ مِنَّا الْكَيْلُ فَاَرْسِلْ مَعَنَاۤ اَخَانَا نَكْتَلْ وَاِنَّا لَهٗ لَحَافِظُوْنَ
অতঃপর তারা যখন তাদের পিতার নিকট ফিরে আসল তখন তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা রসদ পেতে পারি। অবশ্যই আমরা তার রক্ষণাবেক্ষণ করব। (সূরা ইউসুফু ৬৩)
পিতা ইউসুফের ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিলেন :
قَالَ هَلْ اٰمَنُكُمْ عَلَيْهِ اِلَّا كَمَاۤ اَمِنْتُكُمْ عَلٰۤى اَخِيْهِ مِنْ قَبْلُؕ فَاللهُ خَيْرٌ حَافِظًا۪ وَهُوَ اَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ
সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে সেরূপ বিশ্বাস করব, যেরূপ আমি ইতোপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে তোমাদেরকে বিশবাস করেছিলাম? রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা ইউসুফু ৬৪)
তারা বার বার পিতাকে বুঝাতে চেষ্টা করল :
وَلَمَّا فَتَحُوْا مَتَاعَهُمْ وَجَدُوْا بِضَاعَتَهُمْ رُدَّتْ اِلَيْهِمْؕ قَالُوْا يَاۤ اَبَانَا مَا نَبْغِيْؕ هٰذِهٖ بِضَاعَتُنَا رُدَّتْ اِلَيْنَاۚ وَنَمِيْرُ اَهْلَنَا وَنَحْفَظُ اَخَانَا وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيْرٍؕ ذٰلِكَ كَيْلٌ يَّسِيْرٌ
যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল তখন তারা দেখতে পেল যে, তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। তখন তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমরা আর কী প্রত্যাশা করতে পারি? এটা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, যা আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য সামগ্রী এনে দেব এবং আমরা আমাদের ভাইদের রক্ষণাবেক্ষণ করব। তাছাড়া আমরা অতিরিক্ত আরো এক উষ্ট্র বোঝাই পণ্য পাব; যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প। (সূরা ইউসুফু ৬৫)
পিতা প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজী হয়ে গেলেন :
قَالَ لَنْ اُرْسِلَهٗ مَعَكُمْ حَتّٰى تُؤْتُوْنِ مَوْثِقًا مِّنَ اللهِ لَتَأْتُنَّنِيْ بِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ يُّحَاطَ بِكُمْۚ فَلَمَّاۤ اٰتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللهُ عَلٰى مَا نَقُوْلُ وَكِيْلٌ
পিতা বলল, আমি তাকে কখনই তোমাদের সাথে পাঠাব না যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো যে, তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হয়ে না পড়। অতঃপর যখন তারা তার নিকট প্রতিজ্ঞা করল তখন সে বলল, আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার কর্মবিধায়ক। (সূরা ইউসুফু ৬৬)
পথ চলার ব্যাপারে উপদেশ দিলেন :
وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوْا مِنْ ۢبَابٍ وَّاحِدٍ وَّادْخُلُوْا مِنْ اَبْوَابٍ مُّتَفَرِّقَةٍؕ وَمَاۤ اُغْنِيْ عَنْكُمْ مِّنَ اللهِ مِنْ شَيْءٍؕ اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُۚ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُوْنَ
সে বলল, হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারি না। বিধান দেয়ার ক্ষমতা আল্লাহরই, সুতরাং আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি। আর যারা নির্ভর করতে চায় তারা আল্লাহর উপরই নির্ভর করুক। (সূরা ইউসুফু ৬৭)
ব্যাখ্যা : ইউসুফ (আঃ) এর পর তার ভাইকে পাঠানোর সময় ইয়াকূব (আঃ) এর মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। যদিও আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা ছিল এবং ধৈর্য ও আত্মসমর্পণের দিক দিয়েও তাঁর স্থান ছিল উঁচু, তবুও নিজের সাধ্যমতো সতর্কতা অবলম্বন করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করেননি। তিনি সে সময়ের রাজনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করেই সকল ভাইকে এক দরজা দিয়ে মিসরের রাজধানীতে প্রবেশ না করার সতর্কতামূলক এ উপদেশটি দিয়েছিলেন। ইয়াকূব (আঃ) এর মনে আশঙ্কা জেগেছিল যে, এ দুর্ভিক্ষের দিনে যদি তারা দলবদ্ধ হয়ে সেখানে প্রবেশ করে তাহলে হয়তো তাদেরকে সন্দেহভাজন মনে করা হবে এবং ধারণা করা হবে, এখানে তারা লুটপাট করতে এসেছে। ইয়াকূব (আঃ) কৌশল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার মধ্যে এক যথাযথ ভারসাম্য স্থাপন করেছেন। তদানীন্তন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করার প্রয়োজন অনুভূত হয় তা অবলম্বন করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেন, যাতে নিজেদের সাধ্যমতো ব্যবস্থাপনার মধ্যে এমন কোন ত্রুটি না থাকে, যার ফলে তারা গ্রেফতার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে প্রতি মুহূর্তে এ কথা তাঁর সামনে আসছে এবং তিনি বার বার এ কথাও প্রকাশ করেন যে, আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথে কোন মানবীয় কৌশল বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। আল্লাহর হেফাজতই আসল হেফাজত এবং নিজের কৌশল ও ব্যবস্থাপনার উপর ভরসা না করে আল্লাহর অনুগ্রহের উপর ভরসা করা উচিত। এ কথাটিই অধিকাংশ লোক জানে না। তারা আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা থেকে বিমুখ হয়ে কৌশল ও ব্যবস্থা অবলম্বনকে সবকিছু মনে করে বসে।
আল্লাহ ইয়াকূব (আঃ) কে অনেক জ্ঞান দিয়েছিলেন :
وَلَمَّا دَخَلُوْا مِنْ حَيْثُ اَمَرَهُمْ اَبُوْهُمْؕ مَا كَانَ يُغْنِيْ عَنْهُمْ مِّنَ اللهِ مِنْ شَيْءٍ اِلَّا حَاجَةً فِيْ نَفْسِ يَعْقُوْبَ قَضَاهَاؕ وَاِنَّهٗ لَذُوْ عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ
যখন তারা তাদের পিতা যেভাবে আদেশ করেছিল সেভাবেই প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের কোন কাজে আসল না। ইয়াকূব কেবল তার মনের একটি অভিপ্রায় পূর্ণ করেছিল। নিশ্চয় সে জ্ঞানী ছিল, কারণ আমিই তো তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (সূরা ইউসুফু ৬৮)
وَجَآءَ اِخْوَةُ يُوْسُفَ فَدَخَلُوْا عَلَيْهِ فَعَرَفَهُمْ وَهُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَ
অতঃপর ইউসুফের ভাইয়েরা আসল এবং তার নিকট উপস্থিত হলো। সে তাদেরকে চিনল, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারল না। (সূরা ইউসুফু ৫৮)
ইউসুফ (আঃ) পরবর্তীতে তাদের ছোট ভাইকে সাথে আনতে বললেন :
وَلَمَّا جَهَّزَهُمْ بِجَهَازِهِمْ قَالَ ائْتُوْنِيْ بِاَخٍ لَّكُمْ مِّنْ اَبِيْكُمْۚ اَلَا تَرَوْنَ اَنِّى اُوْفِى الْكَيْلَ وَاَنَاْ خَيْرُ الْمُنْزِلِيْنَ ‐ فَاِنْ لَّمْ تَأْتُوْنِيْ بِهٖ فَلَا كَيْلَ لَكُمْ عِنْدِيْ وَلَا تَقْرَبُوْنِ
সে যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন বলল, তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইটিকে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ। কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার নিকট নিয়ে না আস, তবে আমার নিকট তোমাদের জন্য কোন বরাদ্দ থাকবে না এবং তোমরা আমার নিকটবর্তীও হতে পারবে না। (সূরা ইউসুফু ৫৯, ৬০)
ভাইয়েরা বেনইয়ামিনকে আনার আশ্বাস দিল :
قَالُوْا سَنُرَاوِدُ عَنْهُ اَبَاهُ وَاِنَّا لَفَاعِلُوْنَ
তারা বলল, তার বিষয়ে আমরা তার পিতাকে রাজি করার চেষ্টা করব এবং নিশ্চয় আমরা এটা করব।
(সূরা ইউসুফু ৬১)
ইউসুফ (আঃ) গোপনে খাদ্যের মূল্য ফেরত দিলেন :
وَقَالَ لِفِتْيَانِهِ اجْعَلُوْا بِضَاعَتَهُمْ فِيْ رِحَالِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَعْرِفُوْنَهَاۤ اِذَا انْقَلَبُوْاۤ اِلٰۤى اَهْلِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ
ইউসুফ তার কর্মচারীদেরকে বলল, তারা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর তারা তা চিনতে পারে। তাহলে তারা পুনরায় আসতে পারে। (সূরা ইউসুফু ৬২)
ভাইয়েরা বাড়িতে এসে পিতাকে বুঝাল :
فَلَمَّا رَجَعُوْاۤ اِلٰۤى اَبِيْهِمْ قَالُوْا يَاۤ اَبَانَا مُنِعَ مِنَّا الْكَيْلُ فَاَرْسِلْ مَعَنَاۤ اَخَانَا نَكْتَلْ وَاِنَّا لَهٗ لَحَافِظُوْنَ
অতঃপর তারা যখন তাদের পিতার নিকট ফিরে আসল তখন তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা রসদ পেতে পারি। অবশ্যই আমরা তার রক্ষণাবেক্ষণ করব। (সূরা ইউসুফু ৬৩)
পিতা ইউসুফের ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিলেন :
قَالَ هَلْ اٰمَنُكُمْ عَلَيْهِ اِلَّا كَمَاۤ اَمِنْتُكُمْ عَلٰۤى اَخِيْهِ مِنْ قَبْلُؕ فَاللهُ خَيْرٌ حَافِظًا۪ وَهُوَ اَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ
সে বলল, আমি কি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে সেরূপ বিশ্বাস করব, যেরূপ আমি ইতোপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে তোমাদেরকে বিশবাস করেছিলাম? রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা ইউসুফু ৬৪)
তারা বার বার পিতাকে বুঝাতে চেষ্টা করল :
وَلَمَّا فَتَحُوْا مَتَاعَهُمْ وَجَدُوْا بِضَاعَتَهُمْ رُدَّتْ اِلَيْهِمْؕ قَالُوْا يَاۤ اَبَانَا مَا نَبْغِيْؕ هٰذِهٖ بِضَاعَتُنَا رُدَّتْ اِلَيْنَاۚ وَنَمِيْرُ اَهْلَنَا وَنَحْفَظُ اَخَانَا وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيْرٍؕ ذٰلِكَ كَيْلٌ يَّسِيْرٌ
যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল তখন তারা দেখতে পেল যে, তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। তখন তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমরা আর কী প্রত্যাশা করতে পারি? এটা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, যা আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য সামগ্রী এনে দেব এবং আমরা আমাদের ভাইদের রক্ষণাবেক্ষণ করব। তাছাড়া আমরা অতিরিক্ত আরো এক উষ্ট্র বোঝাই পণ্য পাব; যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প। (সূরা ইউসুফু ৬৫)
পিতা প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজী হয়ে গেলেন :
قَالَ لَنْ اُرْسِلَهٗ مَعَكُمْ حَتّٰى تُؤْتُوْنِ مَوْثِقًا مِّنَ اللهِ لَتَأْتُنَّنِيْ بِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ يُّحَاطَ بِكُمْۚ فَلَمَّاۤ اٰتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللهُ عَلٰى مَا نَقُوْلُ وَكِيْلٌ
পিতা বলল, আমি তাকে কখনই তোমাদের সাথে পাঠাব না যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো যে, তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হয়ে না পড়। অতঃপর যখন তারা তার নিকট প্রতিজ্ঞা করল তখন সে বলল, আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার কর্মবিধায়ক। (সূরা ইউসুফু ৬৬)
পথ চলার ব্যাপারে উপদেশ দিলেন :
وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوْا مِنْ ۢبَابٍ وَّاحِدٍ وَّادْخُلُوْا مِنْ اَبْوَابٍ مُّتَفَرِّقَةٍؕ وَمَاۤ اُغْنِيْ عَنْكُمْ مِّنَ اللهِ مِنْ شَيْءٍؕ اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُۚ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُوْنَ
সে বলল, হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারি না। বিধান দেয়ার ক্ষমতা আল্লাহরই, সুতরাং আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি। আর যারা নির্ভর করতে চায় তারা আল্লাহর উপরই নির্ভর করুক। (সূরা ইউসুফু ৬৭)
ব্যাখ্যা : ইউসুফ (আঃ) এর পর তার ভাইকে পাঠানোর সময় ইয়াকূব (আঃ) এর মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। যদিও আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা ছিল এবং ধৈর্য ও আত্মসমর্পণের দিক দিয়েও তাঁর স্থান ছিল উঁচু, তবুও নিজের সাধ্যমতো সতর্কতা অবলম্বন করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করেননি। তিনি সে সময়ের রাজনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করেই সকল ভাইকে এক দরজা দিয়ে মিসরের রাজধানীতে প্রবেশ না করার সতর্কতামূলক এ উপদেশটি দিয়েছিলেন। ইয়াকূব (আঃ) এর মনে আশঙ্কা জেগেছিল যে, এ দুর্ভিক্ষের দিনে যদি তারা দলবদ্ধ হয়ে সেখানে প্রবেশ করে তাহলে হয়তো তাদেরকে সন্দেহভাজন মনে করা হবে এবং ধারণা করা হবে, এখানে তারা লুটপাট করতে এসেছে। ইয়াকূব (আঃ) কৌশল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার মধ্যে এক যথাযথ ভারসাম্য স্থাপন করেছেন। তদানীন্তন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করার প্রয়োজন অনুভূত হয় তা অবলম্বন করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেন, যাতে নিজেদের সাধ্যমতো ব্যবস্থাপনার মধ্যে এমন কোন ত্রুটি না থাকে, যার ফলে তারা গ্রেফতার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে প্রতি মুহূর্তে এ কথা তাঁর সামনে আসছে এবং তিনি বার বার এ কথাও প্রকাশ করেন যে, আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়নের পথে কোন মানবীয় কৌশল বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। আল্লাহর হেফাজতই আসল হেফাজত এবং নিজের কৌশল ও ব্যবস্থাপনার উপর ভরসা না করে আল্লাহর অনুগ্রহের উপর ভরসা করা উচিত। এ কথাটিই অধিকাংশ লোক জানে না। তারা আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা থেকে বিমুখ হয়ে কৌশল ও ব্যবস্থা অবলম্বনকে সবকিছু মনে করে বসে।
আল্লাহ ইয়াকূব (আঃ) কে অনেক জ্ঞান দিয়েছিলেন :
وَلَمَّا دَخَلُوْا مِنْ حَيْثُ اَمَرَهُمْ اَبُوْهُمْؕ مَا كَانَ يُغْنِيْ عَنْهُمْ مِّنَ اللهِ مِنْ شَيْءٍ اِلَّا حَاجَةً فِيْ نَفْسِ يَعْقُوْبَ قَضَاهَاؕ وَاِنَّهٗ لَذُوْ عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ
যখন তারা তাদের পিতা যেভাবে আদেশ করেছিল সেভাবেই প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের কোন কাজে আসল না। ইয়াকূব কেবল তার মনের একটি অভিপ্রায় পূর্ণ করেছিল। নিশ্চয় সে জ্ঞানী ছিল, কারণ আমিই তো তাকে শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (সূরা ইউসুফু ৬৮)