hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮০

অধ্যায়- ৮ : মুহাম্মাদ ﷺ এর মে‘রাজ

আল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ কে মে‘রাজ করিয়েছেন :

سُبْحَانَ الَّذِيْۤ اَسْرٰى بِعَبْدِه لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ اِلَى الْمَسْجِدِ الْاَقْصَى الَّذِيْ بَارَكْنَا حَوْلَهٗ لِنُرِيَهٗ مِنْ اٰيَاتِنَاؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيْعُ الْبَصِيْرُ

পবিত্র ও মহিমাময় ঐ সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীযোগে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম হতে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে আমি বরকতময় করে দিয়েছিলাম, যাতে আমি আমার নিদর্শনগুলো তাকে (ভালোভাবে) দেখাতে পারি। আর তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। (সূরা বনী ইসরাঈল- ১)

ব্যাখ্যা : মে‘রাজের সারসংক্ষেপ হচ্ছে, এক রাতে জিবরাঈল (আঃ) নবী ﷺ কে উঠিয়ে বোরাকের পিঠে চড়িয়ে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নিয়ে যান। তারপর জিবরাঈল (আঃ) তাঁকে ঊর্ধবজগতে নিয়ে যান এবং সেখানে আকাশের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন মর্যাদাশীল নবীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। অবশেষে তিনি উচ্চতার সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছেন এবং আল্লাহর সাথে কথা বলেন। এ সময় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ছাড়াও তাঁকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হয়। এরপর তিনি আবার বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে আসেন। সেখান থেকে মসজিদে হারামে ফিরে আসেন। মে‘রাজের ব্যাপারে যে আসল কথাটি বুঝে নিতে হবে সেটি হচ্ছে, মহান আল্লাহ নবীদের মধ্য থেকে প্রত্যেককে তাঁদের পদমর্যাদানুসারে পৃথিবী ও আকাশের অদৃশ্য রাজত্ব দেখিয়ে দিয়েছেন। বস্তুজগতের অন্তরাল সরিয়ে এমনসব জিনিস দেখিয়েছেন, যেগুলোর উপর ঈমান আনার জন্য তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। মুহাম্মাদ ﷺ এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আল্লাহ তা‘আলা অদৃশ্য জগতের কিছু বিষয় তাকে দেখানোর জন্য মে‘রাজ সংঘটিত করেছিলেন।

তিনি আল্লাহর বড় বড় নিদর্শনসমূহ দেখেছেন :

مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغٰى – لَقَدْ رَاٰى مِنْ اٰيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرٰى

তার দৃষ্টি ভ্রষ্ট হয়নি এবং দৃষ্টি সীমালঙ্ঘনও করেনি। অবশ্যই তিনি তাঁর প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলি দেখেছিলেন। (সূরা নাজম- ১৭, ১৮)